বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাস হতে যাচ্ছে মার্চ

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

বেশকিছু কারণে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাসে পরিণত হতে যাচ্ছে মার্চ। চলতি মাসের মধ্যেই চীন-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য চুক্তি, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে ব্রিটেনের ভাগ্য নির্ধারণ এবং চীনা অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। এছাড়া চলতি মাসে একটি প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর ইউরোপীয় ও জাপানি গাড়ি আমদানির ওপর শুল্কারোপ নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যদিকে মার্চে নিজেদের নীতিমালা নির্ধারণ করতে যাচ্ছে ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড), ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংক (ইসিবি) ও ব্যাংক অব জাপান (বিওজে)। চলতি মাসে বিশ্ব অর্থনীতির কার্যতালিকায় রয়েছে আরো বহু কিছু।

যত দ্রুত সম্ভব মার্চের শেষ দিকে ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ বৈঠক থেকে একটি সম্ভাব্য ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার আভাস দিয়েছেন হোয়াইট হাউজের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ল্যারি কুডলো। বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতি দুটি কোনো সমঝোতায় পৌঁছলেও ব্রিটেন চুক্তি ছাড়া ২৯ মার্চ ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগ করলে এ স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হবে না। ব্রিটেনের চুক্তিহীন ব্রেক্সিট পুরো অঞ্চলেই মন্দা উসকে দেবে।

এদিকে চলতি মাসে চীনের বার্ষিক ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। যেখানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ অর্থনীতিটির রাবার-স্ট্যাম্প পার্লামেন্ট পুরো বছরের জন্য সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা অনুমোদন করবে। সম্মেলনের মুখ্য ঘোষণা হিসেবে থাকছে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা। বেশকিছু অর্থনীতিবিদের মতে, চীন এবার ৬ থেকে সাড়ে ৬ শতাংশ পর্যন্ত প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে পারে; যা গত দুই বছরের গড়ে সাড়ে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম।

এছাড়া আগামী সপ্তাহগুলোয় চীনের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানগুলো প্রকাশ হবে। এসব পরিসংখ্যান থেকে চীনের অর্থনীতিতে নীতিমালা শিথিলের প্রতিক্রিয়া বোঝা যাবে। অর্থনীতি চাঙ্গা করতে কয়েক মাসের প্রণোদনার পর নীতিমালা শিথিল করে চীন।

চীনের পরিসংখ্যান প্রসঙ্গে হংকংয়ে অবস্থিত ফরাসি করপোরেট ও বিনিয়োগ ব্যাংক ন্যাটিক্সসের এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান অর্থনীতিবিদ অ্যালিসিয়া গার্সিয়া হেরেরো বলেন, নীতিমালা শিথিলের পর চীনের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার হলো কিনা, তা চলতি মাসে প্রকাশিত অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানগুলো থেকে জানা যাবে। আর অর্থনীতিটি ঘুরে না দাঁড়ালে আমাদের চিন্তিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে বিশ্বের বৃহত্তম রফতানি বাজার ছিল চীন। ফলে দেশটির ওপর বৈশ্বিক বাণিজ্যের উত্থান-পতন বহুলাংশে নির্ভরশীল।

চলতি বছর বিশৃঙ্খলভাবে শুরু করেছে বৈশ্বিক অর্থনীতি। এ পরিস্থিতিতে মার্চের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর প্রভাব বিনিয়োগকারীদের মনোভাব নির্ধারণে ভূমিকা পালন করবে। এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) জানুয়ারিতে বিশ্ব অর্থনীতির পূর্বাভাস হ্রাস করেছে। সংস্থাটির মতে, চলতি বছর বিশ্ব অর্থনীতি তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল গতিতে সম্প্রসারিত হবে।

এদিকে গত বছরের চতুর্থ প্রান্তিকের উপাত্তে মার্কিন অর্থনীতির ঝুঁকি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। চতুর্থ প্রান্তিকে মার্কিন অর্থনীতি প্রত্যাশার চেয়ে ধীরে বার্ষিক ২ দশমিক ৯ শতাংশ হারে সম্প্রসারিত হয়েছে। কার্ল রিকাডোনার নেতৃত্বাধীন ব্লুমবার্গের মার্কিন অর্থনীতিবিদদের মতে, আপাতদৃষ্টিতে মার্কিন অর্থনীতি গত বছরের শেষদিকে একটি ঝুঁকি এড়াতে সক্ষম হয়েছে। তবে ভবিষ্যৎ এখনো ঝুঁকিমুক্ত নয়।