অবিলম্বে কৃষিপণ্যে শুল্ক প্রত্যাহারে চীনের প্রতি আহ্বান ট্রাম্পের

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

মার্কিন কৃষিপণ্যে শুল্ক প্রত্যাহারের জন্য চীনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার এক টুইটে তিনি এ আহ্বান জানান।

বিশ্বের শীর্ষ দুই অর্থনীতির মধ্যে আলোচনায় অগ্রগতির দাবি করে গরুর মাংস, শূকরের মাংসসহ কৃষিপণ্যে শুল্ক প্রত্যাহারে এ আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প। শুক্রবারের টুইটে পূর্বনির্ধারিত মার্চের ১ তারিখ থেকে চীনের পণ্যে শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার হুমকি থেকে বিরত ছিলেন ট্রাম্প।

ট্রাম্পের আহ্বান সম্পর্কে চীনের বাণিজ্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ব্লুমবার্গ শনিবার ফ্যাক্স ও টেলিফোন করলে তারা কোনো উত্তর পাঠায়নি।

গত বছর ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন কৃষিপণ্যে পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপ করেছিল চীন। গত জুলাইয়ে সয়াবিন, গরুর মাংস, শূকরের মাংস ও মুরগির মাংসসহ প্রথম দফায় ৩ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের মার্কিন পণ্য আমদানিতে ২৫ শতাংশ পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপ হয়েছিল।

পরবর্তীতে ট্রাম্প দ্বিতীয় দফা ২০ হাজার কোটি ডলারের চীনা পণ্যে শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার হুমকি দেন। গত ১ মার্চ এ শুল্ক আরোপের কথা ছিল। কিন্তু গত ডিসেম্বরে বুয়েন্স আয়ার্সে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে সাময়িক বিরতির ব্যাপারে একমত হন ট্রাম্প। গত কয়েক মাসে চীন ও মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধিদের মধ্যে বেশ কয়েক দফা বাণিজ্য আলোচনা হয় এবং উভয় পক্ষ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছানো এবং ভবিষ্যতে আলোচনার দ্বার উন্মুক্ত রাখার স্বার্থে পূর্বনির্ধারিত ১ মার্চ শুল্ক আরোপ থেকে বিরত থাকে ওয়াশিংটন।

ওই নির্দিষ্ট দিনটিতে ট্রাম্প তার হুমকির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে টুইটে বলেন, ‘আমরা যেহেতু বাণিজ্য আলোচনায় বেশ ভালো অগ্রগতি নিয়ে এসেছি, তার পরিপ্রেক্ষিতে আমি চীনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছি, তারা যেন আমাদের সব কৃষিপণ্যে (গরুর মাংস, শূকরের মাংসসহ) অবিলম্বে শুল্ক প্রত্যাহার করে।’

চলমান সমঝোতা প্রক্রিয়ায় ট্রাম্পের দাবি কী প্রভাব ফেলবে, সে বিষয়টি স্পষ্ট নয়; যদিও গত সপ্তাহে একটি চুক্তিতে পৌঁছার ব্যাপারে নিজের আগ্রহের কথা ব্যক্ত করেছিলেন তিনি। বিষয়সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো চলছে, ট্রাম্প ও শি জিনপিং যেন কোনো একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে পারেন, সেজন্য মার্কিন কর্মকর্তারা চূড়ান্ত বাণিজ্য চুক্তি প্রস্তুত করা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। অবশ্য চীনের কাছ থেকে অধিক ছাড় নিতে ওয়াশিংটনে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের সঙ্গে ভিয়েতনামের হ্যানয়ে গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ‘চীন সম্পর্কে বলতে গেলে তাদের সঙ্গে আমরা বিশেষ কিছু করতে যাচ্ছি। তবে আমরা বিষয়টি মনোযোগসহকারে দেখব। আমি সবসময়ই বেরিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। কোনো চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসতে আমি ভীত নই। যদি কাজ না করে তাহলে চীনের জন্যও এ কথা সত্য।’

চীন যদি মার্কিন কৃষিপণ্যে শুল্ক প্রত্যাহার করে তাহলে বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতির কৃষি খাতের জন্য বিশাল এক অর্জন হিসেবে দেখা হবে। চীনের শুল্কের মুখে পড়ে হিমশিম খাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সয়াবিন, শূকরের মাংস ও ইথানল। বিশ্বের সবচেয়ে বড় কৃষিবাজারের প্রধান গন্তব্য হচ্ছে চীন।

কৃষক ও আইনপ্রণেতারা দীর্ঘদিন ধরেই এ শুল্কের সমালোচনা করে আসছিলেন।

গত ডিসেম্বরে সাময়িক বিরতি কার্যকরের পর যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সয়াবিন ক্রয় করেছে চীন। গত সপ্তাহে মার্কিন কৃষিমন্ত্রী সনি পার্দ্যু জানান, সামনের দিনগুলোয় আরো সয়াবিন বিক্রি হবে।