১৫ লাখ ভিডিও সরালেও ব্যর্থতা ঢাকতে পারেনি ফেসবুক

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার ভিডিও ফুটেজ মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৫ লাখ ভিডিও সরিয়ে নেয়ার কথা জানিয়েছে সোস্যাল মিডিয়া জায়ান্ট ফেসবুক। কিন্তু ওই সন্ত্রাসী হামলার সময়কার ভিডিওর স্থিরচিত্র ব্লক করতে ব্যর্থ হওয়ায় সমালোচনা থেকে রক্ষা পাচ্ছে না তারা। এসব ছবিও প্লাটফর্মটিতে খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে এ ধরনের ভিডিও ও ছবি ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে কর্তৃপক্ষের কঠোর নির্দেশনা এবং নিজেদের প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও ফেসবুক কর্তৃপক্ষ তাদের সক্ষমতার পুরোটা বিনিয়োগ করছে না বলে মনে করছেন অনেকে। খবর এএফপি।

গত শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে আল নূর মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার সময় নিজের মাথায় যুক্ত ক্যামেরা থেকে ফেসবুকে প্রায় ১৭ মিনিট ধরে সরাসরি সম্প্রচার করে বন্দুকধারী। একই সঙ্গে ওই হামলার আগে টুইটারে একটি বর্ণবাদী ও শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী ‘ইশতেহার’ পোস্ট করে সে। ওই সন্ত্রাসী হামলায় দুটি মসজিদে মোট ৫০ জন নিহত হয়েছেন।

ফেসবুক লাইভের ওই ভিডিও পরবর্তীতে বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট থেকেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তীব্র সমালোচনার মুখে ফেসবুকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বন্দুকধারীর ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলার পাশাপাশি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া ওই হামলার ১৫ লাখ ভিডিও সরিয়ে ফেলা হয়েছে। একই সঙ্গে ১২ লাখ ভিডিও আপলোডের সময়ই ব্লক করা হয়েছে।

নিউজিল্যান্ডে ফেসবুকের মুখপাত্র মিয়া গার্লিক বলেছেন, প্রতি মুহূর্তে প্রযুক্তি ও মানুষের সহায়তা নিয়ে ওই বর্ণবাদী কনটেন্ট সরিয়ে দেয়ার জন্য ফেসবুক কাজ করে যাচ্ছে।

তবে ফেসবুকের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, প্রায় তিন লাখ ভিডিও আপলোডের আগে ঠেকানো সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে এসব ভিডিও কতবার দেখা ও শেয়ার করা হয়েছে, সে-সংক্রান্ত কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই।

এদিকে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডার্ন ক্রাইস্টচার্চ হামলার দৃশ্য ফেসবুকে লাইভ স্ট্রিমিং নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এ মুহূর্তে আমি আমার সন্তানদের নিয়েও ভীষণ চিন্তিত। কারণ তারাও ফেসবুকে বিভিন্ন সময় লাইভ ভিডিও দেখে, এর মাধ্যমে মার্ক জাকারবার্গ আরো কিছুটা ধনী হচ্ছেন!

ফেসবুক জানিয়েছে, আপত্তিকর, সহিংস ও ভুয়া কনটেন্ট সরাতে ২০ হাজার মডারেটর নিয়োগ দিয়েছে তারা। কিন্তু সমালোচকরা বলছেন, এ ব্যাপারে ফেসবুকের তত্পরতা যথেষ্ট নয়। একই সঙ্গে মূলধারার সংবাদমাধ্যম ও মিররের মতো ট্যাবলয়েডগুলো ওই হামলার ভিডিও সম্প্রচার করারও কঠোর নিন্দা জানিয়েছেন সোস্যাল মিডিয়া বিশেষজ্ঞরা।

এ নিয়ে বিশ্বনেতারা সরাসরি হস্তক্ষেপের চিন্তাভাবনা করছেন। অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর সক্ষমতার চেয়ে সদিচ্ছার অভাব রয়েছে।

ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভেদ সামাজিক মাধ্যমগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এবার অন্তত দায়িত্ব নিন, যথেষ্ট হয়েছে!