যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জিএসপি সুবিধা চায় বিজিএমইএ

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ফের রপ্তানির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার বাজার সুবিধা (জিএসপি) পাওয়ার দাবি জানিয়েছে গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)।এ লক্ষ্যে ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলারকে প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন সংগঠনটির সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান।

রবিবার রাজধানীর কারওয়ানবাজারের কার্যালয়ে বিজিএমইএর নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন আর্ল রবার্ট মিলার। এ সময় মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে এ আহবান জানান সিদ্দিকুর রহমান।

সাক্ষাৎ শেষে সংবাদ সম্মেলনে সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলারকে আমরা বলেছি, জিএসপি নিয়ে আবারও আলোচনা হতে পারে। তাদের দেওয়া ১৬টি শর্তের ১৫টিই পূরণ করলেও এখনও জিএসপি সুবিধা পাইনি। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এদেশের তৈরি পোশাকের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ারও আহবান জানিয়েছি।’

‘মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেছেন, এটা নিয়ে খুব দ্রুত আমাদের জানাবেন। পরে এটা নিয়ে আলোচনা হবে, আমরা উভয়পক্ষ বসবো। বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ সুতা আমদানিকারক। আমেরিকা থেকে সুতা আমদানি করলে আমরা কী কী সুবিধা পাবো, সেটিও জানতে চেয়েছি।’

সাম্প্রতিক অসন্তোষে শ্রমিক ছাটাইয়ের বিষয়ে কথা হয়েছে জানিয়ে সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘রাষ্ট্রদূত আমাদের জানিয়েছেন, কোনো কোনো মিডিয়া ও শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ১১ হাজার শ্রমিক ছাটাইয়ের কথা বলা হয়েছে। আমি বলেছি, আমাদের দেশের আইনে চারটি প্রক্রিয়া রয়েছে। প্রথমে আমরা শো’কজ করি। শো’কজের উত্তর না দিয়ে তারা বেনিফিট (বেতন) নিয়ে অন্য যায়গায় চলে যান। আমাদের এখানে এখনও দক্ষ কর্মীর অভাব আছে। যে শ্রমিক এক জায়গা থেকে চলে গেলেন, তিনি অন্য জায়গায় গিয়ে চাকরি পাবেন। তবে এর সংখ্যা কোনোভাবেই চার হাজারের বেশি নয়। এ কথায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত একমত হয়েছেন।’

চার হাজারের নিচে শ্রমিক ছাটাই হয়েছে দাবি করে সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘বিভিন্ন কারণে এই লোকগুলোর চাকরি চলে গেছে। কেউ নিজে স্বেচ্ছায় চলে গেছেন, আবার কেউ চাকরিচ্যুত হয়েছেন।’

পোশাকশিল্পে যাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে তাদের কতজনকে পুনর্বহাল করা হয়েছে- এমন প্রশ্নের জবাবে সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘কাউকে পুনর্বহাল করা হয়নি।’

‘আগেও বলেছি, কোনো শ্রমিককে কোনোভাবেই হয়রানি করা যাবে না। যারা একেবারেই বেআইনি কাজে জড়িত, তাদের যদি চিহ্নিত করা যায়, তাহলেই শাস্তি দেওয়া যায়। এটা দেশের আইন। এই বিষয়গুলোই তাদের সঙ্গে (মার্কিন রাষ্ট্রদূত) আলাপ হয়েছে।’

সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের নির্দেশনা দেওয়া আছে, কোনো নিরীহ শ্রমিক যেন হয়রানি বা ছাটাইয়ের শিকার না হন। আবার যেনতেনভাবে কারখানা খোলার পর শ্রমিকের ছবি টাঙিয়ে বলবেন, তাদের চাকরি নেই, এটা হতে পারে না। এটা করা যাবে না।’

আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের জোট অ্যাকর্ডের বিষয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রশ্ন করেছেন জানিয়ে বিজিএমইএর সভাপতি বলেন, ‘আমরা বলেছি, আমরা একত্রে কাজ করেছি। আদালতে মামলা রয়েছে, যেটি নিয়ে আগামী ২৬ এপ্রিল শুনানি হবে। তার আগে আমরা উইন-উইন অবস্থায় আসার চেষ্টা করব।’

সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএর সহ সভাপতি (অর্থ) মোহাম্মদ নাছির, পরিচালক মুনির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।