মাহমুদউলস্নাহ রিয়াদের আফসোস

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

ভুল যা করার সেটা আমরা করে এসেছি প্রথম ইনিংসে। ওই ইনিংসে আরও এক-দুজন যদি বড় স্কোর করতে পারত তাহলে এই ম্যাচের গল্পটা হয়তো অন্যরকম হতে পারত। এই ম্যাচ তো আমরা হেরে গেছি। তবে এখান থেকে ব্যাটসম্যানদের দ্বিতীয় টেস্টের জন্য ভালো কিছু নিয়ে যেতে পারছি
মাহমুদউলস্নাহ রিয়াদের আফসোস
হ্যামিল্টনের সেডন পার্কে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টের চতুর্থ দিনে মাহদুলস্নাহ রিয়াদ ও সৌম্য সরকারের জোড়া সেঞ্চুরিতেও হার এড়াতে পারেনি বাংলাদেশ। এদিন ১৪৬ রানের ইনিংস খেলা মাহমুদউলস্নাহকে ম্যাচ শেষে সান্ত্বনা জানাচ্ছেন কোচ স্টিভ রোডস
প্রথম ইনিংসে টাইগারদের ২৩৪ রানের জবাবে কিউইরা ৬ উইকেটে ৭১৫ রানে ইনিংস ঘোষণা দেয়। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪২৯। শুধু সংখ্যা তো বটেই, ব্যাটিং পরিকল্পনা ও চিন্তা চেতনা, লড়াইয়ের তেজ- সবকিছুতেই হ্যামিল্টন টেস্টে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস অনেক এগিয়ে। ম্যাচের প্রথম ইনিংসের প্রথম দিনেই বাংলাদেশ ভালো অবস্থানে থেকেও গুটিয়ে পড়ে ২৩৪ রানে। ১২৮ বলে ১২৬ রান করা তামিম ইকবাল ছাড়া দলের বাকি ব্যাটসম্যানরা কেউ যে বলার মতো স্কোরই করতে পারলেন না। ইনিংস ও ৫২ রানের বড় ব্যবধানে হারা হ্যামিল্টন টেস্টে ব্যর্থতার কারণ ব্যাখ্যায় অধিনায়ক মাহমুদউলস্নাহ রিয়াদের আফসোস একটাই- প্রথম ইনিংস! আহা যদি প্রথম ইনিংসটা আরেকটু বড় হতো? যদি তামিম ইকবালের সঙ্গে আরও কয়েকজন বড় কিছু করত? যদি প্রথম ইনিংসটা ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসের মতো খেলত বাংলাদেশ?

অধিনায়ক মাহমুদউলস্নাহ রিয়াদ ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ব্যাখ্যা দিয়েছেন এভাবে- 'ভুল যা করার সেটা আমরা করে এসেছি প্রথম ইনিংসে। ওই ইনিংসে আরও এক-দুজন যদি বড় স্কোর করতে পারত তাহলে এই ম্যাচের গল্পটা হয়তো অন্যরকম হতে পারত। এই ম্যাচ তো আমরা হেরে গেছি। তবে এখান থেকে ব্যাটসম্যানদের দ্বিতীয় টেস্টের জন্য ভালো কিছু নিয়ে যেতে পারছি। তামিম ইকবালও চমৎকার ব্যাটিং করেছে এই টেস্টের উভয় ইনিংসে।'

এমন ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে আরও ভালো না করতে পারাটাকে সুযোগ হাতছাড়া হিসেবেই দেখছেন অধিনায়ক মাহমুদউলস্নাহ। তার মুখে শোনা গেছে আক্ষেপের কথা, 'ব্যাটিংয়ের জন্য উইকেটটা আসলেই অনেক ভালো ছিল। কিন্তু আমরা সুযোগটা হাতছাড়া করেছি।'

৪ উইকেটে ১৭৪ রান নিয়ে চতুর্থদিনের সকাল শুরুর সময় কে ভেবেছিল বাংলাদেশ এমন কঠিন প্রতিরোধ গড়ে তুলবে? ম্যাচের মেজাজ এদিন বদলে দিল সৌম্য সরকারের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং। ৬০ বলে হাফসেঞ্চুরি করার পর ব্যাট হাতে হঠাৎ টি২০ মেজাজে নামেন সৌম্য। রেকর্ড ৯৪ বলে ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি করেন। সৌম্যের সেঞ্চুরি প্রসঙ্গে মাহমুদউলস্নাহ বলেন, 'চতুর্থদিনের শুরুর সময়টায় ব্যাটিংয়ে সৌম্যর ভূমিকাটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সে খুব স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যাটিং করছিল। সামনে আসা সুযোগগুলো নিচ্ছিল। ওই সময় নিউজিল্যান্ডের বোলাররাও ভালো বোলিং করছিল। বাউন্সার মারছিল। সৌম্যও তখন প্রায় ওভারে বাউন্ডারি পাচ্ছিল। বোলিং ভালো হচ্ছে আবার ব্যাটসম্যান রানও ঠিকই তুলে নিচ্ছে, ওভারে চার পাঁচ করে রান আসছে- এমন পরিস্থিতিতে বোলাররা সাধারণত একটু হতাশ হয়ে যায়। সৌম্যর ব্যাটিং ঠিক সেই কাজই হচ্ছিল। সৌম্য অসাধারণ ব্যাট করেছে।'

