ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্প এগোচ্ছে না ঠিকমতো

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

ফাস্ট ট্র্যাক বা দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য অগ্রাধিকার পাওয়া কয়েকটি প্রকল্পে এখনও ধীরগতি চলছে। চলতি অর্থবছরের আট মাস পর্যন্ত পাওয়া পরিসংখ্যান বলছে, কোনো কোনো প্রকল্পে ব্যয়ের হার খুবই নগণ্য। জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে বেশিরভাগ প্রকল্পে অর্থ ব্যয়ের হার সন্তোষজনক নয়। পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পে এ সময়ে বরাদ্দের মাত্র ৩ শতাংশ অর্থ ব্যয় হয়েছে।

নতুন করে দায়িত্ব নেওয়ার পর এসব প্রকল্পে গতি বাড়ানোর ঘোষণা দেয় বর্তমান সরকার। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু নানা জটিলতার কারণে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী অর্থ ব্যয় হচ্ছে না। বছরভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়ন না হওয়ায় প্রকল্প থেকে যথাযথ সুফল পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) হালনাগাদ তথ্যমতে, পদ্মা রেল সংযোগ, দোহাজারী-রামু-ঘুমধুম ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণ ও মেট্রোরেল প্রকল্পে অর্থ ব্যয় হয়েছে সবচেয়ে কম হারে। এ ছাড়া পদ্মা সেতু ও পায়রা সমুদ্রবন্দর প্রকল্পে বরাদ্দের তিন ভাগের এক ভাগ ব্যয় হয়েছে ওই আট মাসে। তবে বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প। এ প্রকল্পে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বরাদ্দ এরই মধ্যে ব্যয় করা হয়েছে। অর্থ ব্যয় কম হওয়ার কারণ হিসেবে সংশ্নিষ্টরা বলেছেন, পদ্মা সেতুর জন্য ৪০টি পিয়ারের মধ্যে ২২টির পাইলিং নকশা নতুন করা হয়েছে। যথাসময়ে ঠিকাদারকে পাইলের নকশা সরবরাহ করা সম্ভব না হওয়ায় নির্মাণ কাজ ব্যাহত হচ্ছে। বিভিন্ন জটিলতায় পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পে ঋণ চুক্তি বিলম্ব হয়। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নির্মাণ চুক্তি করতেও অনেক দেরি হয়েছে। দোহাজারী থেকে রামু হয়ে  ঘুমধুম পর্যন্ত ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণের ভূমির দখল না পাওয়ায় অর্থ ব্যয় করা যাচ্ছে না। মেট্রোরেল প্রকল্পের ডিপোর ভূমি উন্নয়নের কাজ শেষ হলেও ডিপো ওয়ার্কশপ ও নিয়ন্ত্রণ ভবনের শুধু পাইলিং কাজ শেষ হয়েছে। মেট্রোরেলের আওতায় উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ৪৪৮টি পিয়ারের মধ্যে কেবল ২১২টি নির্মাণ হয়েছে।

ধীরগতির কারণ জানতে চাইলে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান সমকালকে বলেন, ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্পগুলোর গতি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হলেও মাঠ পর্যায়ে এখনও কিছু সমস্যা রয়ে গেছে। এ অবস্থায় আগামী ২১ মার্চ প্রকল্প পরিচালকদের সঙ্গে বৈঠক হবে। ওই বৈঠকে বাস্তবায়নের সমস্যাগুলো শুনে তা সমাধানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে।

পদ্মা রেল সংযোগে মাত্র ৩%: আইএমইডির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের আট মাসে সবচেয়ে কম ২ দশমিক ৯৪ শতাংশ অর্থ ব্যয় হয়েছে পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পে। চলতি অর্থবছরের এডিপিতে এ প্রকল্পে পাঁচ হাজার ৩৩০ কোটি টাকা খরচ করার কথা। অথচ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত খরচ হয়েছে ১৫৭ কোটি টাকা। ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া এ প্রকল্পে মোট ব্যয়ের পরিমাণ নয় হাজার ২৩০ কোটি টাকা। প্রকল্পে আর্থিক অগ্রগতি ২৩ দশমিক ৬২ শতাংশ। আর ভৌত অগ্রগতি ১৭ শতাংশ। ৩৪ হাজার ৯৮৯ কোটি টাকা ব্যয় প্রাক্কলন করে প্রকল্পটি ২০২২ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

