জীবন বাঁচাতে প্রশিক্ষণ

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

চকবাজার ও বনানীর ভয়াবহ অগ্নিদুর্ঘটনা, রানা প্লাজার ভবনধস, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য জেলাগুলোতে ভূমিধসসহ সিডরের মতো ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ে প্রচুর প্রাণহানি ও অপূরণীয় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অথচ অধিকাংশ মানুষ জানে না আগুন লাগলে কী করণীয়, ধোঁয়ায় আটকা পড়লে কী করতে হয়, বন্যায় কিংবা ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে কী করা উচিত। এসব দুর্যোগের শিকার যাঁরা হয়েছেন এবং স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যাঁরা কাজ করেছেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা–বিষয়ক প্রশিক্ষণ যদি তাঁদের থাকত তাহলে প্রাণহানি–দুর্ঘটনা অনেক কম হতো।

এমন ভাবনা থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা–বিষয়ক সংগঠন ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশ সংসদ’–এর জন্ম। সংগঠনটি ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশগত নিরাপত্তা’ শিরোনামে তিন মাস মেয়াদি প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু করে ২০১১ সালে। এ পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ১০০ জনকে এই কর্মশালার মাধ্যমে হাতে–কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

যেভাবে শুরু
ঘূর্ণিঝড় সিডর আঘাত হানার পর আক্রান্ত এলাকায় গিয়ে ত্রাণ ও প্রয়োজনীয় সেবাদান কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন শাহীন রেজা। তখনই বিষয়টি নিয়ে ভাবতে শুরু করেন তিনি। বাংলাদেশে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়টিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আলাদা বিভাগ হিসেবে পড়ানো হলেও খুব সীমিত শিক্ষার্থী এসব জায়গায় পড়ার সুযোগ পান। তাহলে দেশের বিশাল একটি অংশ কি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে জানার বা প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ পাবে না? এমন ভাবনা থেকেই সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। বর্তমানে তিনি এই সংগঠনের নির্বাহী উপদেষ্টা।

 ‘পত্রিকা পড়ে জেনেছিলাম, এ দেশে মাত্র ৮ মাত্রার ভূমিকম্প হলেই ৭০ হাজার ভবন ধসে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। এত বড় দুর্যোগে কে কার পাশে এসে দাঁড়াবে? কীভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে? এই ভাবনা থেকে আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার কার্যক্রম শুরু করি।’ বলছিলেন শাহীন রেজা। ২০১০ সালের ৭ নভেম্বর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে মাত্র এক দিনের জন্য তাঁদের প্রথম কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছিল। ৬০ আসনক্ষমতার মিলনায়তনে ৭৫ আগ্রহী ব্যক্তি অংশ নেন। সংগঠনটিকে এগিয়ে নেওয়ার উৎসাহ পান কর্মীরা।

২০১১ সালের ৫ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে সংগঠনটি। প্রথম দফায় কর্মী হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী। কর্মশালার মেয়াদ তিন মাস। তিন ঘণ্টা করে মোট ১২টি ক্লাস। ফেসবুকের নিজেদের পেজের মাধ্যমে, রাস্তায় পোস্টার লাগিয়ে, লিফলেট বিতরণ করে দিনক্ষণ জানানো হয়। নিবন্ধনের সুযোগ থাকে কর্মশালার আগের দিন পর্যন্ত। প্রশিক্ষণ শেষে মূল্যায়ন পরীক্ষা নেওয়া হয় এবং সনদ প্রদান করা হয়। মিলনায়তন ভাড়া ও প্রশিক্ষকদের সম্মানী দেওয়ার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং অন্য যেকোনো ব্যক্তির কাছ থেকে নেওয়া হয় ২ হাজার টাকা।