বাংলাদেশকে নতুনভাবে জানতে চায় বিশ্বব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

বাংলাদেশকে নতুন করে জানতে চায় বিশ্বব্যাংক। এজন্য একটি জরিপের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। জরিপে পাওয়া তথ্য বিশ্বব্যাংক গ্রুপ তার অংশীদারদের মতামত যাচাই করতে এবং বাংলাদেশের উন্নয়নে সহায়তার জন্য কৌশল তৈরিতে ব্যবহার করতে পারবে বলে মনে করা হচ্ছে।


এ প্রসঙ্গে সংস্থাটি বলছে, বিশ্বব্যাংক গ্রুপ তার অংশীদার যারা বাংলাদেশের উন্নয়নে জড়িত আছে অথবা বাংলাদেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে সম্পর্কিত কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে, তাদের মতামত জানতে আগ্রহী। এ জরিপ বিশ্বব্যাংক গ্রুপের কাজ সম্পর্কে অন্যদের দৃষ্টিভঙ্গি কী, সে সম্পর্কে একটি সম্যক ধারণা দেবে। স্থানীয় একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠানকে জরিপটি পরিচালনার জন্য সম্প্রতি দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার তিন শতাধিক উত্তরদাতার কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট প্রশ্নমালার উত্তর সংগ্রহ করা হবে। এরই মধ্যে প্রশ্নমালা প্রস্তুত করা হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসে নিযুক্ত লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন সোমবার যুগান্তরকে বলেন, এটি প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমের অংশ। এ জরিপের মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন যে দেশে জরিপ করা হচ্ছে, সেই দেশের বর্তমান আর্থ-সামাজিক অবস্থা সম্পর্কে একটা ধারণা পাওয়া যায়; তেমনই বিশ্বব্যাংক যে কার্যক্রম পরিচালনা করছে, সেগুলো সঠিক পথে আছে কিনা বা সেগুলোর ক্ষেত্রে কোনো পরামর্শ আছে কিনা- এসব বিষয়ে একটি ফিডব্যাক পাওয়া যায়।


‘ওয়ার্ল্ড ব্যাংক গ্রুপ কান্ট্রি সার্ভে-২০১৯, বাংলাদেশ’ শীর্ষক জরিপ প্রসঙ্গে বিশ্বব্যাংক থেকে বলা হয়েছে, এ জরিপ বিশ্বব্যাংক গ্রুপের কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত। উত্তরদাতাদের বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাংক গ্রুপ আইবিআরডি, আইডিএ, আইএফসি, এমআইজিএ ও আইসিএসআইডি নিয়ে গঠিত। বিশ্বব্যাংক গ্রুপের যে অংশের সঙ্গে আপনি সবচেয়ে বেশি পরিচিত, দয়া করে তার ওপর ভিত্তি করে এ জরিপের উত্তর প্রদান করবেন।

জরিপ প্রশ্নে বাংলাদেশে সম্মুখীন হওয়া সাধারণ সমস্যাগুলো অংশে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে আপনি যখন ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করেন, তখন কি খুবই হতাশ হন, কিছুটা হতাশ হন, কিছুটা আশাবাদী হন, খুবই আশাবাদী হন নাকি নিশ্চিত না।

অপর প্রশ্নের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে- বাংলাদেশের নাগরিকদের অর্থনৈতিক সুযোগ কেমন? বাড়ছে, কমছে নাকি একই রকম আছে। নিচের কোন বিষয়গুলো বাংলাদেশের উন্নয়নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন- নগর উন্নয়ন, সুশাসন বা সংস্কার (সরকারের কার্যকারিতা, সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা, সরকারি ব্যয়, রাজস্ব ব্যবস্থা সংস্থার), পানি এবং পয়ঃনিষ্কাশন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারী ও পুরুষের সমতা, বেসরকারি খাতের উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা (যেমন- পেনশন, নির্দিষ্ট সামাজিক সহায়তা), শিক্ষা, বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক সম্পৃক্ততা, খাদ্য নিরাপত্তা, জ্বালানি, দূষণ, স্বাস্থ্য, আর্থিক বাজার, দুর্নীতি দমন, প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সুযোগের সমতা, কৃষি এবং পল্লী উন্নয়ন, বাণিজ্য ও রফতানি, যাতায়াত (যেমন- রাস্তা, সেতু, পরিবহন), অপরাধ ও সহিংসতা, জলবায়ু পরিবর্তন, দারিদ্র্যবিমোচন, বিচার বিভাগের সংস্কার, দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যস্থাপনা নাকি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি।

