সেকেন্ডহ্যান্ড স্মার্টফোন বাজারের প্রবৃদ্ধি কমেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

২০১৮ সালে বৈশ্বিক সেকেন্ডহ্যান্ড বা পরিমার্জিত স্মার্টফোন বাজারের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ১ শতাংশ কমেছে। তা সত্ত্বেও গত বছর পরিমার্জিত স্মার্টফোন সরবরাহ ১৪ কোটি ইউনিটে পৌঁছেছে। গত বৃহস্পতিবার বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন তথ্যই উঠে এসেছে। খবর ইন্দো-এশিয়ান নিউজ সার্ভিস।

রিফার্বিশড বা পরিমার্জিত স্মার্টফোন বলতে সাধারণত পুরনো হ্যান্ডসেটের কিছু সরঞ্জাম পরিবর্তন করে নতুন আঙ্গিকে বাজারে ছাড়াকে বোঝানো হয়। হ্যান্ডসেট বাজারে হাই-এন্ড ডিভাইসগুলোর পরিমার্জিত সংস্করণ বেশি ছাড়া হয়। কারণ এ ধরনের উচ্চমূল্যের ডিভাইস সবার ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকে না। ডিভাইস এক্সচেঞ্জ অফারের আওতায় স্যামসাং ও অ্যাপলের মতো প্রিমিয়াম হ্যান্ডসেট নির্মাতারা গ্রাহকদের কাছ থেকে পুরনো মডেলের স্মার্টফোন সংগ্রহ করছে। এসব ডিভাইসের কেসিং ও ব্যাটারি পরিবর্তন করে সাশ্রয়ী দামে বাজারে ছাড়া হয়।

কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের ‘রিফার্বিশড স্মার্টফোন ট্র্যাকার’ শীর্ষক প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রিমিয়াম স্মার্টফোনের গুরুত্বপূর্ণ দুই বাজার চীন ও যুক্তরাষ্ট্র। রিফার্বিশড স্মার্টফোনের সবচেয়ে বড় সরবরাহকারী এ দুই দেশে গত বছর নতুন ডিভাইসের বিক্রি ১১ শতাংশ কমেছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সেকেন্ডারি বা পরিমার্জিত স্মার্টফোন বাজারে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে নতুন হ্যান্ডসেট বিক্রি কমার কারণে পরিমার্জিত স্মার্টফোন বাজারে সরবরাহ কমেছে।

কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যৌথভাবে বৈশ্বিক পরিমার্জিত স্মার্টফোন বাজারের ৭০ শতাংশ দখলে নিয়ে আধিপত্য বিস্তার করে আছে স্যামসাং ও অ্যাপল। তবে চীনভিত্তিক হুয়াওয়ে পরিমার্জিত স্মার্টফোন বাজারে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিশেষ করে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় হুয়াওয়ের পরিমার্জিত স্মার্টফোনের চাহিদা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।

বিবৃতিতে কাউন্টারপয়েন্টের গবেষণা পরিচালক টম কাং জানান, বিশ্বব্যাপী ভোক্তা পর্যায়ে হ্যান্ডসেট হালনাগাদের প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। বিশেষ করে, প্রিমিয়াম স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা এখন আর প্রতি বছর ডিভাইস পরিবর্তন করছেন না। চীন-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্য উত্তেজনার কারণে গত বছরের প্রথমার্ধে বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারে নতুন ডিভাইস সরবরাহ কমেছে, যা বৈশ্বিক পরিমার্জিত স্মার্টফোন বাজারের প্রবৃদ্ধি হ্রাসের প্রধান কারণ।

তিনি বলেন, সাশ্রয়ী মূল্যে প্রিমিয়াম স্মার্টফোনের সুবিধা দিতে বেশির ভাগ পরিমার্জিত স্মার্টফোন দীর্ঘমেয়াদি ওয়ারেন্টি সুবিধাসহ বিক্রি করা হয়। যে কারণে পরিমার্জিত ডিভাইস কিনতে দ্বিধা করছেন না ক্রেতারা।

বিশ্বব্যাপী পরিমার্জিত স্মার্টফোনের ব্যবহার বৃদ্ধিকে ইতিবাচক বলে মনে করা হচ্ছে। মোবাইল ডিভাইসের ব্যবহার বাড়লেও অকার্যকর হয়ে যাওয়ায় বিপুলসংখ্যক হ্যান্ডসেটের রিসাইক্লিং তেমন বড় আকারে ঘটছে না। অন্যদিকে পরিবেশবান্ধব পণ্য উৎপাদনে সংগ্রাম করে যাচ্ছে বৈশ্বিক স্মার্টফোন শিল্প। পরিবেশের ওপর ই-বর্জ্যের প্রভাব নিয়ে সমালোচনা ক্রমে বাড়তে থাকার মধ্যেই ময়লার ঝুড়িতে ফেলে দেয়া বা ড্রয়ারের কোনায় পড়ে থাকা মোবাইল ফোনের ভাগ্য বদলাতে শুরু করেছে।

বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠনের ভাষ্যে, মানুষ প্রযুক্তি ভালোবাসে। তারা আধুনিক প্রযুক্তি আর নতুন বৈশিষ্ট্যকে ভালোবাসে। কিন্তু আমাদের প্রযুক্তি ঘোরের ভয়াবহ দিকটি হলো বিপুল পরিমাণ ই-বর্জ্য নগরের বাইরে জমছে এবং এগুলো এশিয়া ও আফ্রিকার আবর্জনার স্তূপে ফেলা হচ্ছে।

জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৬ সালে পুরো বিশ্বের ই-বর্জ্যের ৯ শতাংশ ছিল স্মার্টফোনের মতো ছোট যন্ত্রাংশ, যা ২০১৪ সালের চেয়ে ৭ শতাংশ বেশি। তবে মোবাইল ফোন খাতের এ চিত্র ধীরগতিতে হলেও বদলাতে শুরু করেছে। ২০১৭ সালে রিফার্বিশড বা পরিমার্জিত স্মার্টফোন বাজারের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ছিল ১৩ শতাংশ। কেবল ব্যাটারি বা স্ক্রিন বদলানোর প্রয়োজন, এ ধরনের ব্যবহূত স্মার্টফোন বিক্রি বৃদ্ধির পেছনে সেসব গ্রাহকের ভূমিকা রয়েছে, যারা নতুন মডেলের সামান্য নতুনত্বের জন্য আরো অর্থ ব্যয় করতে নারাজ।