সেরা তিনে নর্থ সাউথ, ব্র্যাক ইস্ট ওয়েস্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর দ্বিতীয়বারের মতো গবেষণা চালিয়েছে অনলাইন পত্রিকা বাংলা ট্রিবিউন ও ইংরেজি ট্যাবলয়েড ঢাকা ট্রিবিউন।

এর প্রতিবেদন মতে, দেশের সেরা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে আছে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ও ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি। এই গবেষণায় মোট ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাংকিং তৈরি করা হয়।

এক সংবাদ সম্মেলনে শনিবার এ র‌্যাংকিং প্রকাশ করা হয়েছে। এটিকে সংশ্লিষ্টরা ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাংকিং-২০১৯’ বলছেন। এর আগে ২০১৭ সালেও এই দুই প্রতিষ্ঠান র‌্যাংকিং প্রকাশ করেছিল। উভয় গবেষণা পরিচালনা করেছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ওআরজি-কোয়েস্ট রিসার্চ লিমিটেড। সংবাদ সম্মেলনে গবেষণা ফল বা র‌্যাংকিং প্রকাশ করেন ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক জাফর সোবহান। এ সময় বাংলা ট্রিবিউনের সম্পাদক জুলফিকার রাসেল এবং ওআরজি কোয়েস্টের চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর মনজুরুল হক বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এ সময় সেখানে ছিলেন।

 

র‌্যাংকিং প্রকাশকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, ইউনিভার্সিটিগুলোর নিজেদের বর্তমান অবস্থান ও তা থেকে উন্নয়নে কী কী পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে সে সম্পর্কে জানাতে চাই এই র‌্যাংকিং করেছেন তারা। উচ্চশিক্ষার সামগ্রিক উন্নয়নে এই র‌্যাংকিং অবদান রাখবে, যা পুরো দেশের জন্য মঙ্গলজনক হবে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা সিদ্ধান্ত নিতে পারবে, কোনো ইউনিভার্সিটি তাদের জন্য ভালো হবে।

অন্য ১৭টি বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে- চতুর্থ স্থানে ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, পঞ্চম আহসানউল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, ষষ্ঠ আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, সপ্তম ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, অষ্টম ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, নবম ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ ও দশম দ্য ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক। এ ছাড়া আছে (১১-২০), ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি চট্টগ্রাম, সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি, স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি, ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি, নর্দান ইউনিভার্সিটি, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি, ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অলটারনেটিভ, গ্রিন ইউনিভার্সিটি ও মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

দেশে বর্তমানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আছে ১০১টি। এগুলোর মধ্যে মাত্র ৩৬টি বিশ্ববিদ্যালয় উদ্যোক্তাদের চোখে গবেষণাভুক্ত হওয়ার শর্তাবলি পূরণ করেছে। বাকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে কিছু বিশ্ববিদ্যালয় সরকারের কালো তালিকায়; কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনও কোনো সমাবর্তন হয়নি, কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র একটি বা বিশেষায়িত বিষয় পড়ানো হয় এবং কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা খুবই অল্প।

যে ৬৫টি বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণার আওতাভুক্ত করা হয়নি, সেগুলোর মধ্যে ৪১টিতে এখনও কোনো সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়নি। ১২টিতে ছাত্রভর্তি-প্রক্রিয়ায় ইউজিসির নিষেধাজ্ঞা আছে। ৮টিতে এখনও শিক্ষা-কার্যক্রম শুরু হয়নি। তিনটি বিশেষায়িত ইউনিভার্সিটি হিসেবে পরিচিত। আরেকটির শিক্ষার্থী সংখ্যা এক হাজারের নিচে।

 

গবেষণায় দুই সূচকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নম্বর দেয়া হয়। তা হচ্ছে, পারসেপচুয়াল (ধারণাগত) ও ফ্যাকচুয়াল (তথ্যগত)। প্রথম অংশে ৬০ এবং দ্বিতীয় অংশে ৪০ নির্ধারিত ছিল। নির্ভুল তথ্য প্রাপ্তির ঘাটতির কারণে ফ্যাকচুয়াল দিকে কম জোর দিয়ে ধারণাগত দিকে বেশি জোর দেয়া হয়েছে। ফ্যাকচুয়াল স্কোর নির্ণয়ে বিবেচ্য হয়েছে শিক্ষার্থী সংখ্যা, শিক্ষক, পিএইচডি ডিগ্রিধারীদের সংখ্যা, গবেষণায় খরচ ইত্যাদি। এই তথ্যগুলো নেয়া হয়েছে সরাসরি ইউনিভার্সিটিগুলোর কাছ থেকে। যেসব ইউনিভার্সিটি তথ্য সরবরাহ করেনি, কেবল সেসব ইউনিভার্সিটির ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ২০১৭ সালের প্রতিবেদন থেকে নেয়া হয়েছে।

গবেষণায় ফ্যাকচুয়াল ও পারসেপচুয়াল দিক বিবেচনা আলাদা স্কোরিং ও র‌্যাংকিংও করা হয়েছে। ‘ফ্যাকচুয়াল স্কোর’ তৈরির ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থী, লাইব্রেরিতে বই, গবেষণায় ব্যয়, পিএইচডি ডিগ্রিধারী, ক্যাম্পাসের আয়তন, শিক্ষার্থী-শিক্ষক অনুপাত, পূর্ণকালীন শিক্ষকের হার, গবেষণাপত্রের সংখ্যা বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। আর পারসেপচুয়াল স্কোরিং তৈরির ক্ষেত্রে অ্যাকাডেমিক ও চাকরিদাতাদের কাছ থেকে তথ্য নেয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষকদের ধারণা জরিপ করা হয়। এই জরিপে অংশ নেন ইউনিভার্সিটির ডিন, বিভাগীয় প্রধান, রেজিস্ট্রার ও সিনিয়র শিক্ষকরা। তাদের কাছ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা ও কাজের পরিবেশ, সার্বিক সুখ্যাতি, শিক্ষকদের দক্ষতা, অবকাঠামো, পাস করা গ্রাজুয়েটের মান সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। আর চাকরিদাতাদের ধারণা জরিপে শিক্ষাদানে ইউনিভার্সিটির খ্যাতি, চাকরি ক্ষেত্রে পাস ব্যক্তিদের পারফরম্যান্স, উত্তীর্ণদের উদ্যোগ নেয়ার ক্ষমতা, যোগাযোগ ক্ষমতা, টিমওয়ার্ক ক্ষমতা, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা বিবেচনা করা হয়।

এই গবেষণা ও র‌্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে একটি উপদেষ্টা কমিটির তত্ত্বাবধানে। কমিটির সদস্যরা হলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. আহমেদ আবদুল্লাহ জামাল, ইন্সটিটিউট অব স্ট্যাটিসটিক্যাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিংয়ের অধ্যাপক ড. আজমেরি খান, ওআরজি কোয়েস্টের চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর মনজুরুল হক, বাংলা ট্রিবিউনের সম্পাদক জুলফিকার রাসেল, ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক জাফর সোবহান, প্রথম আলোর হেড অব রিপোর্টার শরিফুজ্জামান পিন্টু, ইন্সটিটিউট অব ইনফরমেটিক্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের প্রধান নির্বাহী সাঈদ আহমেদ।