পবিত্র শবেবরাত ২১ এপ্রিলই

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

পূর্বঘোষণা অনুযায়ী ২১ এপ্রিল রাতেই পবিত্র শবেবরাত পালিত হবে। মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির প্রধান ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আবদুল্লাহ।

চাঁদ দেখা নিয়ে বিতর্ক ওঠায় গঠন করা ১১ সদস্যের উপকমিটির সিদ্ধান্তের আলোকে প্রতিমন্ত্রী এ কথা জানান। এ সময় ধর্ম সচিব আনিছুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

১৩ এপ্রিল বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক শেষে ওই কমিটি গঠিত হয়, যার প্রধান ছিলেন বিশিষ্ট আলেম ও মারকাজুদ দাওয়া আল ইসলামিয়ার শিক্ষা সচিব মাওলানা মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক।

সেই উপকমিটি মঙ্গলবার সকালে বৈঠক করে সুপারিশমালা তৈরি করে এবং তা ধর্ম মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। কমিটির প্রধানকে পাশে রেখে সুপারিশমালা প্রকাশকালে প্রতিমন্ত্রী জানান, ২১ এপ্রিল (রোববার) রাতেই শবেবরাত পালনের সিদ্ধান্ত বহাল থাকছে।

এর আগে ৬ এপ্রিল চাঁদ দেখা কমিটি সভা করে জানিয়েছিল, ওই দিন দেশের আকাশে কোথাও শাবান মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে ৮ এপ্রিল থেকে শাবান মাস গণনা শুরু হবে এবং ২১ এপ্রিল রাতে পবিত্র লায়লাতুল বরাত পালিত হবে।

তবে ‘মজলিসু রুইয়াতিল হিলাল’ নামে একটি সংগঠন দাবি করে, সেদিন খাগড়াছড়িতে চাঁদ দেখা গেছে। তাদের দাবি, ২০ এপ্রিল রাতে শবেবরাত পালিত হওয়ার কথা। এ নিয়ে বিতর্ক এড়াতেই সরকার উপকমিটি গঠন করে। শেষ পর্যন্ত উপকমিটি আগের সিদ্ধান্তই বহাল রাখার সুপারিশ করল।

লিখিত সুপারিশ সাংবাদিকদের পড়ে শোনান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালকের কার্যালয়ে উপকমিটির সদস্যরা বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিভিন্ন দিক নিয়ে শরিয়তের আলোকে পর্যালোচনা করেন।

বেলা ১২টার দিকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দু’জন কর্মকর্তাকে পাঠান, যারা চাঁদ দেখেছেন মর্মে দাবি করেছেন, তাদের সাক্ষ্য দিতে আনার জন্য। কিন্তু তাদের আহ্বানে সাক্ষীরা সাক্ষ্য দিতে না এসে অপ্রাসঙ্গিক কিছু শর্ত জুড়ে দেন।

বিষয়টি উপকমিটিকে অবহিত করা হলে সভার সদস্যরা ওই শর্তগুলো শরিয়তের সাক্ষ্য প্রদানের নিয়মবহির্ভূত আখ্যা দিয়ে শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী কমিটির সদস্য সচিব বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মুহাম্মদ মিজানুর রহমানকে পাঠান। কিন্তু এরপরও তারা সাক্ষ্য দিতে আসেননি এবং আগের মতো অপ্রাসঙ্গিক শর্ত জুড়ে দেন।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেহেতু সাক্ষীরা উপকমিটির বারবার অনুরোধের পরও সাক্ষ্য দিতে উপস্থিত হননি, বরং সাক্ষ্য দেয়ার জন্য এমন কিছু শর্ত দিয়েছেন, যেভাবে সাক্ষ্য গ্রহণের কোনো ভিত্তি নেই শরিয়তে। তাই চাঁদ দেখার কোনো সাক্ষ্য না পাওয়ায় ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী চাঁদ দেখা কমিটির ৬ এপ্রিল ঘোষিত সিদ্ধান্ত বহাল থাকছে। উপকমিটি সর্বসম্মতিক্রমে এ ঘোষণাটি পেশ করেছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি পুরোপুরি ধর্মভিত্তিক এবং অরাজনৈতিক। তারা (চাঁদ দেখা দাবিকারীরা) কারা আমরা জীবনেও শুনিনি। তারা হাইকোর্ট পর্যন্ত গেছে।

শেখ মো. আবদুল্লাহ বলেন, আলেম-ওলামারা যে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, এর মধ্যে কোনো রাজনীতি নেই, কোনো দলাদলি নেই, কোনো হিংসা-বিদ্বেষ নেই। আছে একমাত্র শরিয়তের বিধান।