বাড়ির পাঠাগারের পাশে চিরনিদ্রায় ‘বইওয়ালা’ পলান

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

বাড়ির সঙ্গে গড়ে তোলা পাঠাগারের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত ‘বইওয়ালা’ পলান সরকার।

শনিবার বেলা সাড়ে ১০টায় রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পূর্বপাড়া গ্রামে দাফন করা হয়। এর আগে স্থানীয় হারুনুর রশিদ শাহ দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জানাজায় অংশ নেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

শুক্রবার বেলা ১২টার দিকে নিজ বাড়িতে মারা যান ৯৮ বছর বয়সী পলান সরকার।

নিজের টাকায় বই কিনে গ্রামে গ্রামে ঘুরে দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতেন তিনি। সামাজিক অবদানের জন্য ২০১১ সালে একুশে পদক দেয় সরকার তাকে। তিনি রাজশাহীর ২০ গ্রামে গড়ে তুলেছিলেন এক শিক্ষা আন্দোলন। এ কারণে ২০০৭ সালে সরকারিভাবে তার বাড়ির আঙিনায় একটি পাঠাগার করে দেওয়া হয়। এই পাঠাগারের পাশে তার লাশ দাফন করা হয়।

প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে কাঁধে ঝোলাভর্তি বই নিয়ে বেরিয়ে পড়তেন পলান। মাইলের পর মাইল হেঁটে একেকদিন একেক গ্রামে যেতেন। বাড়ি বাড়ি কড়া নেড়ে আগের সপ্তাহের বই ফেরত নিয়ে নতুন বই পড়তে দিতেন। এলাকাবাসীর কাছে তিনি পরিচিত ‘বইওয়ালা দুলাভাই’ হিসেবেও।

পলানের জন্ম ১৯২১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর নাটোর জেলার বাগাতিপাড়া গ্রামে। জন্মের পাঁচ মাসে তার বাবা মারা যান। আর্থিক টানাপড়নে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময়ই লেখাপড়ায় ইতি টানতে হয় তাকে।

স্থানীয় একটি উচ্চবিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি পলান সরকার।

পলান বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন। গত বছর ২১ ডিসেম্বর তার স্ত্রী রাহেলা বেগম ৮৫ বছর বয়সে মারা যান। এই দম্পতির ছয় ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে।

রাজশাহীর জেলা প্রশাসক এসএম আব্দুল কাদের, পুলিশ সুপার মো. শহীদুল্লাহ, বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন রেজা, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের বাবা ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শামসুদ্দীন, সরেরহাট এতিমখানার পরিচালক সাদা মনের মানুষ শামসুদ্দিন সরকার, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সদ্যনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান লায়েব উদ্দিন লাবলু, বাঘা পৌরসভার মেয়র আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক মেয়র আক্কাস আলী, বাঘা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম, বাঘার বাউসা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জানাজায় অংশ নেন।