চার লেনের এক্সপ্রেসওয়ের কাজ ৪০ শতাংশ শেষ : ঢাকা-খুলনা

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

হুল আকাক্সিক্ষত ও আলোচিত পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে চলার সঙ্গে সঙ্গে ঢাকা-খুলনা চার লেনের এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজেরও অগ্রগতি হয়েছে। রাত-দিন একটানা কাজ চলছে। এই এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে দেশি-বিদেশি প্রকৌশলী ও শ্রমিকরা এখন গলদঘর্ম। সড়ক নির্মাণের পাশাপাশি ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণকাজও সমান তালে এগোচ্ছে। ট্রাকের পর ট্রাক মাটি ও বালু ফেলে রাস্তার প্রশস্তকরণের কাজ চলছে। এভাবে একটানা কাজ করা সম্ভব হলে পদ্মা সেতুর আগেই এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ হবে এবং যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসের মধ্যে ঢাকা-খুলনা এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। সেই হিসাবে ১৩ মাস সময় হাতে রয়েছে। এই সময়ের মধ্যেই সরকার দেশের প্রথম এই এক্সপ্রেসওয়ের কাজ শেষ করতে চায়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনন্সট্রাকশন ব্রিগেডের তত্ত্বাবধানে পুরো প্রকল্পের নির্মাণকাজ চলছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্ষা মৌসুমে অতিবৃষ্টির কারণে এ ধরনের নির্মাণকাজ চরমভাবে ব্যাহত হয়। পানি জমে থাকার কারণে কখনো কখনো একটানা অনেক দিন কাজ করা সম্ভব হয় না। এই বিষয়টি মাথায় রেখে শীত মৌসুমে এবং বর্ষা আসার আগেই যতটা সম্ভব বেশি কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে। বর্ষা মৌসুম আসার আগেই প্রকল্পের ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। ব্রিজ ও কালভার্টগুলোর নির্মাণকাজ পুরোদমে চলছে। এগুলোর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মূল রাস্তার কাজের ওপর আরো জোর দেয়া হবে।

বর্ষা মৌসুম পুরোপুরি আসতে এখনো কয়েক মাস বাকি। তাই প্রকল্পের প্রকৌশলী ও নির্মাণ-সংশ্লিষ্টদের এখন আর বিশ্রাম নাই। এই প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করার লক্ষ্যে পুরো কাজ একাধিক দেশি-বিদেশি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ওই প্রতিষ্ঠানগুলোও নিজ নিজ অংশের কাজ দ্রুত শেষ করতে চায়। দায়িত্ব পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর একাংশের কাজ শেষ হলে পাশের অপর অংশের কাজের দায়িত্ব পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর বসে থাকার কোনো সুযোগ নেই। তাই সব প্রতিষ্ঠানেরই কাজ দ্রুত শেষ করার ব্যাপারে ব্যস্ততা রয়েছে। প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারাও কাজের তদারকি করছেন। সরেজমিন দেখা গেছে, রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে মাওয়া পর্যন্ত দীর্ঘ ৩৫ কিলোমিটার সড়কের সর্বত্রই এখন এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজের ব্যস্ততা নজরে পড়ে। কোথাও মাটির স্ত‚প, আবার কোথাও বালু ও পাথরের স্ত‚প। মূল এক্সপ্রেসওয়ের জন্য কোথাও ফ্লাইওভারের, আবার কোথাও বড় সেতু নির্মাণে দেশি-বিদেশি নির্মাণ-সংশ্লিষ্টদের ব্যস্ততাও নজরে পড়ে। ধুলিময় পুরো এলাকা। নির্মাণকাজের কারণে রাস্তার বিভিন্ন পয়েন্টে দীর্ঘ যানজট বেঁধে যাচ্ছে। যাত্রীদের ভোগান্তিও চরমে। ঢাকা থেকে মাওয়া যেতে আগে পৌনে দুই ঘণ্টা বা ২ ঘণ্টা লাগত। এখন এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজের কারণে কখনো কখনো প্রায় ৪ ঘণ্টাও সময় লাগছে। এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের জন্য ঢাকা-মাওয়া সড়কের শত শত স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়েছে। এসব স্থাপনা ভেঙে ফেলার পর নির্মাণশ্রমিকরা এখন সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ করছেন।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মূলত দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে সড়কপথে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি করার লক্ষ্যেই সরকার এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করে। একই সঙ্গে মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দর দুটির ব্যবহার বাড়ানো এবং যাতায়াতে সময় কমাতে এক্সপ্রেসওয়ের পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। যাত্রাবাড়ী থেকে মাওয়া পর্যন্ত যেমন দ্রুতগতিতে কাজ চলছে, তেমনি মাদারীপুরের ভাঙ্গা থেকে ফরিদপুর পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার সড়কের কাজও একই গতিতে চলছে। এই সড়কে ৩১টি বড় সেতু থাকবে। এতে ৬টি ফ্লাইওভার থাকবে। ওভারপাস যেমন আছে, তেমনি আন্ডারপাসও থাকবে। এতে কোথাও কোনো ট্রাফিক সিগন্যাল থাকবে না। ৪টি ওভারপাসের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে ১৫টি আন্ডারপাস দিয়ে কোনো ধরনের বাধা-বিঘ্ন ছাড়াই নিরবচ্ছিন্নভাবে যানবাহন চলাচল করতে পারবে- সে জন্যই এই এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে। যেখানে-সেখানে কোনো যানবাহন থামানোর সুযোগ থাকবে না। তবে স্থানীয়দের এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। স্থানীয় জনগণের চলাচলের জন্য চার লেনের এক্সপ্রেসওয়ের দুই পাশে পৃথক দুটি লেন থাকবে। স্থানীয়রা এই লেন ব্যবহার করে চলাচল করতে পারবেন। এই দুটি লেনসহ গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়ক হচ্ছে ৬ লেনের মহাসড়ক বা দেশের প্রথম এক্সেপ্রেসওয়ে।

কয়েক মাসের মধ্যেই এই নির্মাণকাজ দৃশমান হবে।