লাদেন পুত্রের খোঁজে মিলিয়ন ডলারের পুরস্কার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

আল কায়েদার সাবেক প্রধান ওসামা বিন লাদেনের পুত্র হামজা বিন লাদেন আল কায়েদার নেতৃত্ব গ্রহণ করছেন- এমন খবর দিয়ে তার খোঁজ শুরু করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এরই মধ্যে হামজার জন্য দশ লাখ মার্কিন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে ট্রাম্প সরকার।

পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে তার অবস্থান রয়েছে বলে মনে করা হয়। বিবিসির এক খবরে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হামজা বিন লাদেন আল কায়েদার অনুসারীদের জন্য কিছু অডিও এবং ভিডিও প্রচার করেছেন।

এসব অডিও এবং ভিডিও বার্তার মাধ্যমে ওসামা বিন লাদেনের হত্যার প্রতিশোধ নিতে আমেরিকা এবং তাদের পশ্চিমা বন্ধুদের উপর আক্রমণের আহ্বান জানিয়েছেন হামজা বিন লাদেন।

২০১১ সালে মার্কিন বিশেষ বাহিনী পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে এক অভিযান চালিয়ে ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা করে। ২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে টুইন টাওয়ারে হামলার অনুমোদন দিয়েছিলেন ওসামা বিন লাদেন। ওই হামলায় প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিহত হয়েছিল।

হামজা বিন লাদেন সম্পর্কে কী জানা যাচ্ছে?

ধারণা করা হচ্ছে, হামজা বিন লাদেনের বয়স ৩০ বছর। দুই বছর আগে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে আমেরিকা যে ডকুমেন্ট তৈরি করেছে, সেখানে হামজা বিন লাদেনের নাম উল্লেখ রয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলছে, হামজা বিন লাদেন যাকে বিয়ে করেছেন, তিনি মোহাম্মদ আত্তার মেয়ে। ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে হামলার সময় যে চারটি বিমান ছিনতাই করা হয়েছিল, সেগুলোর একটি ছিনতাই করেছিলেন এই মোহাম্মদ আত্তা। মোহাম্মদ আত্তার ছিনতাই করা বিমানটি নিউইয়র্কে অবস্থিত টুইন টাওয়ারের একটি ভবনে আঘাত করেছিল।

ওসামা বিন লাদেনকে হত্যার পর অ্যাবোটাবাদ কম্পাউন্ড থেকে তার যেসব চিঠিপত্র উদ্ধার করা হয়েছিল। সেগুলো থেকে ধারণা পাওয়া গিয়েছিল, হামজা বিন লাদেনকে তার পিতা ওসামা বিন লাদেন উত্তরসূরি হিসেবে তৈরি করছিলেন। এই সন্তান ওসামা বিন লাদেনের খুব প্রিয় ছিল এবং ওসামা বিন লাদেনের পর আল কায়েদার নেতা হিসেবে তাকেই ভাবা হচ্ছিল।

ধারণা করা হয়, হামজা বিন লাদেন তার মায়ের সঙ্গে ইরানে অনেক বছর কাটিয়েছেন এবং সেখানেই তার বিয়ের অনুষ্ঠান হয়েছে। কিন্তু অন্যান্য রিপোর্টে বলা হচ্ছে, তিনি পাকিস্তান, আফগানিস্তান এবং সিরিয়ায় বসবাস করেছেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক নিরাপত্তা বিভাগের সরকারী মন্ত্রী মাইকেল ইভানফ বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি তিনি সম্ভবত পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে রয়েছেন এবং সীমান্ত পেরিয়ে ইরানে প্রবেশ করবেন। কিন্তু তিনি মধ্য এশিয়ার যে কোন জায়গায়ও থাকতে পারেন।’

১৯৮০ এর দশকে আফগানিস্তানে আল কায়েদার আবির্ভাব ঘটে। তখন আরব স্বেচ্ছাসেবীরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় গঠিত আফগান মুজাহিদীনদের সাথে যোগ দেয়। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল আফগানিস্তান থেকে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের সেনাদের বিতাড়িত করা।

স্বেচ্ছাসেবীদের সহায়তা করার জন্য ওসামা বিন লাদেন একটি সংস্থা গড়ে তোলেন, যেটি আল কায়েদা নামে পরিচিত হয়ে ওঠে- এর অর্থ হলো ঘাঁটি।

ওসামা বিন লাদেন ১৯৮৯ সালে আফগানিস্তান ত্যাগ করেন এবং ১৯৯৬ সালে আবারও সেখানে ফিরে আসেন। তখন হাজার-হাজার বিদেশী মুসলমানের জন্য তিনি সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিচালনা করেন। আমেরিকা, ইহুদি এবং তাদের বন্ধুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে আল-কায়েদা।