দুই বছর ধরে সক্ষমতা অব্যবহূত বিআইডব্লিউটিসির চার জাহাজের

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ঢাকার পানগাঁও বন্দরে কনটেইনার পরিবহনের জন্য ২০০৯ সালে চারটি জাহাজ নির্মাণের প্রকল্প অনুমোদন করে একনেক। কয়েক দফা সময় বৃদ্ধির পর নির্মাণ শেষ হলে ২০১৭ সালের জুনে চারটি জাহাজ বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) বহরে যোগ হয়। তবে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন না হওয়ায় প্রায় দুই বছর ধরে জাহাজগুলো কনটেইনার পরিবহন করতে পারছে না। এতে কনটেইনার পরিবহন সক্ষমতা অব্যবহূত থাকায় রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।

সূত্র জানায়, অভ্যন্তরীণ নৌপথে কনটেইনার পরিবহনের জন্য ২০০৯ সালের ২২ ডিসেম্বর একনেকে চারটি জাহাজ নির্মাণের প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। প্রকল্পের মেয়াদ দুই দফা বাড়িয়ে ২০১৭ সালের জুনে জাহাজগুলো বিআইডব্লিউটিসিকে হস্তান্তর করা হয়।

বিআইডব্লিউটিসি কর্মকর্তারা জানান, কোনো জাহাজ সমুদ্রে চলাচল করতে হলে বিভিন্ন চুক্তি, অনুমোদন ও সনদ প্রয়োজন হয়। এ কাজগুলো সম্পন্ন করতে সময় লাগছে। যদি দ্রুত এ জটিলতা কাটিয়ে ওঠা যেত তাহলে জাহাজগুলো এত দীর্ঘ সময় কর্ণফুলীতে ফেলে রাখা হতো না।

তবে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত কনটেইনার আনা-নেয়া করতে হয়। সড়কপথে বা রেলপথে যানজটসহ অন্যান্য কারণে সময়মতো কনটেইনার ডেলিভারি দেয়া সম্ভব হয় না। নৌপথে একটু খরচ বেশি হলেও তা অনেক নিরাপদ। এ কারণে কনটেইনার জাহাজের চাহিদা এখন অনেক বেশি। এ অবস্থায় বিআইডব্লিউটিসি চারটি কনটেইনার জাহাজ নির্মাণ করলেও শুধু আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সেগুলো চলাচলের অনুমোদন না পাওয়ার বিষয়টি সত্যিই হতাশাজনক।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ্ বণিক বার্তাকে বলেন, সরকারের এ উদ্যোগ ভালো থাকলেও তাদের নীতিগত জটিলতার কারণে প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখেনি। সরকারি জাহাজ হওয়া সত্ত্বেও কেন অনুমোদন পাওয়া নিয়ে জটিলতায় থাকবে। এ জাহাজে কনটেইনার আনা-নেয়া করতে ঢাকার ব্যবসায়ী কিংবা স্টেকহোল্ডারদের কাছে এমনভাবে প্রস্তাব দিতে হবে, যাতে তারা আগ্রহী হয়। সড়ক বা রেলপথের তুলনায়  খরচ বেশি হলে জাহাজে কেউ কনটেইনার পাঠাতে আগ্রহী হবে না। এজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মূল্য নির্ধারণসহ সব জটিলতা দ্রুত সমাধান করে জাহাজগুলো চলাচলে জরুরি পদক্ষেপ নেবে এমন প্রত্যাশা করি।

জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিসির উপমহাব্যবস্থাপক গোপাল চন্দ্র মজুমদার বণিক বার্তাকে বলেন, নতুন চারটি জাহাজের মধ্যে তিনটিতে পণ্য বোঝাই করে কক্সবাজারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এ জাহাজগুলো উপমহাদেশের মধ্যে চলাচল করতে পারবে। তবে বিশ্বের বিভিন্ন কনটেইনার কোম্পানির সঙ্গে প্রয়োজনীয় চুক্তি এখনো সম্পন্ন হয়নি। এ কারণে কনটেইনার পরিবহন শুরু করা সম্ভব হয়নি। আমরা আন্তর্জাতিক রুট পারমিট, কাস্টমস, বন্দর ক্লিয়ারেন্সসহ অন্য বিষয়গুলোর কাজ শেষ করেছি। আশা করি দ্রুত জাহাজগুলো কনটেইনার পরিবহন শুরু করবে।

তিনি জানান, কনটেইনার পরিবহন করতে হলে কনটেইনার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জাহাজগুলোর চুক্তি থাকতে হয়। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান দ্রুত কাজটি করলেও সরকারি পর্যায়ে কিছুটা সময় লেগে যাচ্ছে। আমরা এরই মধ্যে বিশ্বের শীর্ষ সাতটি কনটেইনার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রাথমিক চুক্তি করতে যাচ্ছি। এর মধ্যে মার্কস লাইন, ওওসিএল, এমএসসি, সিএমএ-সিজিএম, পিআইএল অন্যতম। পরবর্তীতে আমরা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করব। আগে চুক্তি করা থাকলে কনটেইনার পরিবহনে দেরি হতো না।