অধিনায়ক নিজেও তো অসাধারণ ব্যাটিং করেছেন দ্বিতীয় ইনিংসে। কাঁধের ওপর বিশাল রানের বোঝা নিয়ে যে কায়দায় ১৪৬ রানের ইনিংস খেলেছেন মাহমুদউলস্নাহ রিয়াদ সেটা দলের বাকিদের জন্য বড় উদাহরণ।

বোলারদের উদ্দেশে বলেন, 'এখানে বাংলাদেশের বোলারদের জন্য শেখার অনেক কিছু আছে। সবসময় আমাদের শুধু ঠিক জায়গায় বলটা রাখতে হবে। তারা (নিউজিল্যান্ড বোলার) সবসময় ভালো জায়গায় বলটা রেখেছে এবং দারুণ বল করেছে। আমাদের সবার এটি ভালোভাবে মোকাবিলা করার প্রয়োজন ছিল।'

এই উইকেটে, এই কন্ডিশনে নিউজিল্যান্ডের বোলারদের যে সহজেই খেলে দেয়া যায় তারই প্রমাণ মাহমুদউলস্নাহ রিয়াদের ক্যারিয়ার সেরা চতুর্থ টেস্ট সেঞ্চুরি। নিজের ব্যাটিংয়ের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে অধিনায়ক জানান- 'তৃতীয়দিন যখন ব্যাটিং করতে নামি, তখনই পরিকল্পনা করে নিয়েছিলাম সহজে উইকেট দিব না। তখন চতুর্থদিনে কি হয় সেটা নিয়ে বেশি ভাবিনি। ভাবনায় ছিল শুধু তৃতীয়দিনের খেলা। ওই দিনের বাকি সময়টা কোনো ক্ষতি ছাড়া যেন কাটাতে পারি সেই চিন্তা নিয়েই ব্যাটিং করছিলাম। এই টেস্টে তামিমের একটা ব্যাপার আমার খুব ভালো লেগেছে। আমার ব্যাটিংয়েও সেটা অনুসরণ করেছি। আমাদের দলে তামিম ইকবালই কিন্তু সবচেয়ে ভালো হুক ও পুল শট খেলতে পারে। কিন্তু লক্ষ্য করলে দেখবেন এই টেস্টে সে হুক ও পুল শট খেলার মতো প্রচুর বল পেয়েছে কিন্তু বাড়তি ঝুঁকি না নিয়ে অনেক বল ছেড়ে দিয়েছে। ওয়েগনার রাউন্ড দ্য উইকেটে এসেও তামিমকে প্রচুর বাউন্সার দিচ্ছিল। কিন্তু তামিম সেই ফাঁদে পা না দিয়ে উইকেট বাঁচিয়ে খেলে। এই যে পরিস্থিতি বুঝে পরিকল্পনা বদলে ব্যাটিং করা- এটা আমার খুব ভালো লেগেছে। আমিও দ্বিতীয় ইনিংসে ভেবেছিলাম যেন অমন কিছু করতে পারি।'

দ্বিতীয় ইনিংসে সত্যিকার অর্থেই অমন ভিন্নকিছু করেছেন মাহমুদউলস্নাহ। আক্রমণের মিশেলে রক্ষণের যে ব্যাটিং দৃঢ়তা দেখিয়েছেন তাকে বাংলাদেশ ম্যাচ বাঁচাতে পারেনি কিন্তু উদাহরণ তো তৈরি করেছে; লড়াই করার, লড়তে পারার!

গল্পটা আরও আনন্দদায়ক হতো যদি প্রথম ইনিংসের পুঁজিটা আরও জমাট হতো। উপসংহার জানাচ্ছে, হ্যামিল্টন টেস্টে বাংলাদেশের আনন্দের নাম; দ্বিতীয় ইনিংস। আফসোসের নাম; প্রথম ইনিংস।