এ ছাড়াও দারিদ্র্যবিমোচনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে পারে এরকম প্রায় ২৬টি বিষয় তুলে ধরে তিনটি বিষয়ে উত্তর বাছাই করতে বলা হবে উত্তরদাতাকে। বাংলাদেশে যখন অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংস্কার হচ্ছে না বা ধীরে ধীরে ঘটে, তখন এটাকে আপনি কোনগুলো দিয়ে চিহ্নিত করবেন। উত্তরে দেয়া হয়েছে- দুর্নীতি, রাজনৈতিক চাপ ও বাধা, সরকারের ভেতরে দুর্বল সমন্বয়, সরকারের দায়বদ্ধতায় অপর্যাপ্ত মাত্রা, বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণের অপর্যাপ্ত মাত্রা, নাগরিক বা সুশীলসমাজের অংশগ্রহণের অপর্যাপ্ত মাত্রা, দাতাসংস্থাগুলোর মধ্যে অপর্যাপ্ত মাত্রা, সংস্কারগুলো দেশের সমস্যার আলোকে ভালোভাবে চিন্তা করে করা হয়নি, নাকি অন্যান্য।

সঠিক কাজ করার ক্ষেত্রে নিচে উল্লিখিত গোষ্ঠীগুলোকে আপনি কতটা বিশ্বাস করেন। এক্ষেত্রে উল্লেখ করা হয়েছে- জাতীয় সরকার, ডিএফআইডি-জাইকা-জিআইজেড ও ইউএসআইডি, বিশ্বব্যাংক গ্রুপ, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল, জাতিসংঘ, বহুমুখী ও আঞ্চলিক উন্নয়ন ব্যাংক, কেন্দ্রীয় ব্যাংক, আন্তর্জাতিক বেসরকারি খাত, দেশীয় বেসরকারি খাত, আন্তর্জাতিক এনজিও বা ফাউন্ডেশন, দেশীয় সুশীলসমাজ, দেশীয় প্রচলিত গণমাধ্যম এবং এগুলোর ওয়েবসাইট, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এবং এগুলোর ওয়েবসাইট, ওয়েবভিত্তিক গণমাধ্যম (যেমন- ব্লগ-সোশ্যাল মিডিয়া ও অন্যান্য ওয়েবভিত্তিক সংবাদমাধ্যম)। এছাড়া যেসব প্রশ্ন করা হবে সেগুলো হচ্ছে- বাংলাদেশের অবস্থা কেমন হচ্ছে বলে আপনি মনে করেন।

বিশ্বব্যাপী চ্যালেঞ্জের একটি তালিকা দেয়া হল- এর মধ্যে বাংলাদেশে কোনটির সবচেয়ে গুরুতর প্রভাব আছে বলে আপনি মনে করেন। এক্ষেত্রে সন্ত্রাসবাদ, ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তাসহ ১০টি চ্যালেঞ্জ তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশে সরকারি সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে দেশীয় বেসরকারি খাতে আপনি কতটা আস্থা রাখেন। সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বেসরকারি খাতে আপনি কতটা আস্থা রাখেন।

বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রতি সার্বিক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কিত কিছু প্রশ্নও রয়েছে।

জরিপের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা ওআরজি-কোয়েস্ট রিসার্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঞ্জুরুল হক যুগান্তরকে বলেন, এটা নতুনভাবে জানার বিষয় নয়। প্রতি তিন বছর পর বিশ্বব্যাংক গ্রুপ এ ধরনের জরিপ সারা বিশ্বেই পরিচালনা করে থাকে। তারই অংশ হিসেবে জরিপটি পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে সংস্থাটি মূলত তাদের কাজের ফিডব্যাক সম্পর্কে জানতে চায়। প্রথম পর্যায়ের প্রশ্নগুলোর মাধ্যমে তাদের ধারাবাহিক কাজের মাধ্যমে কোনো পরিবর্তন এসেছে কিনা, সেটি সম্পর্কে ধারণা পেতে চায় তারা।