১২ মের মধ্যে দেশের সব টিভি বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

আগামী ১২ মের মধ্যে দেশের সব টেলিভিশন চ্যানেল সম্প্রচারে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট ব্যবহার করবে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, স্যাটেলাইট কর্তৃপক্ষ প্রথম তিন মাস বিনামূল্যে সেবা দেবে। সবার সঙ্গে আলোচনা করে সেবার দাম নির্ধারণ করা হবে। পাশাপাশি আগামী ১ এপ্রিলের মধ্যে বিদেশি চ্যানেলে বাংলাদেশের বিজ্ঞাপন প্রচার বন্ধ না করলে সরকার ব্যবস্থা নেবে।

সোমবার সচিবালয়ে টেলিভিশন মালিকদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্স-অ্যাটকোর সঙ্গে বৈঠক শেষে মন্ত্রী সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান এমপি, তথ্য সচিব আবদুল মালেক, বাংলাদেশ কমিউনিকেশন্স স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিএসসিএল) চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ, মাছরাঙা টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও অ্যাটকোর সদস্য অঞ্জন চৌধুরী, এশিয়ান টিভির চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ, ডিবিসি নিউজের চেয়ারম্যান ইকবাল সোবহান চৌধুরী, একাত্তর টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল বাবুসহ বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের প্রধান নির্বাহীরা উপস্থিত ছিলেন।

তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, ১২ মে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের এক বছর পূর্তি হবে। ওইদিন বাংলাদেশের সব টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রচার বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে করা হবে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট কর্তৃপক্ষ তিন মাস বিনামূল্যে সেবা দেবে। স্যাটেলাইট কর্তৃপক্ষ ওইদিন ফাইবার অপটিক কেবলের মাধ্যমে গাজীপুরের সজীব ওয়াজেদ গ্রাউন্ড স্টেশনে নিয়ে যাবে। সেখান থেকে আপলিঙ্ক ও ডাউনলিঙ্ক করা হবে। সে জন্য স্যাটেলাইট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পাবলিক নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আইন অনুযায়ী বিদেশি চ্যানেলের মাধ্যমে বাংলাদেশি বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এটা ভারত, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপেও দণ্ডনীয় অপরাধ। ইতিমধ্যে কেবল অপারেটরদের সতর্ক করা হয়েছে। ১ এপ্রিলের পর থেকে কেউ এ আইন ভঙ্গ করলে সরকার ব্যবস্থা নেবে।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশে ৪৪টি টেলিভিশন চ্যানেলের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩০টি বা এর চেয়ে বেশি সম্প্রচারে রয়েছে। ৪৪টির বাইরে টেলিভিশন চ্যানেল নামে যেগুলো করা হয়, সেগুলো সব অননুমোদিত।

 টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রি দুর্বল হয়ে পড়েছে। বিজ্ঞাপনের বাজার ছোট। তারপরও বিজ্ঞাপন যতটুকু ছিল তার একটা বড় অংশ বিদেশে পাচার হচ্ছে। আরেকটা বড় অংশ ডিজিটাল মিডিয়ায় অবৈধভাবে পাচার হয়ে যাচ্ছে। এগুলো বন্ধের ব্যাপারে তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রীর কাছ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস পাওয়া গেছে।