ডাকসুতে ভিপি প্রার্থী শোভনের রঙিন পোস্টার ছাত্রলীগের ‘অজান্তে’

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রলীগের ভিপি প্রার্থী রেজওয়ানুল হক শোভনের যে রঙিন পোস্টার দেখা যাচ্ছে, সে বিষয়ে কিছু জানেন না বলে দাবি করেছেন সরকার সমর্থক সংগঠনটির দায়িত্বশীল নেতা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে প্রার্থীদের রঙিন পোস্টার প্রকাশ কিংবা দেয়ালে লাগানো আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

তবে ক্যাম্পাসের দেয়ালে দেয়ালে দেখা যাচ্ছে ছাত্রলীগের ভিপি প্রার্থী শোভনের রঙিন পোস্টার, যিনি সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতিও।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগের ডাকসু নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস বলেন, “পোস্টারের বিষয়ে আমি আগে কিছুই জানতাম না।

“তাকে (শোভন) বিতর্কিত করার জন্য উদ্দেশ্যমূলকভাবে কোনো কুচক্রী মহল এটি করতে পারে। আমরা সেটি খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।”

আচরণবিধির বিষয়টি স্মরণ করে এই ছাত্রলীগ নেতা বলেন, “আমরা এক্ষেত্রে এখন থেকে অনেক সতর্ক থাকব।"

এ বিষয়ে কথা বলতে ছাত্রলীগ সভাপতি শোভনের মোবাইল ফোনে কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

 ডাকসু নির্বাচনের আচরণবিধির ৬(ক) ধারায় বলা হয়েছে, "নির্বাচনী প্রচারণায় কোনো প্রার্থী নিজের সাদাকালো ছবি ছাড়া লিফলেট বা হ্যান্ডবিলে অন্য কারও ছবি বা প্রতীক ব্যবহার করতে পারবেন না। লিফলেট ছাপানো ও বিলি করা যাবে।"

আর আচরণবিধির ৬(খ) ধারায় বলা হয়েছে, "বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও হল এলাকায় অবস্থিত কোনো প্রকার স্থাপনা, দেয়াল, যানবাহন, বেড়া, গাছপালা, বিদ্যুৎ ও টেলিফোনের খুঁটি বা অন্য কোনো দন্ডায়মান বস্তুতে লিফলেট বা হ্যান্ডবিল লাগানো যাবে না।"

ছাত্রলীগের ভিপি প্রার্থীর পোস্টারের বিষয়ে ডাকসু নির্বাচনের প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক এস এম মাহফুজুর রহমান বলেন, "এটার কথা আচরণবিধিতে তো বলা আছে। প্রক্টরকে অবহিত করেছি। লোকবল সব তো তার কাছে। তার মাধ্যমেই এটা করতে হবে।"

ডাকসু নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘনের শাস্তি হিসেবে আচরণবিধির ১৫(ক) ধারায় বলা হয়েছে, "নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করলে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা অভিযোগ ও তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেবেন। সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রয়োজনবোধে স্বপ্রণোদিতভাবে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারবেন।"

আচরণবিধির ১৫(খ) ধারায় বলা হয়েছে, "কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কেউ নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করলে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানা, প্রার্থিতা বাতিল অথবা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার কিংবা রাষ্ট্র বা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী অন্য কোনো দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।"