ছাত্রলীগের বাধায় টেন্ডার কিনতে পারলেন না ঠিকাদাররা

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

ছাত্রলীগের বাধার কারণে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে মেরামত কাজের দরপত্র কিনতে পারলেন না সাধারণ ঠিকাদাররা। শুধু তাই নয়, তাদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এ কারণে তারা নিরাপত্তাহীনতায় আছেন। পাশাপাশি ঠিকাদারদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির কাছে ন্যায়বিচার দাবি করা হয়েছে। জানা যায়, টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরামত কাজের জন্য গত ২০ মার্চ এক কোটি ৩৩ লাখ টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়। নিয়মানুযায়ী তালিকাভুক্ত সব ঠিকাদরই দরপত্র কিনতে পারবেন। রোববার ছিল দরপত্র কেনার শেষ দিন।

এদিন কদমরসুল এন্টারপ্রাইজের মালিক মেহের উদ্দিন দরপত্র কিনতে যান। কক্ষের ভেতরে ঢুকলে ছাত্রলীগের ৮-১০ জন তাকে বাধা দেয়। তারা জানায়, দরপত্র বিক্রি হয়ে গেছে।

এছাড়া গত বৃহস্পতিবার কালাম এন্টারপ্রাইজের মালিক আবুল কালাম আজাদকেও দরপত্র কিনতে বাধা দেয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এ বিষয়ে আবুল কালাম আজাদ যুগান্তরকে বলেন, দরপত্রের সিডিউল কেনার অধিকার সব ঠিকাদারের রয়েছে। তালিকাভুক্ত ঠিকার হিসেবেই আমি সিডিউল কিনতে গিয়েছিলাম।

আমাকে দেখার পর ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা একটি কক্ষে নিয়ে যান। তারা আমাকে আধাঘণ্টা ভেতরে আটকে রেখে ভয়ভীতি দেখায়। মারধর করার হুমকি দিলে দরপত্র না কিনে কোনো রকমে জীবন নিয়ে পালিয়ে আসি।

তিনি অভিযোগ করেন, টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল আলম সাকিবের ঠিকাদারি লাইসেন্স আছে। তিনিই যাতে কাজ পান সে কারণে আমিসহ অন্য কাউকে টেন্ডার ড্রপ করতে দেয়া হয়নি।

আমি ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বলেছিলাম, আমি কাজ পেলেও নিজে করব না। তোমাদের দিয়ে করাব। তার পরও তারা আমাকে দরপত্র কিনতে দেয়নি। আবুল কালাম জানান, আমি ছাড়া আরও পাঁচ-সাতজন ঠিকাদার পরপত্র কিনতে চেয়েছিলেন। সবারই একই অবস্থা। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি আবুল কাশেমের কাছে অভিযোগ দিলে তিনি জানান, তার কিছু করার নেই।

জনতে চাইলে টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি আবুল কাশেম যুগান্তরকে বলেন, এ বিষয়টি অমি ভালোভাবে অবগত নই। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক (পরিকল্পনা) আবদুস সাত্তার শিকদার ভালো বলতে পারবেন। তবে এটুকু বলতে পারি, যদি কেউ দরপত্র প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অভিযোগের বিষয়ে টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল আলম সাকিব বলেন, দরপত্র বিক্রির বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। আমি বা আমার সাধারণ সম্পাদক কেউই এর সঙ্গে জড়িত নন।

দরপত্র দাখিলের বিষয়টি সবার জন্য উন্মুক্ত। এখানে কাউকে বাধা দেয়া, ভয়ভীতি দেখানো বা হুমকি দেয়ার অবকাশ নেই। ‘আপনার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওই দরপত্রে অংশ নিয়েছে কিনা’ জানতে চাইলে বলেন, আমরা এসবের সঙ্গে নেই।