৫ হাজার ইলেক্ট্রো মেডিকেল ডিপ্লোমা প্রকৌশলী হতাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

১২ বছর আগে সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে প্রথমবারের মতো ইলেক্ট্রো মেডিকেল বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ২০০৫-০৬ শিক্ষাবর্ষে বরিশাল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন ৬০ শিক্ষার্থী। একই সঙ্গে এ বিষয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয় অন্য ইনস্টিটিউটে। এ পর্যন্ত ৮টি ব্যাচে পাঁচ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী পাস করেছেন। এরপর ৮ বছর কেটে গেলও কারো চাকরি হয়নি। এতে তারা চরম হতাশায় ভুগছেন। তারা দ্রুত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, ইলেক্ট্রো মেডিকেল বিষয়ে আরো দুই শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। দ্রুত নিয়োগ দেয়া না হলে বেকারের সংখ্যা বাড়তেই থাকবে। একটা সময় এ বিষয়ে পড়ালেখার জন্য হয়তো আর শিক্ষার্থী পাওয়া যাবে না।

ইলেক্ট্রো মেডিকেল ডিপ্লোমা প্রকৌশলীরা জানান, একেবারে নতুন বিষয় এবং এখান থেকে পাস করে বের হলেই বিভিন্ন হাসপাতালে প্রকৌশলী হিসেবে নিয়োগ পেতে তেমন প্রতিযোগিতাও করতে হবে না; সহজে সরকারি চাকরি পাওয়া যাবে- এমন আশায় ২০০৫-০৬ শিক্ষাবর্ষে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী বরিশাল সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ভর্তির আবেদন করে। প্রতিযোগিতার মাধ্যমে মাত্র ৬০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। একেবারে নতুন বিষয় হওয়ায় পড়াশোনার বেগ পেতে হয়। তবুও পাস করলেই চাকরি- এমন আশায় তারা শত কষ্টে পড়ালেখা চালিয়ে যান। পাসও করেন। কিন্তু চাকরি আর হয় না। বরিশাল থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন সরকারি পলিটেকনিক থেকে ৮টি ব্যাচ বের হলেও দেশে চাকরির ক্ষেত্র তৈরি হয়নি। সরকার এখন পর্যন্ত কোনো হাসপাতালে এ বিভাগের প্রকৌশলীদের জন্য কোনো পদ সৃষ্টি না করায় এ অবস্থা হয়েছে। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

তারা আরো জানান, পাস করার পর ৮ বছর কেটে গেলেও এ বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি নেয়ার জন্য সরকার পদক্ষেপ নেয়নি। উচ্চতর ডিগ্রির ব্যবস্থা থাকলে ইতোমধ্যে আমরা বিএসসি প্রকৌশলী হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতাম। এতে নতুন নতুন যে যন্ত্রপাতি আসছে তা সচল করতে আরো পারদর্শী হওয়া যেত। অথচ আমাদের পরিবার কত আশা-ভরসা নিয়ে এ বিভাগে ভর্তি করিয়েছিল। তার সন্তান পাশ করে ভালো চাকরি করবে, সংসারের হাল ধরবে; কিন্তু চাকরি তো হলো না। এখন বেকার হয়ে পরিবারের ওপর বোঝা হয়ে থাকতে হচ্ছে।

বরিশাল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে বর্তমানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা জানায়, সামান্য ত্রুটির কারণে বছরের পর বছর অচল থাকছে শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কোটি কোটি টাকা মূল্যের পরীক্ষা-নিরীক্ষার ভারি যন্ত্রপাতি। আর যন্ত্রপাতি ত্রুটিমুক্তে প্রকৌশলী না থাকায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে দরিদ্র রোগীদের। যন্ত্রপাতি সচল রাখতে ১২ বছর পূর্বে বরিশালসহ দেশের ৯টি সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ইলেক্ট্রো মেডিকেল বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হলেও পদ সৃষ্টি হয়নি। ফলে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়নি। তাদের দাবি পদ সৃষ্টি করে যত দ্রুত সম্ভব নিয়োগের। এতে করে সারা বছর সচল থাকবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রপাতি।

তারা আরো জানান, ক্লাস চলাকালীন শেরেবাংলা মেডিকেলের ভারি যন্ত্রপাতির ওপর এবং ক্লাসেও রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ব্যবহূত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ত্রুটিমুক্ত করতে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এ কারণে চার বছর মেয়াদি কোর্সের মাধ্যমে আমরা ওই সব যন্ত্রপাতি ত্রুটিমুক্ত করতে পারদর্শী। শিক্ষার্থীরা বলেন, সামান্য ত্রুটির কারণে বিভিন্ন উপজেলা হাসপাতালগুলোর এক্স-রে মেশিন থেকে শুরু করে রোগীর পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রপাতি বছরের পর বছর ধরে অচল থাকছে। এতে করে ওই মেশিনের আয়ু বসে বসেই শেষ হচ্ছে। আর আমাদের নিয়োগ দেয়া হলে কোনো যন্ত্রপাতি অচল থাকবে না। এ কারণে দুর্ভোগও পোহাতে হবে না রোগীদের। বরিশাল সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ইলেক্ট্রো মেডিকেলের ইন্সট্রাক্টর মো. কবির হোসেন বলেন, প্রতিবছর শত শত দক্ষ ইঞ্জিনিয়ার বের হলেও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নেই। উচ্চতর ডিগ্রির সুযোগও নেই। ফলে তারা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। তার দাবি এ বিভাগ থেকে যারা প্রকৌশলী হয়ে বের হচ্ছে তারা সকলেই হাসপাতালের ব্যবহূত যন্ত্রপাতির সচল করতে পারদর্শী। এ বিভাগে শিক্ষার্থী ধরে রাখতে অতি দ্রুত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে। এ ব্যাপারে শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন বলেন, আমরাও চাচ্ছি ভারি যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণে প্রকৌশলীর পদ সৃষ্টি করে ইলেক্ট্রো মেডিক্যাল বিষয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়োগ দেয়া। তাতে করে রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ব্যবহূত যন্ত্রপাতি সচল রাখা সম্ভব হবে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। বরিশাল সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন বলেন, বিষয়টি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দফতর অবহিত রয়েছে। এমনকি সংসদের উত্তর-পর্বেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, আমাদের প্রডাক্ট যদি আমরা বাজারে আনতে না পারি তাহলে সে প্রডাক্ট তো কোন কাজে দেবে না। তাই আমি আশা করছি অতি দ্রুত সরকার এ ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।