পদ্মা সেতু প্রকল্পে ৩৩%: সম্ভাব্য ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা ব্যয়ের পদ্মা সেতু প্রকল্পের কয়েক দফা মেয়াদ বাড়িয়ে চলতি বছরের ডিসেম্বরে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ব্যয় হয়েছে ১৮ হাজার ২৬৪ কোটি টাকা। নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পটি শেষ করতে হলে আগামী আট মাসে ব্যয় করতে হবে ১১ হাজার ৯২৯ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের এডিপিতে বরাদ্দ ছিল চার হাজার ৩৯৬ কোটি টাকা। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট বরাদ্দের ৩৩ শতাংশ বা এক হাজার ৪৬৮ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।

দোহাজারী-রামু-ঘুমধুম রেললাইন নির্মাণ: চলতি অর্থবছরে এ প্রকল্পে বরাদ্দ এক হাজার ৪৫০ কোটি টাকা। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ১৬৩ কোটি টাকা বা ১১ শতাংশ। ২০১০ সালে শুরু হওয়া এ প্রকল্পে মোট ব্যয়ের পরিমাণ তিন হাজার ৩৬৮ কোটি টাকা। প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি ১৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং ভৌত অগ্রগতি ২২ শতাংশ। বেশ কয়েকবার মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২২ সালে নির্মাণ কাজ শেষ করার লক্ষ্য ধরা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮ হাজার কোটি টাকা।

জানতে চাইলে রেলের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) আনোয়ার-উল-হক সমকালকে বলেন, নির্মাণ কাজে ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি বিলম্ব হওয়ায় অর্থ ব্যয়ে বিলম্ব হচ্ছে। অন্যদিকে কক্সবাজারের ঘুমধুম পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক মো. মফিজুর রহমান বলেন, ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় বাস্তবায়নে সমস্যা তৈরি হয়েছে। কাজ শুরু করতে গেলে স্থানীয় ভূমির মালিকরা বাধা দিচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্তরা জেলা প্রশাসক থেকে ক্ষতিপূরণ এখনও পাননি। এতে প্রকল্পের কাজ ঠিকমতো এগোচ্ছে না।

মেট্রোরেল: চলতি অর্থবছরে রাজধানীতে মেট্রোরেল নির্মাণ প্রকল্পে তিন হাজার ৯০২ কোটি টাকা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে এর ২১ দশমিক ৬৪ শতাংশ বা ৮৪৫ কোটি টাকা। ২০১২ সালে শুরু হওয়া এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা। শুরু থেকে এ পর্যন্ত প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে পাঁচ হাজার ৯১০ কোটি টাকা। প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ২৭ শতাংশ।

প্রকল্পের উপপরিচালক মো, আবদুল ওয়াদুদ জানান, কর্মপরিকল্পনায় কিছু সংশোধন আনা হয়েছে। সংশোধিত পরিকল্পনায় মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত অর্থবছরের বাকি সময়ে অর্থ ব্যয়ের গতি বাড়ানোর কৌশল নেওয়া হয়েছে।

পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প: তিন হাজার ৩৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পে চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ আছে ৫০০ কোটি টাকা। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ১৫৭ কোটি টাকা বা ৩১%। শুরু থেকে এ পর্যন্ত মোট ব্যয়ের পরিমাণ এক হাজার ২৯০ কোটি টাকা। প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ৪৫ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৩৮ শতাংশ। প্রকল্পটি ২০২০ সালের জুনের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।

