বেসরকারি শিক্ষকদেরও এসিআর চালু হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

প্রথমবারের মতো বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা) কর্মরত শিক্ষকদের জন্য চালু হচ্ছে এসিআর (অ্যানুয়াল সিক্রেট রিপোর্ট)। সংশ্নিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা এই এসিআর লিখবেন। তাতে প্রতিস্বাক্ষর করবেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক। সারাদেশে মাউশির ৯ জন আঞ্চলিক পরিচালক রয়েছেন। আর প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের (অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক) এসিআর লিখবেন মাউশির আঞ্চলিক পরিচালক। তাতে প্রতিস্বাক্ষর করবেন মাউশির কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক। এরপর তা সরকারের কাছে (মাউশিতে) জমা দেওয়া হবে। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা ও যোগ্যদের মূল্যায়নের জন্য এ উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বেসরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের এসিআর চালু করা গেলে পদোন্নতিসহ শিক্ষকদের সার্বিক উন্নয়নে তা কাজে লাগানো হবে। বেতন স্কেলের পরবর্তী উচ্চতর ধাপে যেতেও তা প্রয়োজন হবে। মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বেসরকারি শিক্ষকদের সংখ্যা বিপুল হওয়ায় তাদের এসিআরের বিষয়টি কাগজে-কলমে না করে অনলাইনে 'ই-এসিআর' করার কথা ভাবছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ জন্য পৃথক নতুন একটি সফটওয়্যার তৈরির কথা ভাবা হচ্ছে। আর সহযোগী অধ্যাপকদের এমপিওভুক্তির জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হবে।

জানা গেছে, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা এখন থেকে চাকরির ৬ ও ১০ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড পাবেন। আগে শিক্ষকরা চাকরির ৮ ও ১৬ বছর পূর্তিতে দুটি টাইমস্কেল পেতেন। অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল চালুর সময় টাইমস্কেল উঠিয়ে দেওয়া হয়। এতে শিক্ষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিলেন। এ জন্য এখন চাকরির ১৬ বছরের মধ্যে অন্তত দুটি ধাপে উচ্চতর স্কেল চালু করা হচ্ছে। পাশাপাশি বেসরকারি কলেজের পদোন্নতির সোপান তৈরি করতে সহযোগী অধ্যাপকদেরও এমপিওভুক্ত করার কথা ভাবা হচ্ছে। এ জন্য গত বছরের ১২ জুন জারি করা এমপিওভুক্তির নীতিমালা ও জনবল কাঠামোতেও প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হচ্ছে। বর্তমানে সহযোগী অধ্যাপকরা এমপিওভুক্ত হতে পারেন না। তারা নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন পান।

সূত্র জানায়, বেসরকারি শিক্ষকদের এক প্রতিষ্ঠান থেকে আরেক প্রতিষ্ঠানে বদলি করতে একটি নীতিমালা তৈরির জন্য মন্ত্রণালয় থেকে মাউশিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বিষয়ে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য গত ২৭ মার্চ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অতিরিক্ত সচিব (বেসরকারি মাধ্যমিক)  মো. জাবেদ আহমেদ সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভায় আগামী ৩ এপ্রিলের মধ্যে বেসরকারি শিক্ষকদের বদলির খসড়া নীতিমালা তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মাউশিকে।

জানতে চাইলে অতিরিক্ত সচিব মো. জাবেদ আহমেদ বলেন, 'গত বছরের ১২ জুন জারি করা এমপিওভুক্তির নীতিমালা ও জনবল কাঠামোতে কিছু সুনির্দিষ্ট সংশোধনী আনা হচ্ছে। বেসরকারি শিক্ষকদের পদোন্নতি, এসিআরসহ নানা বিষয়ে সংস্কার ও পরিবর্তন আসবে। আর পরিবর্তনের সব কিছু শিক্ষকদের কথা ভেবেই করা হচ্ছে। চাকরির ১৬ বছরে দুটি উচ্চতর গ্রেড শিক্ষকরা পাবেন। বেসরকারি শিক্ষকদের বদলির জন্য নীতিমালা করা হচ্ছে। সহযোগী অধ্যাপকদের এমপিওভুক্ত করার বিষয়টিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন লাগবে। এ জন্য প্রস্তাব তৈরি করে পাঠানো হবে।'

সভায় অংশ নেওয়া মাউশির পরিচালক (মাধ্যমিক) অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান বলেন, 'আগেই টাইমস্কেল উঠে গেছে। এখন উচ্চতর গ্রেড নামে হোক, আর যে নামেই হোক, শিক্ষকরা চাকরির ১৬ বছরে দুটি সুবিধা পাবেন।