এক হতে আনুষ্ঠানিক আলোচনায় ডয়েচে ও কমার্জব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

একীভূতকরণ নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে জার্মানির সবচেয়ে বড় দুটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ডয়েচে ব্যাংক ও কমার্জব্যাংক। ব্যাংক দুটি জানিয়েছে, বিষয়টিকে নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রতিকূল অবস্থায় পড়া এ দুই ব্যাংক এক হতে যাচ্ছে—এ নিয়ে বেশ কয়েক মাস ধরেই জোর জল্পনা-কল্পনা চলছিল। ব্যাংক দুটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে এর ইতি ঘটল। তবে সমালোচকরা বলছেন, এ দুই প্রতিষ্ঠানের একীভূতকরণ জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এছাড়া কর্মী ছাঁটাইয়ের আশঙ্কায় শ্রমিক ইউনিয়নগুলোও এর বিরোধিতা করছে। তবে এমন চুক্তির পক্ষে জার্মান সরকারের সমর্থন রয়েছে। খবর বিবিসি, রয়টার্স।

কমার্জব্যাংকে ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে জার্মান সরকারের। আর্থিক সংকট-পরবর্তী সময়ে বেইলআউটের অংশ হিসেবে ব্যাংকটির এ পরিমাণ শেয়ার পায় জার্মান সরকার। প্রতিবেদন অনুসারে, জার্মান অর্থমন্ত্রী ওলাফ শোলজ ব্যাংক দুটিকে একীভূত হওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নেয়ার জন্য আহ্বান জানান। কারণ তিনি বিশ্বাস করেন, ব্যাংকিং খাতে জার্মানির একটি জাতীয় রক্ষকের প্রয়োজন রয়েছে।

এ দুই ব্যাংক এক হলে জার্মানির ব্যাংকিং ব্যবসার এক-পঞ্চমাংশ যাবে একীভূত ব্যাংকটির কাছে। একীভূত ব্যাংকটি হবে এইচএসবিসি ও বিএনপি পারিবাসের পর ইউরোপের তৃতীয় সর্ববৃহৎ ব্যাংক। এর ঋণ ও বিনিয়োগের মতো সম্পদের পরিমাণ দাঁড়াবে ১ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ইউরো (২ দশমিক শূন্য ৪ ট্রিলিয়ন ডলার) এবং বাজারমূল্য দাঁড়াবে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ইউরো।

ডয়েচে ব্যাংক প্রবৃদ্ধি আনতে হিমশিম খাচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিং শাখার লোকসান একে আরো বিপদে ফেলেছে। কমার্জব্যাংকও প্রবৃদ্ধি নিয়ে স্বস্তিতে নেই। উভয় ব্যাংককেই ইউরোজোন ও জার্মানির অর্থনৈতিক শ্লথগতির মুখে পড়তে হয়েছে।

চুক্তির বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছেন এমন একজন ব্যক্তি জানিয়েছেন, উভয় ব্যাংক নিজেদের পরিচালনা পরিষদের সভা শেষে সংক্ষিপ্ত বিবৃতি দিয়েছে। বিবৃতি থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, বেশ দ্রুতই একীভূতকরণ চুক্তি হতে যাচ্ছে, যদিও উভয় ব্যাংকই সতর্ক করে দিয়ে জানিয়েছে, চুক্তি হওয়ার বিষয়টি এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়।

ডয়েচে ব্যাংক বিবৃতিতে বলেছে, সুযোগ সৃষ্টি হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ডয়েচে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ কৌশলগত বিকল্প পর্যালোচনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ডয়েচে ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী ক্রিস্টিয়ান সুইং এক পত্রে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বলেন, আমার কাছে যেটা গুরুত্বপূর্ণ তা হলো, আমরা শুধু সে পথের দিকে হাঁটব, যা হবে অর্থনৈতিকভাবে ইতিবাচক।

সুইং আরো বলেন, শক্তিশালী মূলধন বাজার ব্যবস্থা ও বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক সহকারে একটি বৈশ্বিক ব্যাংক হিসেবে এখনো ডয়েচে ব্যাংক টিকে থাকতে চায়। তিনি জানান, বিভিন্ন কারণে একীভূতকরণ চুক্তি নাও হতে পারে। ডয়েচে ব্যাংকের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, আলোচনা বেশকিছু সময় ধরে চলবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ২০১৬ সাল থেকে ব্যাংক দুটির একীভূতকরণ নিয়ে আলোচনা চলছে।

তবে সমালোচকদের দাবি, সংকটে থাকা এ দুই ব্যাংকের একীভূতকরণে প্রকৃতপক্ষে বহু সমস্যা নিয়ে একটি বৃহৎ ব্যাংকের সৃষ্টি হবে। জার্মান পার্লামেন্টের সাবেক সদস্য ও ফিন্যান্স অ্যাক্টিভিস্ট গেরহাড শেক বলেন, আমাদের মনে হয় না এটি জাতীয় রক্ষক হবে, বরং জন্ম নেবে একটি ‘কম্পমান জোম্বি’ ব্যাংক, যেটি জার্মানির জন্য আরেকটি বিলিয়ন-ইউরোর কবর তৈরি করবে। তাহলে আমরা কেন এ ঝুঁকি নেব?

এদিকে সম্ভাব্য চুক্তির বিরোধিতা করেছে শ্রমিক সংগঠনগুলো। শ্রমিক সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ চুক্তি হলে ১০ হাজারের বেশি কর্মী চাকরি হারাবে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে দুই ব্যাংকের মিলিত কর্মীর সংখ্যা ১ লাখ ৪০ হাজার—ডয়েচের ৯১ হাজার ৭০০ ও কমার্জব্যাংকের ৪৯ হাজার।

জার্মানির ফের্দি শ্রমিক ইউনিয়ন রোববার নতুন করে এ চুক্তির বিরোধিতা করেছে। তাদের দাবি, এ চুক্তি হলে হাজারো কর্মী চাকরি হারাবে এবং এ একীভূতকরণ কোনো মূল্য যোগ করবে না।