সব সূচকে এগিয়েছে প্রাইম ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

রাজনৈতিক অস্থিরতা, অনিশ্চয়তায় বেশ কয়েক বছর ধরে বেসরকারি ব্যাংক প্রাইমের আর্থিক অবস্থা আশানুরূপ হয়নি। তবে সদ্য সমাপ্ত বছরে বিনিয়োগে স্থবিরতার মধ্যেও এগিয়ে গেছে বেসরকারি খাতের অন্যতম ব্যাংকটি।

 

এই বছরে বেড়েছে ঋণ আদায়, আমানত, ঋণের সুদ থেকে আয়ও ছিল ঊর্ধ্বমুখী। বেড়েছে সম্পদ। ব্রোকারেজ কমিশন, প্রবাসী আয় থেকে কমিশন, আমদানি-রপ্তানি থেকে কমিশন বৃদ্ধির প্রবণতাও দেখা গেছে। এসব কারণে ব্যাংকটির পরিচালন মুনাফা বেড়েছে। সঞ্চিতি ও কর পরিশোধের পরও ব্যাংকটির চূড়ান্ত মুনাফা ২০১৭ সালের তুলনায় ২০১৮ সালে প্রায় ১১৩ কোটি টাকা বেশি হয়েছে।

জানাতে চাইলে প্রাইম ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চিফ ফিনান্সিয়াল অফিসার-সিএফও হাবিবুর রহমান চৌধুরী ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘প্রাইম ব্যাংক প্রযুক্তি এবং দক্ষ মানব সম্পদের দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ব্যালেন্স শিটে উৎকর্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে শেয়ারহেল্ডারদের ধারাবাহিক মুনাফা প্রত্যাশা পূরণ করতে চায়। আমরা স্বল্পমেয়াদি মুনাফার দিকে বেশি গুরুত্ব না দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি মুনাফায়প্রত্যাশী। এজন্য ঋণের পরিমাণের দিকে গুরুত্ব না দিয়ে গুণগতমানকে প্রাধান্য দিচ্ছি।’

২০১৪ সালে ব্যাংকটির মোট সম্পদ ছিল ২৬ হাজার ৯২১ কোটি ৮০ লাখ টাকা, ২০১৫ সালে কিছুটা কমে মোট সম্পদ দাঁড়ায় ২৬ হাজার ৭৩২ কোটি ২০ লাখ টাকা।

২০১৬ সালে আবার তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৭ হাজার ২২২ কোটি ৪০ লাখ টাকা। পরের বছর তা আরো বেড়ে হয় ২৮ হাজার ১২৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। গত বছর শেষে এটি দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ৩৯০ কোটি ১০ লাখ টাকা।

২০১৪ সালে ব্যাংকটির ঋণ ছিল ১৪ হাজার ৭৩৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা, পরের বছর তা হয় ১৫ হাজার ১৮৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা। পরের দুই বছর তা আরও বেড়ে হয় যথাক্রমে ১৭ হাজার ২১ কোটি ২০ লাখ এবং ১৯ হাজার ৮৩২ কোটি ৩০ লাখ টাকা। ২০১৮ সাল শেষে এই পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৫৮১ কোটি টাকা।

গত কয়েক বছর ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অনিশ্চয়তার কারণে ব্যাংকটির মোট আমানতের পরিমাণ কিছুটা কমেছে। বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৪ সাল শেষে ব্যাংকের মোট আমানত ছিল ২০ হাজার ৪৮৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা, ২০১৫ সালে তা কমে দাঁড়ায় ১৯ হাজার ৪৮২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ২০১৬ সালে আবার বেড়ে দাঁড়ায় ১৯ হাজার ৭৯৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা। পরের বছর ১৯ হাজার ৯০১ কোটি টাকা। তবে ২০১৮ সালে আমানত কিছুটা কমে দাঁড়ায় ১৯ হাজার ৭৫১ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

তবে তহবিলের খরচসহ নানা কারণে ব্যাংকটি আয়ে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেনি, যদিও বিদায়ী বছরে ব্যাংকটি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ২০১৪ সালে ব্যাংকটির আয় ছিল ২৩৯ কোটি টাকা। পরের বছর তা কমে দাঁড়ায় ২১৩ কোটি।  ২০১৬ সালে ছিল ২১৯ কোটি টাকা। গত পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম আয় হয়েছে ২০১৭ সালে, ১০৫ কোটি টাকা। তবে ২০১৮ সালে দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে আয় হয়েছে ২১৮ কোটি টাকা।

প্রবাসী আয় আনার ক্ষেত্রেও প্রাইম ব্যাংকের অগ্রগতি প্রশংসনীয়। ২০১৪ সালে ব্যাংকটির মাধ্যমে প্রবাসীরা দেশে রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন তিন হাজার ৯৪৮ কোটি টাকা। ২০১৫ সালে এই আয় ছিল তিন হাজার ৯১৪ কোটি, ২০১৬ সালে তিন হাজার ২১১ কোটি টাকা, ২০১৭ সালে তিন হাজার ৮১২ কোটি এবং ২০১৮ সালে চার হাজার ৫৭৫ কোটি টাকা।

ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ২০১৮ সালে ছিল এক টাকা ৯৩ পয়সা, ২০১৭ সালে ৯৪ পয়সা, ২০১৬ সালে এক টাকা ৯৪ পয়সা, ২০১৫ সালে এক টাকা ৮৯ পয়সা এবং ২০১৪ সালে ছিল দুই টাকা ১১ পয়সা। 

অন্যদিকে ২০১৮ সাল শেষে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে (এনএভি) ২৩ টাকা ১২ পয়সা।

২০১৪ সালে প্রাইম ব্যাংকের মোট শাখা ছিল ১৪০টি। পরের দুই বছর শাখা বেড়েছে পাঁচটি। আর বর্তমানে ১৪৬টি শাখার মাধ্যমে চলছে কার্যক্রম।