আইএস বধূ' শামীমাকে নিয়ে নেদারল্যান্ডস ফিরতে চান স্বামী

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

২০১৫ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে ব্রিটেন থেকে সিরিয়ায় গিয়ে ইসলামিক স্টেট বা আইএসে যোগ দেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ শামীমা বেগম। সম্প্রতি সন্তানকে গিয়ে ব্রিটেনে ফিরতে চাওয়ায় নতুন করে বিশ্ব মাধ্যমে আলোচিত হয়েছেন তিনি। যদিও ব্রিটিশ সরকার তাকে ফিরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

একই সঙ্গে আইএসে যোগ দেবার কারণে শামীমা দেশটির নাগরিকত্ব হারাতে পারেন এমন কথাও জানানো হয়েছে ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে। এখন সিরিয়ার শরণার্থী ক্যাম্পে অবস্থান করছেন তিনি। এ অবস্থায় তার স্বামী, ডাচ নাগরিক ইয়াগো রেইদিজক জানিয়েছেন, তিনি স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে নেদারল্যান্ডসে ফিরতে চান।

সিরিয়ায় আইএস নিয়ন্ত্রিত এলাকায় শামীমা পৌঁছার কয়েকদিন পরই ইয়াগো রেইদিজকের সঙ্গে বিয়ে হয়।

বিবিসির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ইয়াগো রেইদিজক স্বীকার করেন, তিনি আইএসের হয়ে যুদ্ধ করেছেন। কিন্তু এখন তিনি স্ত্রী ও সন্তানের কাছে ফিরে যেতে চান।

২৭ বছর বয়সী রেইদিজক অবশ্য উত্তর পূর্ব সিরিয়ায় একটি কুর্দি বন্দি শিবিরে আটক রয়েছেন। নেদারল্যান্ডসে ফিরে গেলে আইএসে যোগ দেওয়ার অপরাধে তার ছয় বছর কারাদণ্ড হতে পারে।

বিবিসির মধ্যপ্রাচ্য সংবাদদাতা কোয়েনটিন সামারভিলকে রেইদিজক বলেছেন, তিনি আইএস ছেড়ে দিয়েছেন। এর আগেও তিনি আইএস থেকে বের হয়ে আসার চেষ্টা করেন। তখন ডাচ গোয়েন্দা বলে সন্দেহ করে আইএস যোদ্ধারা তাকে রাক্কায় বন্দি করে রাখে। অনেক নির্যাতনও চালায়।

রাক্কায় আইএসের পতনের পর ১৯ বছর বয়সী শামীমা এবং তার স্বামী শহর থেকে পালিয়ে যান। রেইদিজক ওই সময় সিরীয় যোদ্ধাদের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।

আর শামীমা উত্তর সিরিয়ার আল-হাওল শরণার্থী শিবিরে ৩৯ হাজার মানুষের সঙ্গে আশ্রয় নেন। সেখানে শামীমা একটি পুত্র সন্তান জন্ম দেন।

তবে ধারণা করা হচ্ছে, শামীমা ওই শরাণার্থী শিবির থেকে অন্য কোথাও চলে গেছেন। কেননা, গণমাধ্যমের ফোকাসে আসার পর শামীমা হত্যার হুমকি পান বলে খবর রয়েছে।

শামীমার সঙ্গে পরিচয় সম্পর্কে রেইদিজক জানান, এক বন্ধুর মাধ্যমে তার সঙ্গে পরিচয় এবং শামীমার আগ্রহেই তাদের বিয়ে হয়। তিনি জানান, শামীমাকে তার ভাল মনের মানুষ বলেই মনে হয়েছে।