মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলতে মঙ্গলবার মন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠক

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

মালয়েশিয়ার বন্ধ শ্রমবাজার সচল করতে দেশটিতে সফর করছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমদ। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম সরকারের কোনো উচ্চপদস্থ ব্যক্তি মালয়েশিয়া সফরে গেলেন। জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বায়রা মনে করে, গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে বন্ধ শ্রমবাজারটি খুলতে আরও আগেই সরকারের কোনো পদস্থ ব্যক্তির মালয়েশিয়া সফরে যাওয়া প্রয়োজন ছিল। তবে দেরিতে হলেও প্রতিমন্ত্রীর এই সফর জনশক্তি রপ্তানিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। 

আগামীকাল প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমেদ মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী কুলাসেগারনের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বৈঠকে জনশক্তি রপ্তানিসহ দেশটিতে বসবাসকারী প্রবাসী বাংলাদেশিদের নানা সমস্যা নিয়ে আলোচনা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। 

গত শনিবার প্রতিমন্ত্রী সিঙ্গাপুর থেকে মালয়েশিয়ায় পৌঁছান। সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে তার স্ত্রী নাসরিন আহমদ চিকিৎসাধীন আছেন। প্রতিমন্ত্রী সেখানেই ছিলেন। 
প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৭ মে পর্যন্ত প্রতিমন্ত্রী মালয়েশিয়াতে থাকবেন। আজ তিনি মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশন পরিদর্শন এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। 

এর আগে গতকাল মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি কর্মীদের সঙ্গে মালাক্কায় মতবিনিময় করেন প্রতিমন্ত্রী। এ সময় শ্রমিকরা তাদের দুঃখ-দুর্দশার খবর মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। 
এদিকে আগামী ১৫ মে তিনি সারাওয়াক প্রদেশে সফর করবেন। পরদিন তিনি প্রদেশটির গভর্নরের সঙ্গে দেখা করবেন।

এর আগে গত শনিবার কুয়ালালামপুরের একটি হোটেলে বাংলাদেশি কমিউনিটি নেতাদের আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে অংশ নেন প্রতিমন্ত্রী। মালয়েশিয়াকে বন্ধুপ্রতিম দেশ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি ইফতারপূর্ব আলোচনা সভায় বলেন, প্রবাসীদের কল্যাণে সরকারের পাশাপাশি কমিউনিটিকে এগিয়ে আসতে হবে। 
মন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠকে যোগ দিতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন এবং উপসচিব আবুল হোসেন প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে মালয়েশিয়াতে আছেন। 

দেশের ১০টি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো হতো। এই প্রক্রিয়ায় নানামুখী অনিয়মের অভিযোগে মালয়েশিয়া সরকার নিয়োগ বন্ধ করে দেয়। পরে কর্মী নিয়োগের নতুন কোনো পদ্ধতির বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেয়নি দেশটি। 

দেশের জনশক্তি রপ্তানির ৮০ শতাংশ যায় মধ্যপ্রাচ্যে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মালয়েশিয়া বাংলাদেশের জন্য অন্যতম বড় শ্রমবাজার। কিন্তু সৌদিতে বেকারত্বের হার বৃদ্ধি, আরব আমিরাতে সীমাবদ্ধতা, মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানিতে অনিয়মসহ নানা কারণে জনশক্তি রপ্তানি কমে এসেছে। 

বিএমইটি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে বৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে ৭ লাখ ৩৪ হাজার ১৮১ জন কর্মী কাজ নিয়ে বিশে^র বিভিন্ন দেশে গিয়েছেন। আগের বছর এটি ছিল ১০ লাখ ৮ হাজার ৫২৫ জন। গত বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) জনশক্তি রপ্তানি হয়েছিল ২ লাখ ৪ হাজার ২০১ জন। এ বছর তা কমে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৯৯ জনে। 
এদিকে অনিয়মের কারণে বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত গত বছর মালয়েশিয়াতে জনশক্তি রপ্তানি হয়েছে ১ লাখ ৭৫ হাজার ৯২৭ জন। গত সেপ্টেম্বরের পর থেকে নতুন করে আর ভিসা দেয়নি মালয়েশিয়া। গত বছরের প্রথম প্রান্তিকে রপ্তানি হয়েছে ৩৮ হাজার ৮৬৫ জন। আর এ বছর ওই সময়ে গেছে ৫০ জনের কম।