ফেব্রুয়ারিতে রেকর্ড ১০০টি জাহাজের আগমন

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

বাংলাদেশের দ্বিতীয় সমুদ্রবন্দর মোংলা। গত দশকে বন্দরের কার্যক্রম কিছুটা স্তিমিত থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে তা আবার চাঙ্গা হতে শুরু করেছে। বন্দরের উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ চলমান থাকায় এর সক্ষমতা বাড়ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে বিদেশী জাহাজের আগমনের সংখ্যা। ফেব্রুয়ারিতে এক মাসেই মোংলা বন্দরে ১০০টি জাহাজ ভিড়েছে, যা বন্দরের ৬৯ বছরের ইতিহাসে একটি রেকর্ড।

এর আগে কখনই মোংলা বন্দরে জাহাজ আগমনের সংখ্যা তিন অংকে পৌঁছায়নি। সর্বশেষ রেকর্ড হয়েছিল গত নভেম্বরে। ওই মাসে বন্দরে ৯১টি জাহাজ নোঙর করেছিল। পরের দুই মাসে জাহাজ ভিড়েছিল যথাক্রমে ৮২টি ও ৮৭টি।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমডোর একেএম ফারুক হাসান বলেন, ২০০১-০৫ মেয়াদে যেখানে বছরে মাত্র ৭০ থেকে ৮০টি জাহাজ বন্দরে আসত, সেখানে এখন প্রতি মাসে জাহাজ আগমনের সংখ্যাই তা ছাড়িয়ে গেছে। গত মাসে তো ১০০টি জাহাজ বন্দরে নোঙর করেছে। এমন ঘটনা মোংলা বন্দরের ইতিহাসে এই প্রথম। আমরা আশা করছি, পদ্মা সেতু, মোংলা-খুলনা রেললাইন, রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র ও খানজাহান আলী বিমানবন্দরের কাজ সম্পন্ন হলে মোংলা বন্দরে জাহাজের আগমন আরো বেড়ে যাবে।

তিনি জানান, বুধবার একনেকে মোংলা বন্দরের উন্নয়নে ৪৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭৫টি কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং মেশিনারি ক্রয়ের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। পদ্মা সেতু চালু হলে মোংলা বন্দরের ওপর চাপ বাড়বে। এজন্য এখন থেকেই বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, মোংলায় পাঁচ অর্থবছরের ব্যবধানে জাহাজ আগমন বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। ২০১২-১৩ অর্থবছরে বন্দরে বিদেশী জাহাজ এসেছিল ২৮২টি। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৬২৩টি। আর ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বন্দরে জাহাজ আসে ৭৮৪টি।

সরকার মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বন্দরের উন্নয়নে এরই মধ্যে ১০টি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে সাতটি প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। গৃহীত ১০টি প্রকল্প হলো: পশুর চ্যানেলের রামপাল পর্যন্ত ড্রেজিং, রুজভেল্ট জেটির অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ভেসেল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম (ভিটিএম আইএস), আউটারবারে ড্রেজিং, টাগবোট সংগ্রহ, সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট, মোবাইল হারবার ক্রেন সংগ্রহ, স্ট্র্যাটেজিক মাস্টার প্ল্যান, হারবার চ্যানেলের ফুড সাইলো এলাকায় ড্রেজিং ও দুটি অসম্পূর্ণ জেটি নির্মাণ।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমডোর একেএম ফারুক হাসান বলেন, আমদানি-রফতানিতে আশা সঞ্চার করলেও মোংলা বন্দরে এখনো কিছু সমস্যা রয়ে গেছে। চট্টগ্রাম বন্দরের তুলনায় এ পথে কনটেইনার পরিবহনে খরচ বেশি। এছাড়া নাব্য সংকটের কারণে আশানুরূপ পরিমাণে জাহাজ ভিড়তে পারে না। এসব সমস্যা সমাধানে ১০টি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সাতটি প্রকল্পের কাজ চলমান। জটিলতা দূর হলে বন্দরে আমদানি-রফতানি আরো বাড়বে। ফলে জাহাজের আগমনও বেড়ে যাবে। তিনি আরো জানান, বন্দরের উন্নয়নে ভারত ও চীনের অর্থায়নে একাধিক প্রকল্প চলমান। প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন শেষ হলে বন্দর গতিশীল হবে। সরকার সার্বিক বিষয় নিয়মিত মনিটরিং করছে বলে জানান তিনি।