মালয়েশিয়ায় শ্রম বাজার উন্মুক্ত হচ্ছে শিগগির

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

বাংলাদেশের প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমদের সঙ্গে মঙ্গলবার মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন ইয়াসিন ও মানবসম্পদ মন্ত্রী কুলাসেগারেনের বৈঠক হয়েছে। স্থানীয় সময় দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত দেশটির প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রজায়ায় বৈঠক হয়।

বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা বলেছেন, বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে। শিগগিরই মালয়েশিয়ার শ্রম বাজার বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য খুলে দেয়াসহ সেখানে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের ব্যাপারে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসতে পারে। আগামী ৩০ মে ফের দুই দেশের ওয়ার্কিং কমিটির মধ্যে বৈঠক হবে। সেখানেই বিস্তারিত ফলাফল বেরিয়ে আসতে পারে।

মালয়েশিয়ায় ১০ লাখের বেশি বাংলাদেশি শ্রমিক কাজ করছে। গেল দেড় বছরে আসে প্রায় দুই লাখ কর্মী। জি-টু-জি প্লাস পদ্ধতিতে এই কর্মী এলেও ১ সেপ্টেম্বর বন্ধ হয়ে যায় এর অনলাইন সিস্টেম-এসপিপিএ। বৈঠকে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শহীদুল ইসলাম, প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহিনসহ অন্যরা। মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সঙ্গে রয়েছে আমাদের সম্প্রীতির সম্পর্ক। দেশটির জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্তসহ দেশটিতে বসবাসরত অবৈধ শ্রমিকদের বিষয়ে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। বৈঠকে অংশ নেয়া মালয়েশিয়ার একজন মন্ত্রী বলেছেন, অবৈধদের বৈধ করে নেয়া এবং যারা দেশে যেতে চায় তাদের নামমাত্র ‘ফি’ দিয়ে দেশে যাওয়ার বিষয়েও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।

বাংলাদেশ দূতাবাসের এক কর্মকর্তা এ প্রতিবেদককে বলেন, মালয়েশিয়া সরকার এখন বাংলাদেশসহ সোর্স কান্ট্রি হিসেবে ১৫টি দেশ থেকে ইউনিফাইড সিস্টেমে শ্রমিক নিতে আগ্রহী। অল্প অভিবাসন ব্যয় এবং সরকারের তালিকাভুক্ত সব রিক্রুটিং এজেন্সি যাতে সমানভাবে ব্যবসা করতে পারে সেদিকটিও আলোচনায় এসেছে। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) বলছে, গত সেপ্টেম্বর থেকে নতুন করে বাংলাদেশি কর্মীকে ভিসা দেয়নি মালয়েশিয়া।

আগের ভিসা পাওয়া কর্মীরা সেপ্টেম্বরের পরও মালয়েশিয়ায় এসেছেন। গত বছর মালয়েশিয়ায় আসেন প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার ৯২৭ কর্মী। গত বছরের প্রথম তিন মাসে কর্মী যান ৩৮ হাজার ৮৬৫ জন। তবে এ বছরের প্রথম তিন মাসে মালয়েশিয়া আসেন মাত্র ৫৫ জন।