সহকারী কমিশনারদের জন্য কেনা হচ্ছে ২০৬টি গাড়ি

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

ভূমি মন্ত্রণালয়ের সহকারী কমিশনারদের জন্য ২০৬টি পিকআপ ক্রয় করা হবে। এ ছাড়া চাহিদা মেটাতে ৪ লাখ টন ইউরিয়া সার ও ৫০ হাজার টন গম আমদানি করবে সরকার।


উল্লিখিত কেনাকাটাসহ ১০টি প্রকল্পের কেনাকাটার অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত এবং অর্থনৈতিক সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এতে মোট ব্যয় হবে ৮০৯ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।

বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি প্রস্তাবগুলো অনুমোদন দেয়। বৈঠকে কমিটির সদস্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সচিব, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে বলেন, সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন সহকারী কমিশনারদের জন্য ডাবল কেবিন পিকআপ ক্রয় করা হবে। এগুলো কেনা হবে সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে। এতে মোট ব্যয় হবে ১০৩ কোটি টাকা। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক কোটেশনের মাধ্যমে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আহূত প্যাকেজ-৮-এর আওতায় ৫০ হাজার টন গম ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়। অস্ট্রেলিয়ার কোম্পানি জে কে ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেড থেকে প্রায় ২৭২ মার্কিন ডলার প্রতি টন দামে এ গম কেনা হবে। প্রতি কেজি ২৩ টাকা। এতে ব্যয় হবে ১১৪ কোটি ১৩ লাখ টাকা।

এর আগে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশে ইউরিয়া সারের চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে সৌদির বিসিক ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (সাবিসি) সৌদি আরব থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির মাধ্যমে ৪ লাখ ৫ হাজার টন ইউরিয়া সার আমদানির প্রস্তাব নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এটি কেনার সময় বাজারমূল্য অনুসরণ করা হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, পায়রা সমুদ্রবন্দরের প্রথম টার্মিনাল এবং আনুষঙ্গিক সুবিধাদি নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে মোট ব্যয় হবে ৭৯ কোটি ৫২ লাখ টাকা। এ ছাড়া নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীন পায়রা সমুদ্রবন্দর বাস্তবায়িত হলে ওই অঞ্চল বাণিজ্যিক হাবে পরিণত হবে। ফলে ভারত, ভুটান, নেপাল ও চীনের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়বে। পদ্মা সেতু অর্থবহ হয়ে উঠবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ও বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, খুলনা কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন খুলনা শহরে অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ কনভেনশন সেন্টার নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১১৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা। প্রকল্পের আওতায় দুই তলা বেজমেন্টসহ ১৫ তলা বিল্ডিং ও শহরে কনভেনশন সেন্টার নির্মাণ করা হবে।

এদিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মিজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল স্থাপন শীর্ষক প্রকল্পের পণ্য ক্রয়ের জন্য প্রতিষ্ঠান নিয়োগের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। কোরিয়ার ফান্ডের আওতায় এ যন্ত্রাংশ কিনতে ব্যয় হবে ২৭৭ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের চারটি প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। রূপকল্প-১ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় শ্রীকাইল ইস্ট-০১-এর তিনটি প্রস্তাবে কূপ খনন এলাকায় অস্থায়ী শ্রমিক ও আনসার ক্যাম্প এবং কেমিক্যালস সংরক্ষণের জন্য দুটি গোডাউন নির্মাণ, অনুসন্ধান কূপ খনন ড্রিল সিস্টেম টেস্টিং ও ওয়্যার লাইন লগিং সার্ভিস সেবা গ্রহণের প্রস্তাব অনুমোদন। তিনটি প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ কোটি ৮১ লাখ টাকা। রূপকল্প-২ শীর্ষক প্রকল্পের অধীন জকিগঞ্জ-১ কূপ খনন কাজে নিয়োজিত অস্থায়ী শ্রমিক ও আনসারদের জন্য আবাসিক ক্যাম্প নির্মাণ, নিরাপত্তা বেষ্টনী, চৌকি, কেমিক্যাল গোডাউন নির্মাণ কাজের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ২ কোটি ২৪ লাখ টাকা।