বাঘার পদ্মায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পদ্মা নদীর চকরাজাপুরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এ কারণে ভাঙনের মুখে পড়েছে চরটি। শুধু তাই নয়, বর্ষার সময় স্রোতে কিছু বালু পড়ছে ফসলি জমির ওপর। এতে ফসলি জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে। এ কারণে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবি জানান চরবাসী। বালু উত্তোলনকারীরা একের পর গরু-মহিষ চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্থানে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

চকরাজাপুর চরবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার পদ্মার বৈরাগীচরের মিঠু মণ্ডল, সাইদ মণ্ডল, জমির মণ্ডল, সাবুল খামারু কয়েক বছর ধরে বাঘা উপজেলার পদ্মা নদীর চকরাজাপুরসহ কয়েকটি স্থানে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত খননযন্ত্রের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছিল। ১৯ ফেব্রুয়ারি অবৈধ বালু উত্তোলন করা অবস্থায় একটি ড্রেজার ও চারটি নৌকা জব্দ করা হয়। এছাড়া ৮ জনকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

তারপর কিছুদিন বালু উত্তোলন বন্ধ ছিল। প্রশাসনের তৎপরতা নেই ভেবে শনিবার দুপুর থেকে তারা আবারও বালু উত্তোলন শুরু করা হয়েছে বলে জানা গেছে। চকরাজাপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ডালিম মেম্বর বলেন, বালুদস্যুরা যেভাবে বালু উত্তোলন করেছে, তাতে একাধিক গ্রামে ইতিমধ্যেই ভাঙন দেখা দিয়েছে। বালু উত্তোলনে বাধা দিয়েও কোনো প্রতিকার না পেয়ে বিভিন্ন স্থানে অভিযোগ করার পর থেকে তারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। আমাদের প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। ফলে আমরা নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পড়েছি। চকরাজাপুর ইউনিয়নের নারী সদস্য ও পলাশিফতেপুর চরের ফাতেমা খাতুন বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে জমিতে বালু পড়ে নষ্ট হচ্ছে। এলাকার ফসলি জমি অনাবাদি হচ্ছে। বালু উত্তোলনের কারণে অনেকের বাড়িঘর ভেঙে পথে বসতে হয়েছে।

বালু উত্তোনকারীরা ২০১৮ সালের ২০ মার্চ অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে আমার দুটি গরু জোরপূর্বক নিয়ে গেছে। আমি তাদের বিরুদ্ধে বাঘা থানায় অভিযোগ দেয়ারের পরও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বালু উত্তোলনকারীরা আবুল হোসেনের দুটি, উজ্জল হোসেনের দুটি, মকবুল হোসেনের দুটি, সাইদুর রহমানের দুটি, কুদ্দুস খামারুর দুটি, নইমুদ্দিনের দুটি গরু চুরি করে নিয়ে গেছে।

পলাশিফতেপুর চরের কুদরত আলী বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনকারী সাত্তার শিকদার টিটু আহম্মেদ, মিঠু মণ্ডল, সাইদ মণ্ডল, জমির মণ্ডল, সাবুল খামারু ২০১৮ সালের ২২ জুন রাতে আমার বাড়ি থেকে তিন লাখ ৬০ হাজার টাকা মূল্যের দুটি মহিষ চুরি করে নিয়ে যায়। এ মহিষ দুটি সাবুল খামারু ফিরে দেয়ার নাম করে আমার কাছে থেকে ৮২ হাজার ৫০০ টাকা নেয়। কিন্তু আজও মহিষ দুটি তারা দেয়নি। ফলে আমরা চকরাজাপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীনগর, পলাশিফতেপুর ও করানী নওসারা চরের সাড়ে ৫ শতাধিক ব্যক্তি রাজশাহী পুলিশ সুপার, র‌্যাব-৫, বাঘা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি। এ বিষয়ে চকরাজাপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আজিজুল আযম ৪ ফেব্রুয়ারি স্বাক্ষরিত অভিযোগপত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধও করেছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা বলেন, উপজেলায় পদ্মা নদী থেকে বালু উত্তোলনে বৈধতা নেই। অবৈধ বালু উত্তোলনের ব্যাপারে আমরা সব সময় তৎপর। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি অবৈধ বালু উত্তোলন করা অবস্থায় একটি ড্রেজার ও চারটি নৌকা জব্দ করা হয়। এছাড়া ৮ জনকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তারপরও আবার বালু উত্তোলন করলে পুনরায় ব্যবস্থা নেব। শনিবার থেকে আবারও বালু উত্তোলন করা হচ্ছে বলে এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে জানিয়েছে।