মৈত্রী সুপার থার্মাল বিদ্যুৎকেন্দ্র: ১২০০ মেগাওয়াটের এ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে চলতি অর্থবছরে ১২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ব্যয় করার লক্ষ্য ছিল। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে এক হাজার ২০৮ কোটি টাকা। ২০০৯ সালে শুরু হওয়া এ প্রকল্পে এখন পর্যন্ত মোট অর্থ খরচ হয়েছে তিন হাজার ৯২৩ কোটি টাকা। প্রকল্প ২০২০ সালে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ৩২ শতাংশ আর আর্থিক অগ্রগতি ৪০ শতাংশ।

৮৪% ব্যয় মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রে: ৩৫ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পে গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে সাত হাজার ৬৯৬ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে অর্থ ব্যয়ের গতি বেশ ভালো। দুই হাজার ১৭১ কোটি টাকা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে এক হাজার ৮৪৩ কোটি টাকা বা ৮৪ %।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র: চলতি অর্থবছরে এডিপিতে এ প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ আছে ১১ হাজার ৯৯ কোটি টাকা। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে সাত হাজার ৫৩৬ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৬৮ শতাংশ। এক লাখ ১৩ হাজার ৯৩ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পে শুরু থেকে এ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ১৬ হাজার ৬৬৫ কোটি টাকা। প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি প্রায় ১৫ শতাংশ। 

ফাস্ট ট্র্যাক বা দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য অগ্রাধিকার পাওয়া কয়েকটি প্রকল্পে এখনও ধীরগতি চলছে। চলতি অর্থবছরের আট মাস পর্যন্ত পাওয়া পরিসংখ্যান বলছে, কোনো কোনো প্রকল্পে ব্যয়ের হার খুবই নগণ্য। জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে বেশিরভাগ প্রকল্পে অর্থ ব্যয়ের হার সন্তোষজনক নয়। পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পে এ সময়ে বরাদ্দের মাত্র ৩ শতাংশ অর্থ ব্যয় হয়েছে।

নতুন করে দায়িত্ব নেওয়ার পর এসব প্রকল্পে গতি বাড়ানোর ঘোষণা দেয় বর্তমান সরকার। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু নানা জটিলতার কারণে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী অর্থ ব্যয় হচ্ছে না। বছরভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়ন না হওয়ায় প্রকল্প থেকে যথাযথ সুফল পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) হালনাগাদ তথ্যমতে, পদ্মা রেল সংযোগ, দোহাজারী-রামু-ঘুমধুম ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণ ও মেট্রোরেল প্রকল্পে অর্থ ব্যয় হয়েছে সবচেয়ে কম হারে। এ ছাড়া পদ্মা সেতু ও পায়রা সমুদ্রবন্দর প্রকল্পে বরাদ্দের তিন ভাগের এক ভাগ ব্যয় হয়েছে ওই আট মাসে। তবে বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প। এ প্রকল্পে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বরাদ্দ এরই মধ্যে ব্যয় করা হয়েছে। অর্থ ব্যয় কম হওয়ার কারণ হিসেবে সংশ্নিষ্টরা বলেছেন, পদ্মা সেতুর জন্য ৪০টি পিয়ারের মধ্যে ২২টির পাইলিং নকশা নতুন করা হয়েছে। যথাসময়ে ঠিকাদারকে পাইলের নকশা সরবরাহ করা সম্ভব না হওয়ায় নির্মাণ কাজ ব্যাহত হচ্ছে। বিভিন্ন জটিলতায় পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পে ঋণ চুক্তি বিলম্ব হয়। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নির্মাণ চুক্তি করতেও অনেক দেরি হয়েছে। দোহাজারী থেকে রামু হয়ে  ঘুমধুম পর্যন্ত ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণের ভূমির দখল না পাওয়ায় অর্থ ব্যয় করা যাচ্ছে না। মেট্রোরেল প্রকল্পের ডিপোর ভূমি উন্নয়নের কাজ শেষ হলেও ডিপো ওয়ার্কশপ ও নিয়ন্ত্রণ ভবনের শুধু পাইলিং কাজ শেষ হয়েছে। মেট্রোরেলের আওতায় উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ৪৪৮টি পিয়ারের মধ্যে কেবল ২১২টি নির্মাণ হয়েছে।

