ভারতের নির্বাচনী অনিশ্চয়তা শেয়ারবাজারে প্রভাব ফেলবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

ভারতের আসন্ন লোকসভা নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট অনিশ্চয়তা ঘিরে দুশ্চিন্তায় রয়েছে দেশটির শেয়ারবাজার। বিনিয়োগকারীরা বেশ হিসাব কষেই পা ফেলছেন। তবে নির্বাচনী অনিশ্চয়তা থাকলেও এইচএসবিসি, বিএনপি পারিবাস ও মরগান স্ট্যানলির মতো বিদেশী ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানগুলো ভারতের ইকুইটি বাজার নিয়ে বেশ আত্মবিশ্বাসী। প্রতিষ্ঠানগুলো মনে করছে, সংস্কার কার্যক্রম, নিম্ন সুদহারের মতো প্রভাবকগুলোর কারণে নির্বাচন ও এর পরবর্তী ফলাফল ইকুইটি বাজারে খুব বেশি প্রভাব ফেলবে না। এ মূল্যায়ন বিনিয়োগকারীদের স্বস্তি দিতে পারে। খবর বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।

সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এইচএসবিসি ভারতবিষয়ক তাদের মূল্যায়ন সূচক ‘নিউট্রাল’ থেকে বাড়িয়ে ‘ওভারওয়েট’ করেছে। বর্তমানে সৃষ্ট পরিস্থিতিতেও ভারতের আর্থিক, ধাতু ও ভোক্তা ঐচ্ছিক খাতগুলো ভালো অবস্থায় থাকবে বলে প্রত্যাশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

দেবেন্দ্র জোশি ও প্রেরণা গার্গের সঙ্গে যৌথভাবে এইচএসবিসির এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের ইকুইটি স্ট্র্যাটেজি বিভাগের প্রধান হেরাল্ড ভ্যান ডার লিন্ডে লিখিত প্রতিবেদনে বলছেন, নির্বাচন সত্ত্বেও ২০১৮ সালের তুলনায় ২০১৯ সালে ভারতের সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট ভালো থাকবে বলে প্রত্যাশা করছি। মূল্যস্ফীতি কম এবং আমাদের অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এপ্রিলে সুদহার কমানো হতে পারে। ভারতের সার্বিক জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়বে বলে আশা করছি। আর সম্ভবত জিএসটির মতো সংস্কারের কারণে এ প্রবৃদ্ধি হতে পারে।

তিনি আরো বলেন, পুরো অঞ্চলের মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী আয় প্রবৃদ্ধি ভারতে বজায় থাকবে। এ মুহূর্তে এ অঞ্চলের যে দুটি বড় আন্ডারওয়েট (স্টক) মার্কেট রয়েছে, তার একটি রয়েছে খোদ ভারতে।  সবকিছু মিলিয়ে আমাদের দৃষ্টি অনুযায়ী, ভারতের বাজার ভালো থাকবে বলেই মনে হচ্ছে।

