স্মার্টফোনে ফোল্ডিং স্ক্রিন : অ্যাপল-গুগলের কাছে প্রযুক্তি বেচতে চায় স্যামসাং

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

ফোল্ডিং স্ক্রিন বা ভাঁজ করা পর্দার স্মার্টফোনকে বলা হচ্ছে হ্যান্ডসেটের ইতিহাসে নতুন মাইলফলক। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী দিনে এ প্রযুক্তিই গ্যাজেটের বাজারে সবচেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তার করবে। এরই মধ্যে স্যামসাং-হুয়াওয়ের মতো প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ কয়েকটি কোম্পানি ফোল্ডিং স্মার্টফোন বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। তবে এবার জানা গেল, স্যামসাং শুধু ফোল্ডিং হ্যান্ডসেট এনে ক্ষান্ত হয়নি, বরং অ্যাপল ও গুগলের মতো প্রতিযোগীদের কাছেও এ প্রযুক্তি বিক্রি করতে চাইছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোয় এক অনুষ্ঠানে স্যামসাং প্রথমবারের মতো ভাঁজ করা পর্দার হ্যান্ডসেট বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দেয়। এ হ্যান্ডসেটটিকে ডাকা হচ্ছে গ্যালাক্সি ফোল্ড নামে। এতে ইনফিনিটি ফ্লেক্স টেকনোলজি ব্যবহার হয়েছে, যার সাহায্যে ৪ দশমিক ৬ ইঞ্চির একটি স্মার্টফোনকে ৭ দশমিক ৩ ইঞ্চির ট্যাবে পরিণত করা যায়।

ইটি নিউজ নামের এক কোরীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এরই মধ্যে গ্যালাক্সি ফোল্ডের মতো পর্দা ভাঁজ করার প্রযুক্তির নমুনা গুগল ও অ্যাপলের কাছে পাঠিয়েছে স্যামসাং। দক্ষিণ কোরিয়াভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটির উদ্দেশ্য, গুগল ও অ্যাপলও যেন বাণিজ্যিকভাবে ফোল্ডিং হ্যান্ডসেট তৈরি করে।

প্রতিযোগী বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কাছে স্যামসাংয়ের প্রযুক্তি সরবরাহের ঘটনা এটাই প্রথম নয়। এর আগেও স্যামসাং অ্যাপলের কাছে আইফোনের ডিসপ্লে সরবরাহ করেছে। প্রধান বাজার প্রতিযোগী হওয়া সত্ত্বেও স্যামসাং একই সঙ্গে অ্যাপলের বাণিজ্যিক অংশীদার। এজন্য স্যামসাং এখন অ্যাপলের কাছে আইফোনের জন্য ফোল্ডিং স্ক্রিন সরবরাহ করতে চাইছে।

ফোল্ডেবল স্ক্রিন হ্যান্ডসেট নিয়ে অ্যাপলের আগ্রহ নতুন নয়। এ নিয়ে বাজারে অনেক আগে থেকেই কানাঘুষা চলছে। অ্যাপলকে বলা হয় গ্যাজেটের জগতের ধারা প্রবর্তনকারী। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে অ্যাপলের একটি পেটেন্টের কথা জানা যায়, যেখানে ফোল্ডেবল আইফোনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ২০১৯ সালে যেসব আইফোন বাজারে ছাড়া হতে পারে, তাতে ফোল্ডিং স্ক্রিন যুক্ত থাকবে না। ২০২০ সাল নাগাদ অ্যাপল ফোল্ডিং স্ক্রিনের হ্যান্ডসেট বাজারে ছাড়তে পারে।

আরেক টেক জায়ান্ট গুগলও একই পথে হাঁটতে চায়। মার্কিন সার্চ জায়ান্টটির পিক্সেল ফোর হ্যান্ডসেটে ফোল্ডেবল স্ক্রিন সুবিধা যুক্ত থাকতে পারে বলে গুঞ্জন আছে। তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত তেমন কিছু এখনো জানা যায়নি।

ইটি নিউজ জানিয়েছে, স্যামসাং যে নমুনা স্ক্রিন পাঠিয়েছে, তার দৈর্ঘ্য ৭ দশমিক ২ ইঞ্চি, যা গ্যালাক্সি ফোল্ডের মূল প্যানেলের চেয়ে দশমিক ১ ইঞ্চি ছোট। ওই নমুনা সম্পর্কে আর বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। বর্তমান উৎপাদন সক্ষমতা বিবেচনায় স্যামসাং এক বছরের মধ্যে ২৪ লাখ ফোল্ডিং স্ক্রিন তৈরি করতে পারবে। তবে চাহিদা বিবেচনা করে প্রতিষ্ঠানটি এ সক্ষমতা এক কোটিতে উন্নীত করতে চায়।

অ্যাপলের আইফোন টেনএস এবং টেনএস ম্যাক্সের বেশির ভাগ ওএলইডি প্যানেল স্যামসাংয়ের সরবরাহ করা। গত বছর আরেক কোরীয় জায়ান্ট এলজি আইফোনের জন্য ওএলইডি স্ক্রিন সরবরাহকারীর তালিকায় যুক্ত হয়। তবে আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে, এলজি খুব সহসাই আইফোনের জন্য ফোল্ডিং স্ক্রিন সরবরাহের দৌঁড়ে স্যামসাংয়ের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে না। তবে ফোল্ডিং স্ক্রিনের বাজার দখলে স্যামসাংয়ের মূল প্রতিযোগী হতে পারে হুয়াওয়ে। অনেকে চীনা হ্যান্ডসেট নির্মাতাটির মেট এক্স স্মার্টফোনকে গ্যালাক্সি ফোল্ডের চেয়ে বেশি আকর্ষণীয় তকমা দিয়েছেন।

ফোল্ডিং স্ক্রিনের ব্যাপারে অ্যাপল কী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। স্যামসাংয়ের গ্যালাক্সি ফোল্ডের দাম ধরা হয়েছে ১ হাজার ৯৮০ ডলার, যা বেশির ভাগ ট্যাবলেট এমনকি ল্যাপটপের চেয়েও ব্যয়বহুল। এজন্য অ্যাপল হয়তো ব্যয় কমানোর চেষ্টা চালাতে পারে। এজন্য প্রতিষ্ঠানটি আরো সস্তা ডিসপ্লে বা সহজতর নকশার জন্য অপেক্ষা করতে পারে।

ফোল্ডিং স্ক্রিন প্রযুক্তি নিয়ে স্যামসাং হুয়াওয়ে ও অপোর সঙ্গেও যোগাযোগ করছে। নমুনা পাঠানোর দাবি সত্য হলে আগামীতে প্রত্যাশিত সময়ের আগেই অ্যাপল ও গুগলের ফোল্ডেবল সেট বাজারে আসতে পারে। এমনটি হলে আগামীতে ফোল্ডিং হ্যান্ডসেটই হবে গ্যাজেট জগতের প্রধান পণ্য।