ধীরগতির কারণ জানতে চাইলে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান সমকালকে বলেন, ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্পগুলোর গতি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হলেও মাঠ পর্যায়ে এখনও কিছু সমস্যা রয়ে গেছে। এ অবস্থায় আগামী ২১ মার্চ প্রকল্প পরিচালকদের সঙ্গে বৈঠক হবে। ওই বৈঠকে বাস্তবায়নের সমস্যাগুলো শুনে তা সমাধানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে।

পদ্মা রেল সংযোগে মাত্র ৩%: আইএমইডির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের আট মাসে সবচেয়ে কম ২ দশমিক ৯৪ শতাংশ অর্থ ব্যয় হয়েছে পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পে। চলতি অর্থবছরের এডিপিতে এ প্রকল্পে পাঁচ হাজার ৩৩০ কোটি টাকা খরচ করার কথা। অথচ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত খরচ হয়েছে ১৫৭ কোটি টাকা। ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া এ প্রকল্পে মোট ব্যয়ের পরিমাণ নয় হাজার ২৩০ কোটি টাকা। প্রকল্পে আর্থিক অগ্রগতি ২৩ দশমিক ৬২ শতাংশ। আর ভৌত অগ্রগতি ১৭ শতাংশ। ৩৪ হাজার ৯৮৯ কোটি টাকা ব্যয় প্রাক্কলন করে প্রকল্পটি ২০২২ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

পদ্মা সেতু প্রকল্পে ৩৩%: সম্ভাব্য ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা ব্যয়ের পদ্মা সেতু প্রকল্পের কয়েক দফা মেয়াদ বাড়িয়ে চলতি বছরের ডিসেম্বরে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ব্যয় হয়েছে ১৮ হাজার ২৬৪ কোটি টাকা। নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পটি শেষ করতে হলে আগামী আট মাসে ব্যয় করতে হবে ১১ হাজার ৯২৯ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের এডিপিতে বরাদ্দ ছিল চার হাজার ৩৯৬ কোটি টাকা। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট বরাদ্দের ৩৩ শতাংশ বা এক হাজার ৪৬৮ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।

দোহাজারী-রামু-ঘুমধুম রেললাইন নির্মাণ: চলতি অর্থবছরে এ প্রকল্পে বরাদ্দ এক হাজার ৪৫০ কোটি টাকা। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ১৬৩ কোটি টাকা বা ১১ শতাংশ। ২০১০ সালে শুরু হওয়া এ প্রকল্পে মোট ব্যয়ের পরিমাণ তিন হাজার ৩৬৮ কোটি টাকা। প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি ১৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং ভৌত অগ্রগতি ২২ শতাংশ। বেশ কয়েকবার মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২২ সালে নির্মাণ কাজ শেষ করার লক্ষ্য ধরা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮ হাজার কোটি টাকা।

জানতে চাইলে রেলের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) আনোয়ার-উল-হক সমকালকে বলেন, নির্মাণ কাজে ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি বিলম্ব হওয়ায় অর্থ ব্যয়ে বিলম্ব হচ্ছে। অন্যদিকে কক্সবাজারের ঘুমধুম পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক মো. মফিজুর রহমান বলেন, ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় বাস্তবায়নে সমস্যা তৈরি হয়েছে। কাজ শুরু করতে গেলে স্থানীয় ভূমির মালিকরা বাধা দিচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্তরা জেলা প্রশাসক থেকে ক্ষতিপূরণ এখনও পাননি। এতে প্রকল্পের কাজ ঠিকমতো এগোচ্ছে না।