২০১৯ পঞ্জিকা বর্ষে ভারতীয় বেঞ্চমার্কগুলো বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় সূচকের তুলনায় ভালো মুনাফা করতে পারেনি, মুনাফা করেছে প্রায় ১ দশমিক ৮ শতাংশ। নাসডাক কম্পোজিটে সিএসি-৪০, হ্যাং সেং, এসঅ্যান্ডপি-৫০০, ডিজেআইএ, এফটিএসই ও করাচি-১০০ একই সময়ে ৬ শতাংশ থেকে ১২ দশমিক ১ শতাংশ মুনাফা করেছে। এদিকে বিএনপি পারিবাসের বিশ্লেষকরাও প্রত্যাশা করছেন, এসঅ্যান্ডপি বিএসই সেনসেক্স বর্তমান অবস্থান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৪০ হাজার সূচকে পৌঁছাবে, যা বর্তমান স্তরের তুলনায় ৮ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। তবে ২০১৯ পঞ্জিকা বর্ষের প্রথমার্ধে নির্বাচনসংক্রান্ত সংঘাতের কারণে সতর্ক থাকতে বলেছে প্রতিষ্ঠানটি। বিএনপি পারিবাস ইন্ডিয়ার ইন্ডিয়া ইকুইটি গবেষণা বিভাগের প্রধান অভিরাম ইলেশ্বরপু সম্প্রতি প্রকাশিত ‘ইন্ডিয়া স্ট্র্যাটেজি’ রিপোর্টে বলছেন, নির্বাচনী অনিশ্চয়তা, তেলের দাম বৃদ্ধি ও আয় হ্রাস এবং হাই-ফ্রিকোয়েন্সি উপাত্তগুলো দুর্বল হয়ে পড়ার সম্ভাবনার কারণে ২০১৯ পঞ্জিকা বর্ষের প্রথমার্ধ শেয়ারবাজারের জন্য একটি কঠিন সময় হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে একটি অত্যন্ত প্রতিকূল নির্বাচনী ফলাফলকে চলমান নীতি সংস্কার, নিম্ন সুদহার, ব্যাংকে সম্পদমানের উন্নতি এবং করপোরেট মূলধন ব্যয়ে উন্নতি  ইতিবাচক করে তুলতে পারে। চলতি বছরের ১১ এপ্রিল থেকে ভারতের ১৭তম লোকসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

বেজ-কেস বা আনুমানিক হিসাবে ৫০ শতাংশ সম্ভাব্যতা ধরে নিয়েছে মরগান স্ট্যানলি। তারা আশা করছে, এসঅ্যান্ডপি বিএসই সেনসেক্স ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৪২ হাজারে পৌঁঁছাতে পারে, যা বর্তমান স্তর থেকে প্রায় ১৪ শতাংশ বেশি। প্রতিষ্ঠানটির ‘বুল-কেস’ হিসেবে সূচক পৌঁছাবে ৪৭ হাজারে এবং ‘বেয়ার-কেস’ প্রেক্ষিতে ৩৩ হাজারে।

শিলা রথির সঙ্গে লেখা প্রতিবেদনে মরগান স্ট্যানলির ইন্ডিয়া রিসার্চের প্রধান এবং ভারতের ইকুইটি বিশেষজ্ঞ রিদহাম দেশাই বলছেন, নির্বাচন ঘিরে যেসব খবর ঘুরছে, তাতে একটি গোলমেলে নির্বাচনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে মে মাসের ফলাফল সম্পর্কে এখনই বলার সময় আসেনি। যদি আমরা প্রবৃদ্ধি চক্র নিয়ে সঠিক থাকি, তবে ২০১৯ সালের শেষ আসতে আসতে ব্যালট প্রভাব হ্রাস পেতে পারে, যদিও শেয়ারের দামে কিছু উত্থান-পতন চলমান রয়েছে।

এইচএসবিসি ও মরগান স্ট্যানলির উভয় প্রতিষ্ঠানই মনে করছে, করপোরেট আয় প্রবৃদ্ধি বজায় থাকবে। এইচএসবিসি অনুমান করছে, ২০১৯ সালেই প্রবৃদ্ধি হবে ২৪ দশমিক ৫ শতাংশ। এ প্রবৃদ্ধিতে শীর্ষ পাঁচ অবদানকারী হবে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া, এক্সিস ব্যাংক, আইসিআইসিআই ব্যাংক ও টাটা মোটরস। মোট প্রবৃদ্ধির প্রায় অর্ধেক আসবে এদের হাত দিয়ে। ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) যদি আসন্ন নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা (একদলীয়) পায়, তবে ইউবিএস অনুমান করছে, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নিফটি৫০ দাঁড়াবে প্রায় ১০ হাজার থেকে ১১ হাজার ৯০০ পয়েন্টে। আর যদি বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়, তবে এটি দাঁড়াবে ৯ হাজার ৪০০ থেকে ১১ হাজার ৩০০ পর্যন্ত।