ইনিংস ব্যবধানে হার এড়াতে পারবে তো বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

তৃতীয় দিন শেষে যে অবস্থা তাতে ধরে নেয়া যায় বাংলাদেশের হার নিশ্চিত। সেটা ইনিংস ব্যবধানে হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। এই ম্যাচ বাঁচাতে হলে টাইগারদের এখন বিশেষ কিছু করতে হবে হবে? কিন্তু সেই কাজটি করবে কে? ম্যাচের তৃতীয় দিন শেষে বাংলাদেশ পিছিয়ে ৩০৭ রানে। হাতে আছে ৬ উইকেট।

শনিবার নিউজিল্যান্ড তাদের প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে ৬ উইকেটে ৭১৫ রান করে। এরপর বাংলাদেশ নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যাট করতে নেমে ৪ উইকেটে ১৭৪ রান সংগ্রহ করে দিনের খেলা শেষ করে। প্রথম ইনিংস শেষে নিউজিল্যান্ডের লিড ছিল ৪৮১ রান।

বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালোই করেছিল। ওয়ানডে স্টাইলে ব্যাটিং করে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন তামিম ইকবাল ও সাদমান ইসলাম। কিন্তু দলীয় ৮৮ রানে নেইল ওয়াগনারকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে লং লেগে ট্রেন্ট বোল্টের হাতে ক্যাচ হন সাদমান। তার ব্যক্তিগত সংগ্রহ ৩৭ রান। এরপর মুমিনুল হক নেমে ৬ বলে ৮ রান করে সাজঘরে ফিরে যান। দলীয় ১০০ রানে ট্রেন্ট বোল্টের বলে টেইলরের হাতে ক্যাচ হন তিনি।

দলীয় ১১০ রানে ট্রেন্ট বোল্টের বলে উইলিয়ামসনের হাতে ক্যাচ হন মোহাম্মদ মিথুন। চার বলে মিথুন করেন শূন্য রান। এরপর ‘হাস্যকর’ আউট হয়ে ফিরে যান তামিম ইকবাল। টিম সাউদির শর্ট বলটি তামিম খেলতে চাননি। তাই লেগ স্ট্যাম্পের দিকে একটু সরে গিয়ে বসে পড়েন। কিন্তু ব্যাট ছিল উঁচুতে। তামিম হয়তো ভেবেছিলেন বলটি উপর দিয়ে চলে যাবে। কিন্তু না। বলটি তামিমের ব্যাট স্পর্শ করে গিয়ে জমা পড়ে উইকেটরক্ষক বিজে ওয়াটলিংয়ের হাতে। যার ফলে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হয় তামিমকে। ফেরার আগে ৭৪ রান করেন এই টাইগার ওপেনার। টেস্টে এটি তার ২৬তম অর্ধশত। ম্যাচের প্রথম ইনিংসে তামিম সেঞ্চুরি করেছিলেন। ১২৬ রান করে আউট হয়েছিলেন তিনি। তামিম আউট হওয়ার পর সৌম্য সরকার ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ জুটি বেঁধে দিনের খেলা শেষ করে মাঠ ছাড়েন। দিন শেষে সৌম্য সরকার ৩৯ রান করে ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ১৫ রান করে অপরাজিত থাকেন।

হ্যামিলটনের সিডন পার্কে গত বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার তিন ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচ। বৃহস্পতিবার টস হেরে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ২৩৪ রান সংগ্রহ করে অলআউট হয়ে যায় টাইগাররা। প্রথম দিনই নিউজিল্যান্ড তাদের প্রথম ইনিংসের ব্যাট করতে নামে। শুক্রবারও পুরো দিন ব্যাট করে কিউইরা।

শনিবার কিউই অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন টেস্ট ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন। সেই সাথে নিউজিল্যান্ডও তাদের দলীয় সেরা স্কোর সংগ্রহ করে। কিউইরা ইনিংস ঘোষণা করে ৬ উইকেটে ৭১৫ রান সংগ্রহ করে। টেস্টে নিউজিল্যান্ডের এটি দলীয় সেরা স্কোর। এর আগে তাদের সেরা স্কোর ছিল ৬৯০ রান।

কেন উইলিয়ামসন ২০০ রান করে অপরাজিত থাকেন। টেস্টে উইলিয়ামসনের এটি ২০তম সেঞ্চুরি। উইলিয়ামসনের সঙ্গে ৫৩ বলে ৭৬ রান করে অপরাজিত থাকেন কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম। ৩৫ বলে ৪৭ রান করে আউট হন নেইল ওয়াগনার।

এর আগে জিত রাভাল ১৩২ ও টম লাথাম ১৬১ রান করেন। ৫৩ রান করেন হেনরি নিকোলস। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে ইবাদত হোসেন ১টি, সৌম্য সরকার ২টি, মেহেদী হাসান মিরাজ ২টি ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ১টি করে উইকেট শিকার করেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

তৃতীয় দিন শেষে বাংলাদেশ পিছিয়ে ৩০৭ রানে।

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ২৩৪ (৫৯.২ ওভার)

(তামিম ইকবাল ১২৬, সাদমান ইসলাম ২৪, মুমিনুল হক ১২, মোহাম্মদ মিথুন ৮, সৌম্য সরকার ১, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ২২, লিটন দাস ২৯, মেহেদী হাসান মিরাজ ১০, আবু জায়েদ রাহি ২, খালেদ আহমেদ ০, ইবাদত হোসেন ০*; ট্রেন্ট বোল্ট ১/৬২, টিম সাউদি ৩/৭৬, কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম ১/৩৯, নেইল ওয়াগনার ৫/৪৭, টড অ্যাস্টল ০/১০)।

নিউজিল্যান্ড প্রথম ইনিংস: ৭১৫/৬ডি (১৬৩ ওভার)

(জিত রাভাল ১৩২, টম লাথাম ১৬১, কেন উইলিয়ামসন ২০০*, রস টেইলর ৪, হেনরি নিকোলস ৫৩, নেইল ওয়াগনার ৪৭, বিজে ওয়াটলিং ৩১, কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম ৭৬*; আবু জায়েদ রাহি ০/১০৩, ইবাদত হোসেন ১/১০৭, খালেদ আহমেদ ০/১৪৯, সৌম্য সরকার ২/৬৮, মেহেদী হাসান মিরাজ ২/২৪৬, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ১/৩, মুমিনুল হক ০/৩২)।

বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস: ১৭৪/৪* (৪৩ ওভার)

(তামিম ইকবাল ৭৪, সাদমান ইসলাম ৩৭, মুমিনুল হক ৮, মোহাম্মদ মিথুন ০, সৌম্য সরকার ৩৯*, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ১৫*; ট্রেন্ট বোল্ট ২/৫৩, টিম সাউদি ১/৫৪, কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম ০/১৫, নেইল ওয়াগনার ১/৪৮, টড অ্যাস্টল ০/৪)।