ভারতে বর্তমানে বড় সমস্যা বেকারত্ব

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

ভারতের অর্থনীতির এখন অন্যতম বড় সমস্যা বেকারত্ব। মানুষ চাকরি চান। তাই তার সুযোগ তৈরি করতে হবে। এটাই প্রথম কাজ। রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (আরবিআই) সাবেক গভর্নর রঘুরাম রাজন মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন।

 

এই প্রসঙ্গে শিকাগো গত সপ্তাহে নোবেলজয়ী মার্কিন অর্থনীতিবিদ পল ক্রুগম্যান বলেন, দেশের প্রবৃদ্ধির হার এমন হওয়া উচিত, যাতে তা বিপুলসংখ্যক কর্মসংস্থান তৈরি করে। যারা স্কুল-কলেজ থেকে বেরোচ্ছেন, যারা কৃষিক্ষেত্র ছেড়ে আসছেন, তারা যেন চাকরির সুযোগ পান।

যে তরুণ প্রজন্ম দেশের সম্পদ হতে পারে, তা যেন ‘অভিশাপ’ না হয়ে দাঁড়ায়। ভারতের ন্যাশনাল স্যাম্পেল সার্ভে অফিসের (এনএসএসও) ফাঁস হওয়া রিপোর্ট বলছে, ২০১৭-১৮ সালে দেশটিতে বেকারত্বের হার ছিল ৪৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছে তা ধামাচাপা দেয়ার, যা নিয়ে বিরোধীরা ক্রমাগত আওয়াজ তুলছেন। পরিসংখ্যানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নিয়ে আপত্তি তুলেছেন ১০৮ জন অর্থনীতিবিদ ও সমাজবিজ্ঞানী। অভিযোগ করেছেন, যে পরিসংখ্যান কেন্দ্রের মনমতো নয়, তা-ই বিভিন্ন মাপকাঠি দেখিয়ে হয় ধামাচাপা দেয়া হচ্ছে বা বদলানো হচ্ছে। এ পরিস্থিতে আরবিআইর সাবেক গভর্নর রাজন মনে করছেন, ভারতে দীর্ঘদিন ধরেই চাকরি নিয়ে ভালো তথ্য পাওয়া যায় না। তাই আগে তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি ঠিক করা উচিত। কিন্তু সে জন্য ইপিএফও বা অন্য কোনো পরিসংখ্যান চলবে না।

বরং বিশ্বাসযোগ্য পরিসংখ্যান হাতে থাকা জরুরি। তিনি বলেন, বিশ্বকে বোঝানো উচিত যে ভারত পরিসংখ্যানে কারচুপি করছে না। সে জন্য প্রয়োজনে স্বাধীন কমিটি তৈরি করা হোক। তারাই খতিয়ে দেখে বলুক যে দেশ এখন কোথায় দাঁড়িয়ে। তিনি বলেন, প্রবৃদ্ধির হার কখনও বেড়েছে, কখনও কমেছে। ফলে এখন পরিসংখ্যান অর্থনীতির ঠিক কোন অবস্থার দিকে ইঙ্গিত করছে, তা আমাদের জানা নেই।

এখনকার কর্তব্য হল ভারতের প্রকৃত প্রবৃদ্ধির হার কত, তা খুঁজে বের করা। সাবেক গভর্নরের দাবি, নরেন্দ্র মোদি সরকারের এক মন্ত্রীই বলেছেন যে, ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির দেশে চাকরি নেই, তা হয় কি? একটা বিষয় হতে পারে দেশের অর্থনীতি যে আদৌ ৭ শতাংশ হারে এগোচ্ছে না।