রফতানি কোটা পূরণে পিছিয়ে ভারতীয় চিনিকলগুলো

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

চিনির বাড়তি উৎপাদন ও বিপুল পরিমাণ মজুদ নিয়ে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে ভারতের চিনিকলগুলো। এ পরিস্থিতিতে রফতানি বাড়িয়ে চিনির বড় ধরনের দরপতন রোধের চেষ্টা করা হচ্ছে। তাতেও খুব একটা সফল হতে পারছে না ভারতীয় চিনিকলগুলো। ২০১৮-১৯ মৌসুমে এখন পর্যন্ত সাকল্যে ২৮ লাখ টন চিনি রফতানি করেছে ভারত। এটি চলতি মৌসুমের জন্য নির্ধারিত মিনিমাম ইন্ডিকেটিভ এক্সপোর্ট কোটার (এমআইইকিউ) মাত্র ৫৬ শতাংশ। খবর বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।

২০১৮ সালের ১ অক্টোবর থেকে ভারতে চিনির ২০১৮-১৯ বিপণন মৌসুম শুরু হয়েছে। চলবে চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। মৌসুমের প্রায় সাড়ে ছয় মাস পেরিয়ে গেছে। অল ইন্ডিয়া সুগার ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসটিএ) চেয়ারম্যান প্রফুল বিথালিনি জানিয়েছেন, ‘ভারতের চিনিকলগুলো ৩০ লাখ টন চিনি রফতানির চুক্তি করেছিল, এর মধ্যে ২৮ লাখ টন নির্দিষ্ট গন্তব্যে পাঠানো হয়েছে। আরো পাঁচ লাখ টন চিনি চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যেই রফতানি করা হবে। ফলে চলতি বছরের জন্য নির্ধারিত রফতানি কোটার মাত্র এক-তৃতীয়াংশ ঘাটতি থেকে যাবে।’

চলতি মৌসুমের শুরুতেই প্রতিটি চিনিকলের জন্য রফতানি কোটা নির্ধারণ করে দেয় ভারত সরকার। পণ্যটির রফতানি বাড়াতে এ সময় চিনিকলগুলোর জন্য প্রণোদনাও দেয়া হয়। এখন পর্যন্ত বেশির ভাগ চিনিকল এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি।

ইন্ডিয়ান সুগার মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (আইএসএমএ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবিনাশ ভার্মা বলেন, ‘বিভিন্ন বাজার সূত্রের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের এখন পর্যন্ত ৩০ লাখ টন চিনি রফতানির চুক্তি করেছে ভারতীয় চিনিকলগুলো। তবে বাস্তবে রফতানি লক্ষ্য পূরণে চিনিকলগুলো পিছিয়ে রয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত এ-সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ তথ্য সমন্বয় করা হয়নি।’

চিনি রফতানি কোটা পূরণে ব্যর্থ হওয়ার পেছনে বেশকিছু কারণ রয়েছে। প্রথমেই বলা যায়, চলতি মৌসুমের শুরুতেই রফতানি কোটা পূরণ রীতিমতো উচ্চাভিলাষী মনে হয়েছিল। কারণ বৈশ্বিক বাজারে চিনি উদ্বৃত্ত থেকে যাওয়ায় আরো কী পরিমাণ রফতানি প্রয়োজন হবে—এ বিষয়টি ঠিক অনুমান করা সম্ভব হচ্ছিল না। এছাড়া মৌসুমজুড়েই আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির দাম পড়তির দিকে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতি ভারত থেকে চিনি রফতানি নিরুৎসাহিত করতে পারে।

দ্বিতীয় কারণ হিসেবে বলা যায়, ভারতীয় চিনিকলগুলো প্রাথমিকভাবে পরিশোধিত চিনি উৎপাদনে গুরুত্ব দিয়ে থাকে। ফলে দেখা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে যখন অপরিশোধিত চিনির চাহিদা বেশি ছিল, তখন ভারতে মাত্র আখ মাড়াইয়ের মৌসুম (অক্টোবর-এপ্রিল) শুরু হয়েছে। এ সময় ভারতীয় চিনিকলগুলোর কাছে নতুন মৌসুমের অপরিশোধিত চিনির মজুদ কম ছিল। ফলে ভারত থেকে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে চিনি রফতানি করা সম্ভব হয়নি।

ভারতের ন্যাশনাল ফেডারেশন অব কো-অপারেটিভ সুগার ফ্যাক্টোরিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকাশ নায়কনাভের বলেন, ‘ভারতের সুগারমিলগুলোকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। এক শ্রেণীর মিল মালিকরা নিজস্ব কোটা পূরণ করে ফেলার পর অতিরিক্ত কোটা চাইছে। কিছু চিনিকল রফতানি কোটার আংশিক পূরণ করেছে এবং বাদবাকি চিনিকলগুলো মোটেও কোনো রফতানি করেনি।’

তিনি জানান, সরকার আগামী সেপ্টেম্বরে এ চিনিকল মালিকদের সঙ্গে বসতে যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, যেসব চিনিকল কোটা অনুযায়ী রফতানিতে পিছিয়ে রয়েছে, তারা আর প্রণোদনা পাবে না।’

রফতানি কোটা পূরণে ব্যর্থ হলেও ভারতের চিনিকলগুলোর উৎপাদন কিন্তু বাড়ছে। চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত ভারতে মোট ৩ কোটি ২১ লাখ ২০ হাজার টন চিনি উৎপাদন হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯ লাখ ৪০ হাজার টন বেশি। এছাড়া ভারতীয় চিনিকলগুলোয় এখনো মাড়াইয়ের কাজ চলছে। ফলে চলতি মৌসুমের শেষ নাগাদ চিনি উৎপাদনের পরিমাণ আরো বেড়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।