মেট্রোরেল: চলতি অর্থবছরে রাজধানীতে মেট্রোরেল নির্মাণ প্রকল্পে তিন হাজার ৯০২ কোটি টাকা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে এর ২১ দশমিক ৬৪ শতাংশ বা ৮৪৫ কোটি টাকা। ২০১২ সালে শুরু হওয়া এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা। শুরু থেকে এ পর্যন্ত প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে পাঁচ হাজার ৯১০ কোটি টাকা। প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ২৭ শতাংশ।

প্রকল্পের উপপরিচালক মো, আবদুল ওয়াদুদ জানান, কর্মপরিকল্পনায় কিছু সংশোধন আনা হয়েছে। সংশোধিত পরিকল্পনায় মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত অর্থবছরের বাকি সময়ে অর্থ ব্যয়ের গতি বাড়ানোর কৌশল নেওয়া হয়েছে।

পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প: তিন হাজার ৩৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পে চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ আছে ৫০০ কোটি টাকা। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ১৫৭ কোটি টাকা বা ৩১%। শুরু থেকে এ পর্যন্ত মোট ব্যয়ের পরিমাণ এক হাজার ২৯০ কোটি টাকা। প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ৪৫ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৩৮ শতাংশ। প্রকল্পটি ২০২০ সালের জুনের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।

মৈত্রী সুপার থার্মাল বিদ্যুৎকেন্দ্র: ১২০০ মেগাওয়াটের এ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে চলতি অর্থবছরে ১২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ব্যয় করার লক্ষ্য ছিল। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে এক হাজার ২০৮ কোটি টাকা। ২০০৯ সালে শুরু হওয়া এ প্রকল্পে এখন পর্যন্ত মোট অর্থ খরচ হয়েছে তিন হাজার ৯২৩ কোটি টাকা। প্রকল্প ২০২০ সালে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ৩২ শতাংশ আর আর্থিক অগ্রগতি ৪০ শতাংশ।

৮৪% ব্যয় মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রে: ৩৫ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পে গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে সাত হাজার ৬৯৬ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে অর্থ ব্যয়ের গতি বেশ ভালো। দুই হাজার ১৭১ কোটি টাকা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে এক হাজার ৮৪৩ কোটি টাকা বা ৮৪ %।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র: চলতি অর্থবছরে এডিপিতে এ প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ আছে ১১ হাজার ৯৯ কোটি টাকা। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে সাত হাজার ৫৩৬ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৬৮ শতাংশ। এক লাখ ১৩ হাজার ৯৩ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পে শুরু থেকে এ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ১৬ হাজার ৬৬৫ কোটি টাকা। প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি প্রায় ১৫ শতাংশ। 

ফাস্ট ট্র্যাক বা দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য অগ্রাধিকার পাওয়া কয়েকটি প্রকল্পে এখনও ধীরগতি চলছে। চলতি অর্থবছরের আট মাস পর্যন্ত পাওয়া পরিসংখ্যান বলছে, কোনো কোনো প্রকল্পে ব্যয়ের হার খুবই নগণ্য। জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে বেশিরভাগ প্রকল্পে অর্থ ব্যয়ের হার সন্তোষজনক নয়। পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পে এ সময়ে বরাদ্দের মাত্র ৩ শতাংশ অর্থ ব্যয় হয়েছে।

