ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন বারবারা বুশ

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যেমন অসংখ্য ভক্ত রয়েছে তেমনি তাকে অপছন্দ করা মানুষের সংখ্যাও নেহাত কম নয়।  সাবেক মার্কিন ফার্স্ট লেডি বারবারা বুশ ট্রাম্পের সমালোচকদের অন্যতম। তিনি ট্রাম্পকে লোভী, স্বার্থপর এবং কুৎসিত হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। এছাড়া বারবারা বুশ তার বিছানার পাশে একটি ঘড়ি রেখেছিলেন। প্রায় সময় তিনি ঘড়িটির দিকে তাকিয়ে ট্রাম্পের মেয়াদ কখন শেষ হবে তার জন্য দিন গুণতেন।

বারবারা বুশ যে ট্রাম্পকে অপছন্দ করতেন বিষয়টি তার অগোচরে ছিল না। তিনিও এই ব্যাপারটি ভালোভাবেই জানতেন। সম্প্রতি সাবেক এই ফার্স্ট লেডির বিরাগের ব্যাপারে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে প্রশ্ন করা হয়। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন টাইমস পত্রিকার কাছে সাক্ষাতকার দেয়ার সময় তিনি এই প্রশ্নের সম্মুখীন হন।

উত্তরে প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি শুনেছি আমার প্রতি তিনি অসন্তুষ্ট ছিলেন, তার সেটা হওয়াই উচিত। দেখেন আমি তার ছেলেদের কি করেছি।’

প্রসঙ্গত, ট্রাম্প এবং বুশ পরিবারের মধ্যে তিক্ততার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ১৯৯০ সাল থেকেই বারবারা বুশ ট্রাম্পকে অপছন্দ করতেন। সেসময় তিনি তার ডায়েরিতে লিখেছিলেন, লোভ, স্বার্থপরতা এবং কুৎসিতের প্রতিনিধিত্ব করে ডোনাল্ড ট্রাম্প।  

সম্প্রতি প্রকাশিত বারবারা বুশের নতুন জীবনকাহিনী ‘দ্য ম্যাট্রিয়ার্ক:বারবারা বুশ অ্যান্ড দ্য মেকিং অব অ্যা ডাইনেস্টি’ বইতে ট্রাম্পের ব্যাপারে তার এই মনোভাবের কথা খুব ভালোভাবেই ফুটে উঠেছে।

বুশ পরিবার যে রিপাবলিকান পার্টিকে চিনতেন ট্রাম্পের যুগে তার অনেক পরিবর্তনই হয়েছে। এজন্যই হয়তো মৃত্যুর এক মাস আগে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি নিজেকে আর রিপাবলিকান হিসেবে মনে করেন না বলেই উল্লেখ করেছিলেন।

২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী বাছাই প্রতিযোগিতার সময় ট্রাম্প বারবারা বুশের দ্বিতীয় পুত্র জেব বুশকে পরাজিত করেন। তিনি জেব বুশকে ‘কম শক্তির জেব’ বলে উপহাস করেছিলেন। অথচ অনেকেই ভেবেছিলেন জেব বুশই রিপাবলিকান দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হবেন।

এই ব্যাপারে সাক্ষাতকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘সাউথ ক্যারোলিনায় আমি তাকে খুব কঠিন আঘাত করেছিলাম। আপনার সেটা মনে আছে? সে সাউথ ক্যারোলিনায় জয়ী হবে ভেবেছিল অথচ আমি ভূমিধস বিজয় লাভ করেছিলাম। আমি তাকে খুব শক্ত আঘাতই করেছিলাম।’

এছাড়া নির্বাচনী প্রচারণার সময় বারবারা বুশের প্রথম পুত্র এবং ৪৩ তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লিউ বুশকে ইরাক যুদ্ধের জন্য দায়ী করে তার সমালোচনা করেছিলেন ট্রাম্প।

অবশ্য বুশ ভাইয়েরা ট্রাম্পের সঙ্গে কথার দ্বন্দ্বে জড়াতে চান না। তবে জর্জ ডাব্লিউ বুশ ট্রাম্পের নীতির বিপক্ষে মাঝে মাঝে নিজের মন্তব্য করে থাকেন। যেমন সম্প্রতি তিনি অভিবাসন নিয়ে কথা বলেছেন।

২০১৬ সালে মার্কিন নির্বাচনের সময় বারবারা বুশ যে উৎকণ্ঠা ভোগ করেছিলেন তার জন্য ট্রাম্পকেই দায়ী করেছিলেন তিনি।  তার জীবনীতে বলা হয়েছে, নির্বাচনের পরদিন সকালে তিনি জেগে উঠেন এবং ভয়ের সঙ্গে আবিষ্কার করেন ট্রাম্প জয়লাভ করেছে।

বারবারা বুশের বইয়ে উল্লেখ আছে তিনি তার বিছানার পাশে একটি ঘড়ি রেখেছিলেন। প্রায় সময় তিনি ঘড়িটির দিকে তাকিয়ে ট্রাম্পের মেয়াদ কখন শেষ হবে তার জন্য দিন গুণতেন।