নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম উন্নয়ন করেছে হুয়াওয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারে অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম (ওএস) চালিত ডিভাইস দিয়ে ব্যবসা করছে চীনভিত্তিক হুয়াওয়ে টেকনোলজিস লিমিটেড। মার্কিন প্রযুক্তি নির্ভরশীলতা কমাতে নিজস্ব ওএস উন্নয়ন সম্পন্ন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। হুয়াওয়ে কনজিউমার বিজনেস গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রিচার্ড ইউ এক সাক্ষাত্কারে এমনটাই জানিয়েছেন। খবর সাইথ চায়না মর্নিং পোস্ট।

অসাংবিধানিকভাবে টেলিকম সরঞ্জামে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় মার্কিন সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে হুয়াওয়ে। গত সপ্তাহে দায়ের করা এ মামলার কারণে মার্কিন সরকার প্রতিষ্ঠানটির অন্যান্য পণ্যেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে। এছাড়া হুয়াওয়েকে মার্কিন অংশীদারদের সঙ্গে ব্যবসায় সম্পর্ক ছিন্ন করতে বাধ্য করা হতে পারে। বাস্তবে এমন হলে নিজেদের হ্যান্ডসেটে প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগলের অ্যান্ড্রয়েড এবং ল্যাপটপ ও ট্যাবলেটে মাইক্রোসফটের উইন্ডোজ ওএস ব্যবহার করতে পারবে না হুয়াওয়ে। যে কারণে নিজস্ব মোবাইল ওএস উন্নয়ন করেছে প্রতিষ্ঠাটি। শুধু তা-ই নয়, ল্যাপটপ ও ট্যাবলেট ডিভাইসের জন্য উইন্ডোজের বিকল্প ওএস উন্নয়ন সম্পন্ন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

বিশ্বের সবচেয়ে বৃহৎ টেলিকম সরঞ্জাম নির্মাতা এবং দ্বিতীয় বৃহৎ স্মার্টফোন নির্মাতা হুয়াওয়ে। মার্কিন সরকার কোনো ধরনের তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটির পণ্যের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে আসছে। মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ, হুয়াওয়ের পণ্য ব্যবহার করলে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ব্যাহত হবে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের পণ্যের মাধ্যমে গ্রাহক তথ্য সংগ্রহ করছে এবং চীন সরকারের হাতে হস্তান্তর করছে। হুয়াওয়ে বরাবরই এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রও তাদের অভিযোগের সপক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি। উল্টো মিত্রদেশগুলোকে পঞ্চম প্রজন্মের মোবাইল নেটওয়ার্ক প্রযুক্তি ফাইভজির অবকাঠামো নির্মাণে হুয়াওয়ের সরঞ্জাম বর্জনে প্ররোচিত করছে।

রিচার্ড ইউ জানান, ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে আমাদের পণ্যের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। গুগল কিংবা মাইক্রোসফটের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে হলে যাতে ডিভাইস ব্যবসায় কোনো ধরনের প্রভাব না পড়ে, সে লক্ষ্য থেকে নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম উন্নয়ন করা হয়েছে। বিষয়টিকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, আমরা গুগল ও মাইক্রোসফটসহ অন্য মার্কিন অংশীদারদের সঙ্গে ব্যবসা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে চাই। কিন্তু রাজনৈতিক কিংবা আইনি কারণে এসব অংশীদার প্রতিষ্ঠানের সহায়তা ছাড়াই ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা আমাদের রয়েছে। আগাম সতর্কতার অংশ হিসেবে নিজস্ব ওএস উন্নয়ন করা হয়েছে।

২০১২ সালে প্রথম চীনা প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে এবং জেডটিইর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। ওই সময়ই স্মার্টফোনের জন্য নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম উন্নয়নের কাজ শুরু করে হুয়াওয়ে।

বৈশ্বিক মোবাইল ওএস খাতে গুগলের অ্যান্ড্রয়েড এবং অ্যাপলের আইওএস দ্বৈত আধিপত্য বিস্তার করে আছে। বিশ্বব্যাপী ব্যবহূত মোবাইল ডিভাইসের ৯৯ শতাংশেই ব্যবহার হচ্ছে এ দুই ওএস।

সাইথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুয়াওয়ের প্রতিষ্ঠাতা রেন ঝেংফেই বেশ আগেই নিজস্ব ওএস উন্নয়নের পরিকল্পনা নিয়েছিলেন। সে অনুযায়ী কাজও শুরু করেছিলেন। হুয়াওয়ের প্রতিষ্ঠাতার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে ব্যবসায় ঝুঁকি এড়ানোর লক্ষ্যেই নিজস্ব ওএস উন্নয়ন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

হুয়াওয়ে তাদের হ্যান্ডসেটে অ্যান্ড্রয়েডের ওপর ভিত্তি করে তৈরি ইএমইউআই ওএস ব্যবহার করে আসছে। সম্পূর্ণ নতুন অপারেটিং সিস্টেম উন্নয়নের জন্য এরই মধ্যে একাধিক অভিজ্ঞ কর্মকর্তাও নিয়োগ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

বৈশ্বিক ডিভাইস বাজারে ক্রমান্বয়ে আধিপত্য বাড়ছে হুয়াওয়ের। নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম প্রতিষ্ঠানটির ডিভাইস ব্যবসা ইকোসিস্টেম নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ডিভাইসে নিজস্ব ওএস নিয়ে হুয়াওয়ের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্কের ওপর নির্ভর করছে।