বাংলাদেশ সম্পর্কে জানতে শ্রীমঙ্গলে ৫৩ দেশের কূটনীতিক

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ভারতসহ ৫৩ দেশের কূটনীতিক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা শুক্রবার সারা দিন শ্রীমঙ্গলে আনন্দঘন পরিবেশে কাটিয়েছেন।

তাদের সঙ্গে কয়েকটি উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও সংস্কৃতিসমৃদ্ধ গ্রাম ঘুরে দেখেন। পরে তারা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আমন্ত্রণে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরা চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গলের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ঘুরে দেখেন।
শ্রীমঙ্গলের গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফ-এ প্রেস ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন জানান, আমাদের গর্ব করার মতো অনেক কিছু আছে।

আমাদের দেশটা অনেক সুন্দর, আমাদের সংস্কৃতি অনেক সমৃদ্ধ। আমাদের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরতেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিদেশি কূটনীতিকদের আমন্ত্রণ জানায়। তিনি বলেন, ঢাকা একটা সীমাবদ্ধ জায়গা।

বাংলাদেশকে ভালোভাবে জানার মতো কূটনীতিকদের তেমন সুযোগ হয় না। তাই বাংলাদেশ সম্পর্কে অবহিত করতেই তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশের মিডিয়া খুললেই দেখা যায়, শুধু মারামারি ও কাটাকাটির খবর।
পৃথিবীর অনেকে দেশেই আমাদের চেয়ে বেশি মারামারি-কাটাকাটি হয় কিন্তু ওই সব দেশের মিডিয়া এসব তুলে ধরে না। দেশের মিডিয়াকে এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন বলেন, রোহিঙ্গারা কতদিন বাংলাদেশে থাকবে সেটা তার জানা নেই। রোহিঙ্গাদের নামে আন্তর্জাতিক সাহায্য দিন দিন কমে যাচ্ছে। সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তাদের দ্রুত প্রত্যাবর্তনের।

দুর্নীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে কিছু লোক আছে দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। বিমানের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিমানের টিকিট কাটতে গেলে পাওয়া যায় না। ৪১৯ জনের প্লেন অথচ বিমানে উঠলে দেখা যায় মাত্র ৫৩ জন যাত্রী। পুরো সিট খালি। কোটি কোটি টাকা বিমানকে লস দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ চোরদের তারা শনাক্ত করতে পেরেছেন। তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে চলছে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে তিনি কঠোর অবস্থানে রয়েছেন।

ড. মোমেন আরও বলেন, বিভিন্ন দেশে এক কোটি ১৬ লাখ বাংলাদেশি রয়েছেন। ভাষাগত কারণে বাংলাদেশি নারী ও পুরুষ বিদেশে যাওয়ার পর সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন। অনেকে ইংরেজিতে কথা বলতে পারেন না। আবার অনেকে আরবিতেও কথা বলতে পারেন না। এজন্য বিদেশে যাওয়ার আগে সরকার তাদের ভাষা শেখাচ্ছে ও ট্রেনিং দিচ্ছে। তবে ইতিমধ্যে বিদেশে গিয়ে যারা সমস্যায় পড়ছেন তাদের জন্য সরকার আশ্রয় কেন্দ্র গড়ে তুলেছে। অনেকেই সেখানে আশ্রয় নিচ্ছেন। সহায়তা পাওয়ার পর তাদের অনেকে আর দেশে আসতে চাচ্ছেন না।

কূটনীতিকরা গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফ-এ পৌঁছলে মনিপুরী নৃত্যের মাধ্যমে তাদের অভ্যর্থনা জানানো হয়। এ সময় মৌলভীবাজার জেলা প্রসাশক মো. তোফায়েল ইসলাম, পুলিশ সুপার মো. শাহ জালাল, এডিসি (রাজস্ব) আশরাফুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নহরুল ইসলাম, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আশরাফুজ্জামান, অফিসার ইনচার্জ কেএম নজরুল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বিকালে রামনগর মনিপুরী গ্রাম পরিদর্শন করেন অতিথিরা। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগদান শেষে তারা ইস্পাহানি চা বাগান ও চা কারখানা পরিদর্শন করেন। শনিবার সকালে ঢাকার উদ্দেশে তারা শ্রীমঙ্গল ত্যাগ করবেন।