মেসির রেকর্ডগড়া ম্যাচ জিতে শিরোপার আরো কাছে বার্সা

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

শেষ এক ঘণ্টা ১০ জন নিয়ে খেলেও বার্সেলোনার মাঠে দারুণ লড়াই করেছিল অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। গোলরক্ষক ইয়ান ওবলাকের বীরত্বে পয়েন্ট নিয়ে ন্যু ক্যাম্প ছাড়ার ইঙ্গিত দেয় তারা। কিন্তু শেষ দিকে লুই সুয়ারেস ও লিওনেল মেসির গোলে ২-০ তে জিতেছে কাতালান জায়ান্টরা।

নভেম্বরে অ্যাটলেটিকোর মাঠে দুদলের মধ্যে লিগের প্রথম পর্বের ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল। লিগের সাত ম্যাচ বাকি থাকতে আতলেতিকোর চেয়ে ১১ পয়েন্টে এগিয়ে গেল কাতালান ক্লাবটি। দুর্দান্ত এই জয়ে লিগ শিরোপা ধরে রাখার পথে বড় এক লাফ দিল এরনেস্তো ভালভারদের দল।

সেই সঙ্গে লা লিগায় অধিনায়ক হিসেবে সর্বোচ্চ জয়ের রেকর্ডটিও একার করে নিলেন মেসি।

আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের ম্যাচ শুরু থেকেই ছড়ায় উত্তাপ। সেই উত্তাপে গোল না এলেও ২৮তম মিনিটে সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি খায় অ্যাটলেটিকো। রেফারির একটি সিদ্ধান্তে ক্ষেপে গিয়ে তার মুখের সামনের গিয়ে আপত্তিজনকভাবে প্রতিবাদ করেন দিয়াগো কস্তা। এর প্রতিক্রিয়ায় সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় ব্রাজিলে জন্ম নেওয়া স্প্যানিশ এই স্ট্রাইকারকে।

১০ জনের জালে একের পর এক আক্রমণ শানিয়েও ওবলাক বাধা ডিঙাতে পারছিল না বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষুরধার মেসি-সুয়ারেজ জুটি।

অবশেষে ৮৫তম মিনিটে অপেক্ষা শেষ হয় বার্সেলোনার। আলবার পাস ধরে খানিকটা এগিয়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের বাঁকানো শটে জাল খুঁজে নেন সুয়ারেজ। আসরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতার এটি ২০তম গোল।

পরের মিনিটেই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মেসি। ডি-বক্সে আর্জেন্টিনা অধিনায়ককে বাধা দিতে গিয়ে পড়ে যান ডিফেন্ডার হোসে হিমেনেস। সেই সুযোগে বিনা বাধা আরও কয়েক পা আড়াআড়ি গিয়ে বাঁ পায়ের নিচু শটে আসরে ৩৩তম গোলটি করেন পাঁচবারের বর্ষসেরা ফুটবলার। মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে তার গোল হলো ৪৩টি।

এই নিয়ে লিগে ঘরের মাঠে টানা আট ম্যাচে জালের দেখা পেলেন মেসি। আর অ্যাটলেটিকোর বিপক্ষে এই নিয়ে ২৯ গোল করলেন তিনি। কোনো এক দলের বিপক্ষে গোলের হিসেবে মেসি সর্বোচ্চ গোল সেভিয়ার বিপক্ষে, ৩৬টি।

ম্যাচের বাকিটা সময় নির্বিঘ্নে পার করে দিয়ে লা লিগার চলতি মৌসুমে ২২তম জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা।

বার্সেলোনার এ জয়ে রেকর্ড হয়ে যায় মেসিরও। লা লিগায় নিজের ৩৩৫তম জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। এর আগে লা লিগায় সর্বোচ্চ জয়ের রেকর্ডটি ছিল রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক অধিনায়ক ইকের কাসিয়াসের। 

এস্পানিওলের বিপক্ষে ম্যাচের পরই মেসিকে আগাম অভিনন্দন জানিয়ে রেখেছিলেন কাসিয়াস, “রেকর্ডটা রিয়াল মাদ্রিদের একজন খেলোয়াড় স্পর্শ করলে আমি বেশি খুশি হতাম। কিন্তু এ ধরনের রেকর্ড গড়াই হয় ভাঙার জন্য। আর সে সবসময় অসাধারণ। স্বীকৃতিটা তার (মেসির) প্রাপ্য।”

৩১ ম্যাচে ২২ জয় সাত ড্রয়ে বার্সেলোনার পয়েন্ট হলো ৭৩। দুইয়ে থাকা দিয়েগো সিমেওনের দলের পয়েন্ট ৬২।

দিনের প্রথম ম্যাচে করিম বেনজেমার জোড়া গোলে এইবারকে ২-১ ব্যবধানে হারানো রিয়াল মাদ্রিদ ৬০ পয়েন্ট নিয়ে আছে তৃতীয় স্থানে।