চলতি মাসেই তিনটি তাপপ্রবাহ, হতে পারে ঘূর্ণিঝড়

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

 চলতি মাসে বাংলাদেশের ওপর দিয়ে একটি তীব্র ও দু’টি মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া ও জলবায়ুবিদরা। সাথে রয়েছে কালবৈশাখী, শিলাবৃষ্টি ও ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনাও। দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একটি তীব্র তাপপ্রবাহ (৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) ও অন্য অঞ্চলগুলোতে মৃদু (৩৬-৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) কিংবা মাঝারি (৩৮-৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। পূর্বাভাস বলছে, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, কুতুবদিয়া, রাজশাহী, পাবনা ও দিনাজপুর অঞ্চলসহ খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে যে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, গতকালও তা অব্যাহত ছিলো। এ তাপপ্রবাহ পাশের অঞ্চলগুলোতেও বিস্তার লাভ করার সম্ভাবনা রয়েছে। সারাদেশেই দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বেড়ে যাবে। এদিন সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে। হতে পারে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি। এছাড়া দেশের অন্য অংশে আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকবে।
বুধবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় যশোরে ৩৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিলো ঢাকায়, ৩৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, মে মাসে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এখন যে তাপমাত্রা বয়ে যাচ্ছে তা গ্রীষ্মকালের স্বাভাবিক তাপমাত্রা। তবে এই মাসেই বঙ্গোপসাগরে দুইটি নিম্নচাপ সৃষ্টি হতে পারে। যার মধ্যে একটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। দেশের উত্তর থেকে মধ্যাঞ্চল পর্যন্ত দুই-তিন দিন মাঝারি থেকে তীব্র বজ্রঝড় (কালবৈশাখী) ও দেশের অংশে তিন-চার দিন হালকা থেকে মাঝারি বজ্রঝড় (কালবৈশাখী) হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে।
এপ্রিল মাসে সারাদেশে স্বাভাবিকের চেয়ে ২০ দশমিক ৫ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। তবে রংপুর ও বরিশাল বিভাগে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে। পশ্চিমা লঘুচাপের সঙ্গে পূবালী বায়ু প্রবাহের সংযোগ এবং বায়ুম-লের নিম্নস্তরে জলীয় বাষ্পের যোগান বেড়ে যাওয়ায় এপ্রিল মাসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যায়। কোথাও কোথাও ছিল বজ্রসহ বৃষ্টি, ভারি বৃষ্টি ও শিলা বৃষ্টি হয়েছে। ২৯ এপ্রিল রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারে এপ্রিল মাসে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়।