হামলাকারীর নাম কখনো মুখেও নেব না :প্রধানমন্ত্রী আরডার্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুই মসজিদে হামলাকারীর নাম কখনো মুখেও নেবেন না বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন। মঙ্গলবার পার্লামেন্টের বিশেষ অধিবেশনে দেয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী আরডার্ন বলেন, 'তিনি (হামলাকারী) সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে অনেক কিছু করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি কুখ্যাত। এ জন্য আপনারা কখনোই আমার মুখে তার নাম শুনবেন না।'

ক্রাইস্টচার্চের হামলার ঘটনার পর মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো ওয়েলিংটনের পার্লামেন্ট ভবনে 'মুসলিম কমিউনিটি'র সঙ্গে বিশেষ সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে দেয়া ভাষণে জেসিন্ডা আরডার্ন ক্রাইস্টচার্চ হামলাকারীর নাম মুখে না নেয়ার শপথ নেন। তিনি বলেন, 'সন্ত্রাসী কর্মকান্ড সংঘটনের মধ্য দিয়ে সে অনেক কিছু চেয়েছে। এর একটি হলো, নিজের অপকর্মের প্রচার চাওয়া। সে কারণে আপনারা আমার মুখে কখনো তার নাম শুনবেন না।'

অন্যদেরকেও হামলাকারীর নাম মুখে না আনার অনুরোধ জানান জেসিন্ডা। তিনি বলেন, 'আমি আপনাদের অনুরোধ করছি, যে ব্যক্তি অন্যদের জীবন কেড়ে নিয়েছেন, তার নাম না নিয়ে যারা জীবন হারিয়েছেন, তাদের নাম নিন।' এ সময় তিনি ওই হামলার ভিডিও শেয়ার করা বন্ধ করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পস্ন্যাটফর্মগুলোকে আরও কাজ করার আহ্বান জানান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো শুধু লাভ করবে, কিন্তু কোনো দায়-দায়িত্ব নেবে না, তা হতে পারে না বলে এ সময় মন্তব্য করেন তিনি।

পার্লামেন্টে আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী আরডার্ন বলেন, নিউজিল্যান্ডের আইন অনুযায়ী হামলাকারী পূর্ণ শাস্তির মুখোমুখি হবেন। আগামী শুক্রবার ফের আরেকটি জুমার নামাজের দিন এবং হামলার ঘটনারও এক সপ্তাহ পূর্ণ হওয়ার দিন, একথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে নিউজিল্যান্ডের সবাইকে এদিন মুসলমান সম্প্রদায়ের শোকের কথা মনে রেখে চলার অনুরোধও জানান। 

গত শুক্রবার জুমার নামাজের সময় ক্রাইস্টচার্চের আল-নূর ও লিনউড মসজিদে হামলার ঘটনায় ৫০ জন নিহত এবং ৪০ জন আহত হন। হামলাকারী অস্ট্রেলীয় বংশোদ্ভূত ২৮ বছর বয়সী তরুণ ব্রেনটন হ্যারিসন ট্যারান্ট আধা স্বয়ংক্রিয় ( সেমি অটোমেটিক) অস্ত্র দিয়ে নির্বিচারে গুলি চালান। হামলার ঘটনাটি ফেসবুকে লাইভস্ট্রিমও করেন। হামলাকারী ট্যারান্টকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে হাজির করে তার বিরুদ্ধে হত্যাকান্ডের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এছাড়া হামলাকারী ট্যারান্টের মধ্যে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী প্রবণতা পাওয়া গেছে। তিনি মনে করতেন 'মুসলমানদের জন্য ভীতিকর পরিস্থিতি' তৈরি করা উচিত এবং শ্বেতাঙ্গরা 'গণহত্যার শিকার'। ক্রাইস্টচার্চে দুই মসজিদে হামলায় নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, তুরস্ক, কুয়েত, সোমালিয়াসহ বিভিন্ন দেশের মুসলিম অভিবাসী, শরণার্থী ও স্থায়ী অধিবাসী রয়েছেন।

'আসসালামু আলাইকুম' বলে ভাষণ

শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী আরডার্ন

এদিকে, ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে হামলার পর মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো বিশেষ পার্লামেন্ট অধিবেশনে মুসলিম কমিউনিটির সঙ্গে সাক্ষাতে দেয়া ভাষণে মুসলমান রীতিতে 'আসসালামুআলাইকুম' বলে সালাম বা সম্ভাষণ দিয়ে ভাষণ শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন। তিনি বলেন, ক্রাইস্টচার্চ হামলার দিনটি 'সবার মনে চিরদিন গেঁথে থাকবে।' হামলায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং মুসলমানদের প্রতি সম্প্রীতি জানিয়ে জেসিন্ডা এ পদক্ষেপ নেন বলে মনে করা হচ্ছে।

এর আগে গত শনিবার ক্রাইস্টচার্চ শহর পরিদর্শনে যান জেসিন্ডা আরডার্ন। সেখানে মুসলমান ও শরণার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। ওইদিন ইসলামী রীতিতে মাথায় কাপড় দিয়ে রাখতে দেখা যায় প্রধানমন্ত্রীকে। তখনও বলা হয়েছিল, হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েই মাথায় কাপড় দিয়েছিলেন নিউজিল্যান্ড প্রধানমন্ত্রী। 

অন্যদিকে, নিউজিল্যান্ডবাসীও এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতদের স্মরণে শ্রদ্ধা জানিয়ে যাচ্ছেন। ফুল দেয়ার স্থানগুলো ভরে গেছে। ফুলের সঙ্গে রয়েছে সমবেদনা জানিয়ে লেখা চিরকুটও।

উলেস্নখ্য, মসজিদে হামলার আগে অনলাইনে ১৬ হাজার ৫০০ শব্দের একটি ইশতেহারে নৃশংস এ হামলার পেছনে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন সন্দেহভাজন হামলাকারী ব্রেনটন ট্যারান্ট। সেখানে মোটা দাগে উঠে আসে মুসলমান-বিদ্বেষ, অভিবাসী-বিদ্বেষ ও শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদের মতো বিষয়গুলো। ইশতেহারে মুসলমানদের উসমানীয় খিলাফতের (বর্তমান তুরস্ক) বিরুদ্ধে তৎকালীন ইউরোপীয় খ্রিস্টানদের বিজয়ের কথাও উলেস্নখ করেছেন তিনি। 

বর্তমান তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়ে্যপ এরদোয়ানের মৃতু্যও কামনা করেন হামলাকারী।