রিয়ালকে হারিয়ে শিরোপার পথে বার্সা

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

তিন দিন আগে বার্সেলোনার কাছে হেরে কোপা দেল রে’র শিরোপা স্বপ্ন শেষ হয় রিয়াল মাদ্রিদের। চিরপ্রতিদ্বন্ধীদের এবার লা লিগার শিরোপা স্বপ্নও ধুসর করে দিলো আর্নেস্তো ভালভার্দের দল। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে তাদের জয়ের নায়ক ইভান রাকিটিস।

শনিবার রাতে রাকিটিসের একমাত্র গোলে সান্তিয়াগো সোলারির দলকে ১-০ গোলে হারায় বার্সেলোনা। এই জয়ে শিরোপা দৌড়ে রিয়ালের চেয়ে ১২ পয়েন্টে এগিয়ে গেল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। এক ম্যাচ কম খেলে দ্বিতীয় স্থানে থাকা অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ ১০ পয়েন্ট পেছনে।

গত অক্টোবরে লিগের প্রথম লেগে রিয়ালকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দেয় বার্সেলোনা।

এল ক্ল্যাসিকোয় বার্সার এটি ৯৬তম জয়। তিন দিন আগে একই মাঠে রিয়ালকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ক্ল্যাসিকোয় জয়-পরাজয়ে সমতা আনে ন্যু ক্যাম্পের দলটি। ১৯৩১ সালের পর থেকে এই প্রথম রিয়ালের সঙ্গে মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে গেল বার্সা।

শুরুর দশ মিনিট ছিল রিয়ালের। কিন্তু প্রতিপক্ষের ডি বক্সে তাদের আক্রমণগুলো ধমকে দাঁড়ায়। প্রথমার্ধে একটি শট তারা লক্ষ্যে রাখতে পারে। কিন্তু সেটা সহজেই নিজের দখলে নেন বার্সার জার্মান গোলরক্ষক মার্ক আন্দ্রে টের স্টেগেন।

সময় গড়ানোর সাথে নিজেদের গুছিয়ে নেয়া বার্সা ১৬তম মিনিটেই গোলের দারুণ সুযোগ তৈরি করে। সুয়ারেজের জোরালো শট বামে ঝাঁপিয়ে রুখে দেন থিবো কোর্তোয়া। কিন্তু ২৬তম মিনিটে রাকিটিসকে আর রুখতে পারেননি রিয়াল গোলরক্ষক। সার্জিও রবের্তোর সঙ্গে ওয়ান টু খেলে ডান প্রান্ত দিয়ে বল নিয়ে ঢুকে পড়েন রাকিটিস। এগিয়ে আসা কোর্তোর মাথার উপর দিয়ে চিপ শটে বল জালে জড়ান ক্রোয়াট মিডফিল্ডার। ২০ অক্টোবরের পর লা লিগায় এটি তার প্রথম গোল।

৩৭ মিনিটে বিপজ্জনক জায়গায় ফ্রি কিক পায় বার্সা। কিন্তু মেসির শট বারে বাতাস লাগিয়ে উড়ে যায়। দুই মিনিট পর সুবিধাজনক জায়গায় বল পেয়েছিলেন সুয়ারেজ। কিন্তু তার সোজাসুজি শট ফিরিয়ে দেন কোর্তোয়া। ফিরতি বলে পা বাড়ালেও তা সহজেই নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন স্বাগতিক গোলরক্ষক। বিরতির ঠিক আগে টনি ক্রসের ক্রসে হেড নেন লুকা মদরিচ। অল্পের জন্য তা লক্ষ্যচূত হয়।

বিরতির পরের শুরুটাও দারুণ ছিল স্বাগতিকদের। ৪৯ মিনিটে কাসিমিরোর ক্রসে সুবিধাজনক জায়গা থেকে নেওয়া হেড লক্ষ্যে রাখতে পারেননি করিম বেনজেমা। ৫৬তম মিনিটে টের স্টেগেনের সোজাসুজি শট নেন ভিনিসিউস। ম্যাচের শুরু থেকেই মেসির উপর চড়াও হয়ে থাকা সার্জিও রামোস ৫৯তম মিনিটে মেসিকে অবৈধভাবে আটকে দেখেন হলুদ কার্ড।

৬০তম মিনিটে একাদশে সুযোগ পাওয়া গ্যারেথ বেলকে উঠিয়ে মার্কো অ্যাসেনসিওকে নামান কোচ। এরই মাঝে পাল্টা আক্রমণে স্বাগতিক সমর্থকদের বুকে কাঁপুনি ধরান সুয়ারেজ-মেসি-দেম্বেলেরা।

প্রথমার্ধ থেকে একের পর এর ফাউলের শিকার হওয়া মেসিকে বেশ অস্বস্তি নিয়ে খেলতে দেখা যায়। কেবল ডি বক্সের সামনেই ছিল তার আনাগোনা।

আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণে খেলা এগুলেও জালের দেখা মেলেনি। শেষ দিতে ধৈর্য হারানো রিয়াল অনেকটা শরীরী ফুটবল খেলতে থাকে। এসময় অনেকগুলো ভয়ঙ্কর আক্রমণও করে তারা। কিন্তু আলবা-পিকে-ল্যাঙলেটদের নিয়ে গড়া বার্সার রক্ষণ ভাঙতে পারেননি বেনজেমা-ভিনিসিউসরা। বিশেষ করে ১৮ বছর বয়সী ভিনিসিউসের ফিনিশিংটা ছিল রিয়ালের জন্য হতাশাময়।

শেষ দিকে ভারানে-বেনজেমাকে হতাশ করেন স্টেগেন। এ নিয়ে শেষ ছয় ম্যাচের পাঁচটিতেই নিজেদের জাল অক্ষত রাখলো বার্সা।