নতুন করে দায়িত্ব নেওয়ার পর এসব প্রকল্পে গতি বাড়ানোর ঘোষণা দেয় বর্তমান সরকার। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু নানা জটিলতার কারণে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী অর্থ ব্যয় হচ্ছে না। বছরভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়ন না হওয়ায় প্রকল্প থেকে যথাযথ সুফল পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) হালনাগাদ তথ্যমতে, পদ্মা রেল সংযোগ, দোহাজারী-রামু-ঘুমধুম ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণ ও মেট্রোরেল প্রকল্পে অর্থ ব্যয় হয়েছে সবচেয়ে কম হারে। এ ছাড়া পদ্মা সেতু ও পায়রা সমুদ্রবন্দর প্রকল্পে বরাদ্দের তিন ভাগের এক ভাগ ব্যয় হয়েছে ওই আট মাসে। তবে বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প। এ প্রকল্পে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বরাদ্দ এরই মধ্যে ব্যয় করা হয়েছে। অর্থ ব্যয় কম হওয়ার কারণ হিসেবে সংশ্নিষ্টরা বলেছেন, পদ্মা সেতুর জন্য ৪০টি পিয়ারের মধ্যে ২২টির পাইলিং নকশা নতুন করা হয়েছে। যথাসময়ে ঠিকাদারকে পাইলের নকশা সরবরাহ করা সম্ভব না হওয়ায় নির্মাণ কাজ ব্যাহত হচ্ছে। বিভিন্ন জটিলতায় পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পে ঋণ চুক্তি বিলম্ব হয়। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নির্মাণ চুক্তি করতেও অনেক দেরি হয়েছে। দোহাজারী থেকে রামু হয়ে  ঘুমধুম পর্যন্ত ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণের ভূমির দখল না পাওয়ায় অর্থ ব্যয় করা যাচ্ছে না। মেট্রোরেল প্রকল্পের ডিপোর ভূমি উন্নয়নের কাজ শেষ হলেও ডিপো ওয়ার্কশপ ও নিয়ন্ত্রণ ভবনের শুধু পাইলিং কাজ শেষ হয়েছে। মেট্রোরেলের আওতায় উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ৪৪৮টি পিয়ারের মধ্যে কেবল ২১২টি নির্মাণ হয়েছে।

ধীরগতির কারণ জানতে চাইলে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান সমকালকে বলেন, ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্পগুলোর গতি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হলেও মাঠ পর্যায়ে এখনও কিছু সমস্যা রয়ে গেছে। এ অবস্থায় আগামী ২১ মার্চ প্রকল্প পরিচালকদের সঙ্গে বৈঠক হবে। ওই বৈঠকে বাস্তবায়নের সমস্যাগুলো শুনে তা সমাধানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে।

পদ্মা রেল সংযোগে মাত্র ৩%: আইএমইডির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের আট মাসে সবচেয়ে কম ২ দশমিক ৯৪ শতাংশ অর্থ ব্যয় হয়েছে পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পে। চলতি অর্থবছরের এডিপিতে এ প্রকল্পে পাঁচ হাজার ৩৩০ কোটি টাকা খরচ করার কথা। অথচ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত খরচ হয়েছে ১৫৭ কোটি টাকা। ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া এ প্রকল্পে মোট ব্যয়ের পরিমাণ নয় হাজার ২৩০ কোটি টাকা। প্রকল্পে আর্থিক অগ্রগতি ২৩ দশমিক ৬২ শতাংশ। আর ভৌত অগ্রগতি ১৭ শতাংশ। ৩৪ হাজার ৯৮৯ কোটি টাকা ব্যয় প্রাক্কলন করে প্রকল্পটি ২০২২ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

পদ্মা সেতু প্রকল্পে ৩৩%: সম্ভাব্য ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা ব্যয়ের পদ্মা সেতু প্রকল্পের কয়েক দফা মেয়াদ বাড়িয়ে চলতি বছরের ডিসেম্বরে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ব্যয় হয়েছে ১৮ হাজার ২৬৪ কোটি টাকা। নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পটি শেষ করতে হলে আগামী আট মাসে ব্যয় করতে হবে ১১ হাজার ৯২৯ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের এডিপিতে বরাদ্দ ছিল চার হাজার ৩৯৬ কোটি টাকা। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট বরাদ্দের ৩৩ শতাংশ বা এক হাজার ৪৬৮ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।

