ড. সামাদ মুয়াজ্জিন ছিলেন, ইমামতিও করতেন

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

নিউজিল্যান্ডে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের তিনজন বাংলাদেশি। এদের একজন ড. মো. আব্দুস সামাদ। তার তিন ছেলের মধ্যে বড় ছেলে তোহা মোহাম্মদ শুধু ঢাকায় থাকেন। চাকরি করেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে।

আর বাকি দুই ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে নিউজিল্যান্ডে বসবাস করছিলেন ড. সামাদ।


 
ড. সামাদের বড় ছেলে তোহা গতকাল বলেছিলেন, বাবা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন সেটা আমরা নিশ্চিত। খবর শুনে মা আর ছোট ভাই হাসপাতালে গিয়েছিল। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের কাছে নিশ্চিত করেনি যে বাবা মারা গেছেন।

তারা বলছেন, যারা গুলিবিদ্ধ হয়ে এসেছেন তাদের সবার চিকিৎসা চলছে। এখন যেহেতু সেখানে রাত, সকালে নিশ্চিত হওয়া যাবে আসলে বাবার অবস্থা কী? বাবা-মা ও দুই ভাই সবাই নিউজিল্যান্ডের নাগরিক। বাবা ওই মসজিদের মুয়াজ্জিন হিসেবে কাজ করতেন। আর আরবের একজন ইমাম ছিলেন, তিনি না থাকলে বাবা ইমামতিও করতেন।

ড. সামাদ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। গত ৮-১০ বছর ধরে স্ত্রী ও দুই ছেলে নিয়ে নিউজিল্যান্ডের নাগরিকত্ব পেয়ে সেখানেই বসবাস করছিলেন তিনি। তবে মাঝে মাঝে তিনি দেশে আসতেন।


 
এদিকে, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিতত্ত্ব বিভাগের প্রফেসর ড. সুলতান উদ্দিন ভূঞা সাংবাদিকদের বলেছেন, ড. সামাদ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের কৃষিতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। তিনি গত বছর চাকরি থেকে ইস্তফা দেন। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদে লেখাপড়া শেষ করে ১৯৮০ সালে ড. সামাদ কৃষিতত্ত্ব বিভাগে প্রভাষক পদে যোগদান করেন।

এর আগে তিনি একবছর বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে চাকরি করেছেন। চাকরিরত অবস্থায় ১৯৮৮ সালে তিনি নিউজিল্যান্ডের লিংকন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। ওই সময় নিউজিল্যান্ডেই তার দুই ছেলের জন্ম হয়।

স্বামী বেঁচে গেলেও মারা গেলেন পারভীন

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত তিন বাংলাদেশির মধ্যে একজন সিলেটের হুসনে আরা পারভীন (৪২)৷ সন্ত্রাসী হামলা থেকে বেঁচে গেছেন তার অসুস্থ স্বামী ফরিদ উদ্দিন আহমদ৷ ফরিদ উদ্দিনের বাড়ি বিশ্বনাথ উপজেলার চকগ্রামে৷ আর তার স্ত্রী হুসনে আরা পারভীনের বাবার বাড়ি সিলেটের গোলাপগঞ্জের জাঙ্গালহাটা গ্রামে৷

নিউজিল্যান্ডে বসবাসকারী স্বজনদের বরাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিহত হুসনে আরার ভাগ্নে মাহফুজ চৌধুরী৷ তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ এলাকায় একটি মসজিদ রয়েছে৷ এই মসজিদের একাংশে নারীরা ও অন্য অংশে পুরুষরা নামাজ আদায় করেন৷ ঘটনার প্রায় আধঘণ্টা আগে আমার খালা হুসনে আরা তার অসুস্থ স্বামীকে (প্যারালাইসড) নিয়ে মসজিদে যান৷ সেখানে খালা তার স্বামীকে হুইল চেয়ার করে মসজিদে পুরুষদের অংশে ভেতরে রেখে নিজে নারীদের অংশে নামাজ আদায় করতে যান৷ প্রায় ১৫ মিনিট পর গুলির শব্দ শুনে পারভীন তার স্বামীকে বাঁচানোর জন্য বের হন৷ এ সময় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী তাকে গুলি করলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান৷''