১ কেজি সবজির দামে ৪ কেজি পেঁয়াজ

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

করলা, ঝিঙা, পটোলসহ বিভিন্ন সবজি বিক্রি হচ্ছে ৭৫ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে। অন্যদিকে এই দামেই পাওয়া যাচ্ছে চার কেজি পেঁয়াজ। পাবনার সুজানগর উপজেলার হাটবাজারে দেখা গেল এমন চিত্র।

|আরো খবর

মঙ্গলবার সুজানগর পাইকারি বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিকেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৮ থেকে ২০ টাকা দরে। অন্যদিকে পাটোল, ঝিঙা, করলা, বরবটিসহ অধিকাংশ সবজি বিক্রি হচ্ছে ৭৫ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে।

উপজেলা সদরের কুড়িপাড়া গ্রামের পেঁয়াজচাষি আফতাব আলী জানান, তিনি পাঁচ বিঘা পরিমাণ জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করেছিলেন। এতে খরচ হয়েছে প্রায় দেড় লাখ টাকা। জমি থেকে পেঁয়াজ পেয়েছেন প্রায় আড়াই শ মণ, বর্তমান বাজারে যার দাম ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। পরিবহন ও নিজের শ্রম বাদ দিলে কিছুই লাভ থাকছে না।

মানিকহাট গ্রামের বাসিন্দা আবদুল মান্নান জানান, সবজি, মাছ, মাংসসহ বাজারে প্রতিটি পণ্যের দামই ঊর্ধ্বমুখী। জীবন চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।

উপজেলা সদরের বাসিন্দা রিপন হোসেন বলেন, কোনো কিছুতেই যেন ব্যালেন্স থাকছে না। বাজারদর, আয়ের সঙ্গে ব্যয়, ব্যয়ের সঙ্গে আয় সবই এখন গরমিল।

সুজানগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মইনুল হক বলেন, উৎপাদন খরচের কারণে বাজারে সবজির দাম একটু বেশি রয়েছে। এ ক্ষেত্রে কৃষককে এক ফসলে আটকে না থেকে একাধিক ফসল আবাদ করতে হবে। এতে একটায় ক্ষতি হলে অন্যটায় লাভ মিলবে। অন্যদিকে বেশি আবাদ হলে দামেই স্থিতিশীলতা থাকবে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও স্থানীয় কৃষকরা জানায়, পাবনার ৯ উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ উৎপাদন হয় সুজানগরে। গত মৌসুমে উপজেলাটিতে পেঁয়াজ আবাদ হয়েছিল ১৮ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে। পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে ২ লাখ ৩৫ হাজার মেট্রিক টন। তবে মৌসুমের শুরু থেকে বাজারে পেঁয়াজের দাম কম থাকায় অধিকাংশ কৃষক পেঁয়াজ বিক্রি না করে বেশি দামের আশায় মজুত রেখেছিলেন। কিন্তু বাজারে এখনো পেঁয়াজের দাম বাড়েনি। অন্যদিকে রোজা শুরুর আগে থেকেই বাজারে পটোল, ঝিঙা, করলাসহ প্রতিটি সবজির দাম বেড়ে গেছে।