দোহাজারী-রামু-ঘুমধুম রেললাইন নির্মাণ: চলতি অর্থবছরে এ প্রকল্পে বরাদ্দ এক হাজার ৪৫০ কোটি টাকা। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ১৬৩ কোটি টাকা বা ১১ শতাংশ। ২০১০ সালে শুরু হওয়া এ প্রকল্পে মোট ব্যয়ের পরিমাণ তিন হাজার ৩৬৮ কোটি টাকা। প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি ১৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং ভৌত অগ্রগতি ২২ শতাংশ। বেশ কয়েকবার মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২২ সালে নির্মাণ কাজ শেষ করার লক্ষ্য ধরা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮ হাজার কোটি টাকা।

জানতে চাইলে রেলের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) আনোয়ার-উল-হক সমকালকে বলেন, নির্মাণ কাজে ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি বিলম্ব হওয়ায় অর্থ ব্যয়ে বিলম্ব হচ্ছে। অন্যদিকে কক্সবাজারের ঘুমধুম পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক মো. মফিজুর রহমান বলেন, ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় বাস্তবায়নে সমস্যা তৈরি হয়েছে। কাজ শুরু করতে গেলে স্থানীয় ভূমির মালিকরা বাধা দিচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্তরা জেলা প্রশাসক থেকে ক্ষতিপূরণ এখনও পাননি। এতে প্রকল্পের কাজ ঠিকমতো এগোচ্ছে না।

মেট্রোরেল: চলতি অর্থবছরে রাজধানীতে মেট্রোরেল নির্মাণ প্রকল্পে তিন হাজার ৯০২ কোটি টাকা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে এর ২১ দশমিক ৬৪ শতাংশ বা ৮৪৫ কোটি টাকা। ২০১২ সালে শুরু হওয়া এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা। শুরু থেকে এ পর্যন্ত প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে পাঁচ হাজার ৯১০ কোটি টাকা। প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ২৭ শতাংশ।

প্রকল্পের উপপরিচালক মো, আবদুল ওয়াদুদ জানান, কর্মপরিকল্পনায় কিছু সংশোধন আনা হয়েছে। সংশোধিত পরিকল্পনায় মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত অর্থবছরের বাকি সময়ে অর্থ ব্যয়ের গতি বাড়ানোর কৌশল নেওয়া হয়েছে।

পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প: তিন হাজার ৩৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পে চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ আছে ৫০০ কোটি টাকা। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ১৫৭ কোটি টাকা বা ৩১%। শুরু থেকে এ পর্যন্ত মোট ব্যয়ের পরিমাণ এক হাজার ২৯০ কোটি টাকা। প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ৪৫ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৩৮ শতাংশ। প্রকল্পটি ২০২০ সালের জুনের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।

মৈত্রী সুপার থার্মাল বিদ্যুৎকেন্দ্র: ১২০০ মেগাওয়াটের এ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে চলতি অর্থবছরে ১২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ব্যয় করার লক্ষ্য ছিল। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে এক হাজার ২০৮ কোটি টাকা। ২০০৯ সালে শুরু হওয়া এ প্রকল্পে এখন পর্যন্ত মোট অর্থ খরচ হয়েছে তিন হাজার ৯২৩ কোটি টাকা। প্রকল্প ২০২০ সালে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ৩২ শতাংশ আর আর্থিক অগ্রগতি ৪০ শতাংশ।

৮৪% ব্যয় মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রে: ৩৫ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পে গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে সাত হাজার ৬৯৬ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে অর্থ ব্যয়ের গতি বেশ ভালো। দুই হাজার ১৭১ কোটি টাকা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে এক হাজার ৮৪৩ কোটি টাকা বা ৮৪ %।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র: চলতি অর্থবছরে এডিপিতে এ প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ আছে ১১ হাজার ৯৯ কোটি টাকা। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে সাত হাজার ৫৩৬ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৬৮ শতাংশ। এক লাখ ১৩ হাজার ৯৩ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পে শুরু থেকে এ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ১৬ হাজার ৬৬৫ কোটি টাকা। প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি প্রায় ১৫ শতাংশ।