গুরুত্ব পাচ্ছে ধর্মীয় খাতে সর্বোচ্চ ব্যয়ের প্রকল্প

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

আসন্ন বাজেটে গুরুত্ব পাচ্ছে দেশের ইতিহাসে ধর্মীয় খাতে এককভাবে সর্বোচ্চ ব্যয় প্রকল্প। এ প্রকল্পের আওতায় প্রত্যেক জেলা ও উপজেলায় একটি করে মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন করা হবে।

 

এ প্রকল্পে আগামী বাজেটে ৬ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। প্রকল্পটি সৌদি অর্থায়নে বাস্তবায়নের কথা ছিল। কিন্তু দেশটির অনীহার কারণে শেষ পর্যন্ত নিজস্ব উদ্যোগে বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে সরকার। সম্প্রতি বরাদ্দ চেয়ে অর্থসচিবকে ডিও লেটার দিয়েছে ধর্ম সচিব। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সম্প্রতি একটি প্রাক-বাজেট বৈঠকে বলেছেন, সব ধরনের অবকাঠামো উন্নয়নে বেশি নজর দেয়া হবে। অবকাঠামো উন্নয়নে বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। মসজিদ ও মন্দির সংস্কারেও বরাদ্দ রাখা হবে।

কথা হয় ধর্ম সচিব মো. আনিসুর রহমানের সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন করতে আসন্ন বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থ চাওয়া হয়েছে। আশা করছি অর্থ মন্ত্রণালয় আমাদের প্রস্তাবটি ইতিবাচকভাবে পর্যালোচনা করে বরাদ্দ দেবে। এতে নির্ধারিত সময়ে ও সুষ্ঠুভাবে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।

এর আগে ধর্ম সচিব (রুটিন দায়িত্ব) কাজী হাসান আহমেদ ডিও লেটারে বলেছেন, প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে মোট ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এজন্য এ প্রকল্পে (১ম সংশোধিত) ৬ হাজার ৩৪৯ কোটি ৬৫ লাখ টাকা প্রয়োজন। এই অর্থসহ ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করতে মোট ৬ হাজার ৮৯২ কোটি টাকা বরাদ্দ দরকার।

সৌদি অর্থায়নে ৫৬০টি ‘মডেল মসজিদ’ তৈরির যে পরিকল্পনা ছিল, সেখানে দেশটির অনীহার কারণে এখন বাংলাদেশ সরকার নিজস্ব অর্থায়নে এটি বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে। দেশের ইতিহাসে ধর্মীয় খাতে এটিই সবচেয়ে বড় প্রকল্প। প্রকল্পটি ২০২০ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। তবে এ প্রকল্পে অর্থায়নে এখনও অস্বীকৃতি জানায়নি সৌদি আরব। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ রাখা হয় ৩৬৯ কোটি টাকা।

সম্প্রতি প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে মন্ত্রণালয়ে বৈঠক হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মসজিদগুলো নির্মাণে ৫২১টি স্থান চূড়ান্ত করে প্রশাসনিক নির্দেশ জারি করা হয়েছে। ৪১৯টি কেন্দ্রের ডিজিটাল সার্ভে করা ছাড়াও সেখানকার মাটি পরীক্ষার কাজও সম্পন্ন করা হয়েছে। এপিপি সম্পন্ন হয়েছে ৩৬৬টি। নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে ১০টি স্থানে। একই সঙ্গে নির্মাণ কাজ শুরুর জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে ২১১টির এবং এনওএ ইস্যু করা হয়েছে ১০৭টির।

তবে ঢাকার বকশীবাজারে মসজিদ নির্মাণের স্থান নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সেখানে জমির ব্যাপারে অনাপত্তি দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ, কারা অধিদফতর, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং সরকারি মাদ্রাসা-ই আলিয়া।তাই প্রকল্প পরিচালককে কারা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় এমপি এবং সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাকের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সুরাহা করে মডেল মসজিদ নির্মাণ করতে বলা হয়েছে।

অর্থ বরাদ্দ চেয়ে পাঠানো ডিও লেটারে জেলা সদরে ৬৪টি, সিটি কর্পোরেশনে ৫টি ও উপকূলীয় এলাকায় ১৬টিসহ মোট ৮৫টি চারতলা মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। ৪৭৫টি উপজেলায় নির্মাণ করা হবে ৩ তলার মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।

চিঠিতে বলা হয়েছে, মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজন ৬ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা। কিন্তু অর্থ বিভাগ আগামী বাজেটে উন্নয়ন খাতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের জন্য সিলিং নির্ধারণ করেছে মাত্র ৯৮৩ কোটি টাকা। অথচ এ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০১৯-২০ অর্থবছরে নতুন ৯টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়ে গেছে। মডেল মসজিদ নিয়ে অনুমোদিত সব প্রকল্প বাস্তবায়ন দরকার ৬ হাজার ৮৯২ কোটি টাকা। ফলে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বার্থে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।

ডিও লেটারে আরও বলা হয়েছে, ব্যয়ের অন্যান্য খাতের মধ্যে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা ব্যয় ৩৮০ কোটি টাকা, ইসলামিক পুস্তক প্রকাশনা কার্যক্রমে ব্যয় ৩ কোটি ২২ লাখ টাকা, গোপালগঞ্জ ইসলামিক ফাউন্ডেশন কমপ্লেক্স স্থাপনে ব্যয় ১৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা, মসজিদ পাঠাগার সম্প্রসারণ ও শক্তিশালী প্রকল্পে ব্যয় ১০ কোটি টাকা, মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যয় ৬২ কোটি টাকা, প্যাগোডাভিত্তিক প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা প্রকল্পে ব্যয় ৩ কোটি ৩১ লাখ টাকা এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সচেতনতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পে ব্যয় ২৪ কোটি টাকা। অন্যান্য খাতে ব্যয় হবে আরও প্রায় ৪৩ কোটি টাকা।