অভিনন্দনের শরীরে মাইক্রোচিপ পায়নি ভারত

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

একটি যুদ্ধবিমান ধাওয়া করে পাকিস্তানে ঢুকে পড়ার পর দেশটির সাত কিলোমিটার ভেতরে ভূপাতিত হওয়া বিমানের পাইলট অভিনন্দন বর্তমান সাহসিকতার কারণে ভারতীয়দের কাছে নায়ক বনে গেছেন। গত শুক্রবার রাতে পাকিস্তান থেকে ভারতে ফেরার সময় অভিনন্দনকে স্বাগত জানাতে ওয়াখা সীমান্তে ভিড় করেন হাজারো মানুষ। 

কিন্তু দেশে ফিরেই স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি অভিনন্দন। আটকের সময় আহত অভিনন্দন এখনও পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেননি। ডান চোখে আঘাতের চিহ্ন স্পষ্ট। মেরুদণ্ড ও পাঁজরেও চোট রয়েছে। আর মানসিক আঘাত তো রয়েইছে। 

এছাড়াও দেশে ফেরার পর থেকেই তাকে যেতে হচ্ছে বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক পরীক্ষার মধ্য দিয়ে।

পাইলট অভিনন্দন বর্তমান পাকিস্তানের মতো শত্রুভাবাপন্ন দেশের হেফাজত থেকে ফিরেছেন। বন্দীদের শরীরে অনেক সময় মাইক্রোচিপ ঢুকিয়ে দেওয়া হয়, যার মাধ্যমে আড়ি পেতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতিয়ে নেয় শত্রুপক্ষ। অভিনন্দনের শরীরে সে রকম কোনো চিপ বসানো হয়েছে কি-না তা পরীক্ষা করে দেখেছে ভারত।  

আনন্দবাজারে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, অভিনন্দনের শরীরে এমআরআই স্ক্যান ও অন্য পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত অভিনন্দনের শরীরে কোনও রকম ‘বাগ’ বা আড়ি পাতার জন্য মাইক্রোচিপের সন্ধান মেলেনি। তবে স্থানীয় পাকিস্তানিদের হাতে পিটুনি খাওয়ার ফলে অভিনন্দনের পাঁজরে আঘাত লেগেছে। তার মেরুদণ্ডের নিচের অংশেও আঘাত রয়েছে। অভিনন্দন যে মিগ যুদ্ধবিমান নিয়ে পাকিস্তানের এফ-১৬ বিমানের পেছনে ধাওয়া করেছিলেন, তা পাকিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্রের নিশানায় পড়ায় তাকে বিমানের ককপিট থেকে বেরিয়ে পড়তে ‘ইজেক্ট’ করতে হয়। সেই সময় মেরুদণ্ডে চোট লেগে থাকতে পারে বলে চিকিৎসকদের ধারণা। 

দেশটির সেনা সূত্রের খবর, আগামী ১০ দিন অভিনন্দনের নানারকম পরীক্ষা ও চিকিৎসা চলবে। অভিনন্দনের ওপর পাকিস্তানি সেনা শারীরিক অত্যাচার না চালালেও, মানসিক চাপ তৈরি করেছিল। তাকে জেরাও করা হয়েছিল।