এলজিইডিতে বিদেশি পরামর্শক নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

পলিস্ন অঞ্চলের টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) বিশেষভাবে অবদান রাখছে। কিন্তু তাদের দক্ষতা ও সক্ষমতার অভাবে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ ও পরামর্শকের ওপরে নির্ভর করতে হয়। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে দেরিতে হলেও সরকার এলজিইডির মানব সম্পদ উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রকল্প এলজিইডি মন্ত্রণালয় থেকে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হলে সম্প্রতি এর অনুমোদন দেয় সরকার। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এলজিইডিতে বাড়বে কাজের গতি। অর্থের অপচয়ও রোধ করা যাবে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে।

এলজিইডি মন্ত্রণালয় এবং পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠানটি দেশের বিশাল জনবল উন্নয়ন কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। বাজেটের একটি উলেস্নখযোগ্য অংশ এ খাতের কর্মকর্তারা বাস্তবায়ন করে থাকেন। কিন্তু তাদের সীমাবদ্ধতার কারণে অতিমাত্রায় দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ ও পরামর্শকদের ওপর নির্ভর করতে হয়। এতে একদিকে সরকারের অনেক অর্থের অপচয় হয়। অপরদিকে এলজিইডির দক্ষ মানব সম্পদের ঘাটতিও থেকে যাচ্ছে। আবার ২০৪১ সালের ভিশন অনুযায়ী উন্ন্নত দেশও গড়া হবে। এ অবস্থার উন্নয়নে বাংলাদেশে আরো দক্ষ মানব সম্পদ তৈরি করতে হবে। এ জন্য দেরিতে হলেও স্থানীয় সরকার, পলস্নী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিইডি) মন্ত্রণালয় থেকে 'এলজিইডির মানব সম্পদ উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ' একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়। তা অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব-ডিপিপি পাঠানো হলে সব প্রক্রিয়া শেষ করে সরকার গত ১৯ ফেব্রম্নয়ারি অনুমোদন দেয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে ২০১৯ সালের মার্চ থেকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থে এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫০ কোটি টাকা। 

সূত্র আরো জানায়, প্রকল্পের প্রধান প্রধান কাজ হবে এলজিইডি কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়াতে ২৮ জন কর্মকর্তার মাস্টার্স কোর্সের ব্যবস্থা করা। তাতে ব্যয় হবে ১৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা। একই সঙ্গে ৪৮ জনের পোস্ট গ্রাজুয়েট ডিপেস্নামা ডিগ্রির ব্যবস্থা করা। এ কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৯ কোটি ২০ লাখ টাকা। এ ছাড়া ৫৬ জনের জন্য সার্টিফিকেট কোর্সেরও ব্যবস্থা করা হবে। এ কাজে অর্থ ব্যয় ধরা হয়েছে ১১ কোটি ২০ লাখ টাকা। শুধু তাই নয়, শর্ট কোর্সের প্রশিক্ষণও দেয়া হবে। এ কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে এক কোটি ৬৫ লাখ টাকা। কর্মকর্তাদের এসব ডিগ্রি অর্জনের জন্য প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করার জন্য আরও বিভিন্ন অঙ্গে ব্যয় ধরা হয়েছে। যেমন অফিস স্টেশনারি, কর্মকর্তাদের সম্মানী ও আপ্যায়ন, তাদের গাড়ির জন্য গ্যাস, মেরামত বিলও রয়েছে। এছাড়া অফিসের কাজ করার জন্য কম্পিউটারসামগ্রী কেনা ও মেরামেত করারও ব্যবস্থা থাকছে। এসব কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৯ কোটি ৯০ লাখ টাকা। এ ব্যাপারে একটি প্রকল্প এলজিইডি মন্ত্রণালয় থেকে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হলে গত ১৩ ফেব্রম্নয়ারি তা যাচাই-বাছাই করতে পরিকল্পনা কমিশনে পিইসি সভা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মকর্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন অত্যান্ত জরুরি। তাই সভায় কোনো ব্যাপারে ওজর আপত্তি না করা হয়নি। অনুমোদনের জন্য উপস্থান করা হলে সরকারি নিয়মে ১৯ ফেব্রম্নয়ারি পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান অনুমোদন দেন বলে সূত্র জানায়। সংশ্লিষ্ঠ একাধিক কর্মকর্তা এ প্রতিবেদককে জানান, দেরিতে হলেও প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগটি অত্যন্ত সময় উপযোগী। কারণ এলজিইডির কাজ বিশাল। কিন্তু সেই তুলনায় তাদের দক্ষ লোকের অভাব রয়েছে। এর ফলে উন্নয়ন কাজেরও বিঘ্ন ঘটছে।