অভিনন্দন শব্দের অর্থই বদলে গেল

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

ভারত এমন কিছু করেছে যে, এমনকি, অভিধানের শব্দ পর্যন্ত বদলে যেতে পারে। নিজের সরকারের কৃতিত্ব দাবি করে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ভারতের পদক্ষেপের কারণে ‘অভিনন্দন’ শব্দটার অর্থই বদলে যাচ্ছে এখন। পাকিস্তানের হাতে আটক হওয়ার পর ‘বীর যুদ্ধবৈমানিক’ অভিনন্দন বর্তমানের সাহসিকতার কথা বলতে গিয়ে তিনি টুইটারে এ মন্তব্য করেছেন।

বৈমানিক অভিনন্দন ফিরে আসার পর তার প্রশংসা এখন ভারতজুড়ে। মোদি তাকে স্বাগত জানিয়ে উচ্ছ্বাস ও গর্ব প্রকাশ করেছেন। অভিনন্দন দেশে ফেরার পর শুক্রবার এক টুইট বার্তায় তাকে স্বাগত জানান মোদি। শনিবার নয়াদিল্লিতে এক অনুষ্ঠানেও কথা বলেছেন সে প্রসঙ্গে।

মোদি বলেন, ভারত এখন এতটাই শক্তিশালী যে, অভিধানের অর্থ বদল করতে পারে। এতদিন ইংরেজিতে অভিনন্দন শব্দের অর্থ ছিল একটি। কিন্তু এখন অভিনন্দনের মানেই বদলে গেল। দুনিয়া এখন অপেক্ষায় থাকে ভারত কী করছে দেখার জন্য।

 উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমানকে ফেরানোর দাবিতে সরব হয়েছিল পুরো ভারত। পাশাপাশি তার বীরত্বের কাহিনিতে ভরে উঠেছিল সামাজিকমাধ্যম। ফলে ভারতীয়দের কাছে এখন অভিনন্দন ও বীরত্ব, দুটি শব্দ সমার্থক হয়ে গেছে। ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারতশাসিত কাশ্মীরের পুলওয়ামায় দেশটির আধা সামরিক বাহিনীর গাড়িবহরে আত্মঘাতী হামলায় অন্তত ৪০ জওয়ান নিহত হন। এ হামলার দায় স্বীকার করে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদ। তবে পাকিস্তান সরকার এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। ফিরতে পেরে ভালো লাগছে ৩৫ বছর বয়সী বিমান বাহিনীর বৈমানিক অভিনন্দনকে শুক্রবার রাতে তাকে আট্টারি-ওয়াগা সীমান্তে ভারতের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

এক কর্মকর্তা জানান, মুক্তি পেয়েই তার প্রথম কথা ছিল, ‘আমার দেশে ফিরে আসতে পেরে ভালো লাগছে।’ অভিনন্দন মুক্তি পাওয়ার পর পরই টুইটারে তাকে স্বাগত জানিয়ে মোদি লেখেন, ‘স্বাগতম উইং কমান্ডার অভিনন্দন! এই জাতি আপনার আদর্শ ও সাহস নিয়ে গর্বিত। আমাদের সশস্ত্র বাহিনী ১৩০ কোটি ভারতীয়র জন্য অনুপ্রেরণা। বন্দে মাতরম!’ ফেরত দিতে দেরি কেন শুক্রবার দিনভর টেলিভিশনের দিকে তাকিয়ে ছিল সবাই। পাকিস্তানের হাতে আটক ভারতীয় পাইলট অভিনন্দন কখন ফিরছেন- এ প্রশ্নই ছিল তাদের।

সকালে জানা যায়; দুপুরে, আবার দুপুরে জানা যায় বিকেলে, বিকেল গড়িয়ে হয় সন্ধ্যা। তবে অভিনন্দন দেশে ফিরলেন রাতে। কিন্ত কেন এই দেরি। এর সঠিক উত্তর জানা যায়নি। প্রথমে জানানো হয়, কাগজপত্র তৈরি হয়নি। ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের দাবি, বরাবরের মতোই পাকিস্তান শেষ মুহূর্তে টালবাহানা করছিল। তবে কোনো দর কষাকষির চেষ্টা হয়েছিল কিনা, তা নিয়ে বায়ুসেনার কর্তারা মুখ খুলতে চাননি।