২০১৮-১৯ মৌসুম : খরা ছাপিয়ে ভারতে রেকর্ড চাল উৎপাদনের সম্ভাবনা

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

খরার প্রকোপ কাটিয়ে ২০১৮-১৯ মৌসুমে ভারতে রেকর্ড পরিমাণ চাল উৎপাদনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দেশটির কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খারিফ মৌসুমে বৃষ্টি হওয়ায় ভারতের চাল উৎপাদন খাত খরার প্রকোপ এড়াতে সক্ষম হয়েছে। তবে ২০১৮-১৯ মৌসুমে দেশটিতে চাল বাদে অন্যান্য শস্য উৎপাদনে খরার প্রভাব পড়তে পারে। মূলত এবারের শীত মৌসুমে মহারাষ্ট্রসহ আশপাশের রাজ্যগুলো তীব্র খরার কবলে পড়ায় ধান-চালসহ সব ধরনের শস্য উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে চলতি বছরের শুরুতে এসে খরা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। খবর বিজনেস লাইন ও ইকোনমিক টাইমস।

ভারতের কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রণালয় প্রতি মৌসুমে তিন মাস অন্তর শস্য উৎপাদনের প্রাক্কলন সংবলিত চারটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রোগবালাইসহ কৃষি খাতের সর্বশেষ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এসব প্রতিবেদনে শস্য উৎপাদনের প্রাক্কলন করা হয়। সম্প্রতি ২০১৮-১৯ মৌসুমের দ্বিতীয় প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে। সেকেন্ড অ্যাডভান্স এস্টিমেট ২০১৮-১৯ শীর্ষক এ প্রতিবেদনে এবারের মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ চাল উৎপাদনের প্রাক্কলন করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রণালয়। প্রতিবেদনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ মৌসুমে ভারতে সব মিলিয়ে ১১ কোটি ৫৬ লাখ টন চাল উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে, যা আগের মৌসুমের একই প্রতিবেদনের তুলনায় ২ দশমিক ৩৮ শতাংশ বেশি। ২০১৭-১৮ মৌসুমের দ্বিতীয় প্রতিবেদনে ওই মৌসুমে মোট ১১ কোটি ১০ লাখ ১০ হাজার টন চাল উৎপাদনের পূর্বাভাস দিয়েছিল ভারতের কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রণালয়। সেই হিসাবে, এবারের মৌসুমে ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি চাল উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ চাল উৎপাদনকারী দেশ। অন্যদিকে চাল রফতানিকারক দেশগুলোর বৈশ্বিক শীর্ষ তালিকায় ভারত দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। দেশটিতে এবারের খারিফ মৌসুমে শস্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় বৃষ্টির দেখা মিলেছে। এ কারণে খরার প্রকোপ এড়াতে পেরেছে ভারতীয় চাল উৎপাদনকারীরা। এর প্রভাব পড়ছে ধান-চাল উৎপাদনে। অনুকূল আবহাওয়ায় ধানের বাম্পার ফলনের জের ধরে এবারের মৌসুমে ভারতের ইতিহাসে চাল উৎপাদনও সর্বোচ্চে পৌঁছে যেতে পারে। এ সম্ভাবনার সত্যতা মিলেছে মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ফরেন এগ্রিকালচারাল সার্ভিসের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১০-১১ মৌসুমে ভারতে চাল উৎপাদন প্রথমবারের মতো ১০ কোটি টনের মাইলফলক পেরিয়ে যায়। ওই মৌসুমে দেশটিতে ১০ কোটি ৫৩ লাখ টন চাল উৎপাদন হয়েছিল। প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় ২০১৬-১৭ মৌসুমে দেশটিতে সব মিলিয়ে ১১ কোটি ২৯ লাখ ১০ হাজার টন চাল উৎপাদন হয়েছিল। ভারতের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত এটাই চাল উৎপাদনের সর্বোচ্চ রেকর্ড। সেই হিসাবে, ২০১৮-১৯ মৌসুমে মোট ১১ কোটি ৫৬ লাখ টন চাল উৎপাদন হলে সেটি হবে ভারতের ইতিহাসে রেকর্ড সর্বোচ্চ।

তবে ২০১৮-১৯ মৌসুমে চাল উৎপাদনে প্রবৃদ্ধি বজায় থাকলেও মহারাষ্ট্রসহ আশপাশের রাজ্যগুলোয় খরার কারণে ভারতে গম, ভুট্টাসহ অন্যান্য খাদ্যশস্য উৎপাদনে মন্দাভাব বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। দেশটির কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ মৌসুমে বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ গম উৎপাদনকারী দেশ ভারতে কৃষিপণ্যটির সম্মিলিত উৎপাদন দাঁড়াতে পারে ৯ কোটি ৯১ লাখ ২০ হাজার টনে। আগের মৌসুমে দেশটিতে ৯ কোটি ৯৭ লাখ টন গম উৎপাদন হয়েছিল। অন্যদিকে ভুট্টা উৎপাদনকারী শীর্ষ দেশগুলোর বৈশ্বিক তালিকায় ভারত সপ্তম অবস্থানে রয়েছে। ২০১৮-১৯ মৌসুমে দেশটিতে সব মিলিয়ে ২ কোটি ৭৮ লাখ টন ভুট্টা উৎপাদন হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রণালয়। আগের মৌসুমের একই প্রতিবেদনে দেশটিতে ২ কোটি ৭১ লাখ ৪০ হাজার টন ভুট্টা উৎপাদনের প্রাক্কলন করা হয়েছিল। একইভাবে খরার কারণে ২০১৮-১৯ মৌসুমে ভারতে তেলবীজ, ডাল, আখসহ বিভিন্ন ধরনের কৃষিপণ্যের উৎপাদনে মন্দাভাব বজায় থাকতে পারে।