এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে অনুপস্থিত ১৫ হাজার ॥ বহিষ্কার ২৭

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

সারাদেশে প্রশ্নফাঁস মুক্ত উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের প্রথম দিনের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এদিন সারাদেশের ১০টি বোর্ডে মোট ১৪ হাজার ৯৮৮ পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। অসাধুপন্থা অবলম্বন করায় ২৭ পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সোমবার আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
গতকাল  সোমবার আটটি সাধারণ বোর্ডের অধীনে বাংলা ১ম পত্র (আবশ্যিক), সহজ বাংলা ১ম পত্র, বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশের সংস্কৃতি ১ম পত্র, মাদরাসা বোর্ডের অধীনে কুরআন মাজিদ ও কারিগরি বোর্ডের অধীনে বাংলা ১ম পত্র (আবশ্যিক) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এবার সারাদেশে ১০টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১৩ লাখ ১১ হাজার ৪৫৭ পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণের কথা থাকলেও এদিন ১৪ হাজার ৯৮৮ জন অনুপস্থিত ছিল।
১০টি শিক্ষাবোর্ড বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এইচএসসি পরীক্ষার প্রথমদিন ঢাকা বোর্ডে মোট ৩ হাজার ৪০ শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। অসাধুপন্থা অবলম্বন করায় একজন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। রাজশাহী বোর্ডে অনুপস্থিত ১ হাজার ৪৪৬, বহিষ্কার হয়নি কেউ। কুমিল্লা বোর্ডে অনুপস্থিত ৮৫১, বহিষ্কার এক। যশোর বোর্ডে অনুপস্থিত ১ হাজার ১৫৬, বহিষ্কার এক। চট্টগ্রাম বোর্ডে অনুপস্থিত ৯৮৩, বহিষ্কার এক। সিলেট বোর্ডে অনুপস্থিত ৭১৯। বরিশাল বোর্ডে অনুপস্থিত ৮০৩, দিনাজপুর বোর্ডে অনুপস্থিত ১ হাজার ১৬২ জন।
অন্যদিকে, মাদরাসা বোর্ডে অনুপস্থিত ২ হাজার ৬১৪, বহিষ্কার এক। কারিগরি বোর্ডে অনুপস্থিত ২ হাজার ২১৪, বহিষ্কার ২২ জন। সব মিলিয়ে উপস্থিতি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১০ লাখ ৭৮ হাজার ৬০১ জন। অনুপস্থিত ১৪ হাজার ৮৯৯। বহিষ্কারের সংখ্যা ২৭।
তথ্যমতে, পরীক্ষার সময়সূচি অনুযায়ী ১ এপ্রিল থেকে ১১ মে পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে লিখিত পরীক্ষা। আর ১২ থেকে ২১ মে’র মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা হবে।
এদিকে রংপুরে সোমবার বিদ্যুৎ না থাকায় মোমবাতি জ্বালিয়ে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। জেলার প্রায় সব পরীক্ষাকেন্দ্রে একই অবস্থা থাকলেও কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। রংপুর নগরীর শালবন এলাকায় সরকারি রোকেয়া কলেজকেন্দ্রে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীরা মোমবাতি নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ করছেন।
কয়েক পরীক্ষার্থী জানান, সকাল থেকে পরীক্ষাকেন্দ্রে বিদ্যুৎ নেই। কক্ষগুলো অন্ধকার, তাই বাধ্য হয়ে মোমবাতি নিয়ে পরীক্ষা দিতে যাচ্ছেন তারা। রংপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত সাদিয়া সুমী জানান, রোববার রাতে ঝড় হওয়ায় নগরীর বেশিরভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীরা মোমবাতি জ্বালিয়ে পরীক্ষা দিচ্ছেন। তবে কয়েকটি কেন্দ্রে চার্জার লাইট ও ব্যাটারি দিয়ে বিকল্প ব্যবস্থায় পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে।
এ ব্যাপারে পিডিবির এক কর্মকর্তা বলেন, রোববার মধ্যরাতে ঝড় হওয়ায় বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে যায়। এ ছাড়া বিদ্যুৎ লাইনে গাছপালা পড়ায় দুটি ফিডার ছাড়া সব ফিডারে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।