বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ পাবে দেশি কোম্পানি

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

দেশে কার্যরত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট পরিচালনার নীতিমালা আংশিক শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে এখন এই ইউনিট থেকে বাংলাদেশি কোম্পানিগুলো বৈদেশিক মুদ্রায় মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ নিতে পারবে। তবে এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমতি লাগবে।

 

সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে। এর আগে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে অফশোর ব্যাংকিং পরিচালনার বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা জারি করা হয়। ওই নীতিমালায় এবার সংশোধনী এনে নতুন এই বিধান জারি করা হল।

অফশোর ব্যাংকিং থেকে আগে দেশীয় কোম্পানিগুলো বৈদেশিক মুদ্রায় কোনো ঋণ পেত না। এখন থেকে তারাও ঋণ নিতে পারবে। এ ইউনিট থেকে আগে শুধু রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল, অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাইটেক পার্কের মধ্যে অবস্থিত কোম্পানিগুলো ঋণ পেত। পরে তা শিথিল করে রফতানিমুখী প্রতিষ্ঠানগুলোকেও ঋণ দেয়ার বিধান করা হয়। এখন ওই নীতিমালা আরও শিথিল করে দেশীয় সব কোম্পানিকেই ঋণ দেয়ার বিধান করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, জমির অভাবে অনেকেই রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল, অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাইটেক পার্কের মধ্যে শিল্প প্লট পাচ্ছে না। ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তারা কারখানা স্থাপন করছেন। এছাড়া বড় বড় শিল্প গ্রুপগুলো নিজেরা আলাদা শিল্পপার্ক গড়ে তুলছে। ওই সব শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোরও এখন বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণের প্রয়োজন হচ্ছে। এসব কারণে নীতিমালা শিথিল করা হয়েছে। এর ফলে কম সুদে বৈদেশিক মুদ্রায় দেশীয় কোম্পানিগুলোর ঋণ নেয়ার দুয়ার খুলে গেল।

অফশোর ব্যাংকিং হচ্ছে মূল ব্যাংকের আলাদা একটি ইউনিট। এর হিসাব-নিকাশ সম্পূর্ণ আলাদা। বছর শেষে শুধু লোকসান বা মুনাফার অংশ মূল ব্যাংকের হিসাবে যোগ হবে। এই ইউনিট বৈদেশিক মুদ্রায় তহবিল সংগ্রহ করে বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ বিতরণ করবে। তারা স্থানীয় মুদ্রায় কোনো ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না।

নীতিমালা শিথিলের ফলে এখন থেকে রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল, অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাইটেক পার্কের মধ্যে অবস্থিত কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়াই স্বল্পমেয়াদি ঋণ দেয়া যাবে। আগে এই ঋণ পেতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হতো। এই ঋণ বাংলাদেশি, বিদেশি বা বাংলাদেশ ও বিদেশি যৌথ মালিকানাধীন কোম্পানিগুলো পাবে। তবে সব ধরনের কোম্পানিকেই মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন লাগবে।

অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের আওতায় ব্যাংক গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে বিভিন্ন ধরনের ব্যাংকিং উপকরণ কেনাবেচা করা যাবে। আগে ছিল- প্রচলিত ব্যাংকিং নীতিমালা অনুযায়ী এগুলো কেনাবেচা করতে হবে। দেশি ও বিদেশি গ্রাহকদের সঙ্গে ব্যাংক গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে বৈদেশিক বিভিন্ন ধরনের বিল কেনাবেচা করতে পারবে। এর বিপরীতে বিভিন্ন সার্ভিস চার্জ ও কমিশনও নেয়া যাবে।

দেশীয় ব্যাংকিং কার্যক্রমে ‘নস্ট্রো অ্যাকাউন্টে (দেশি ব্যাংকগুলোর বিদেশের বিভিন্ন ব্যাংকে থাকা অ্যাকাউন্ট)’ লেনদেনের বিষয়টি তুলে দেয়া হয়েছে। ব্যাংকের ‘নস্ট্রো অ্যাকাউন্টে’ লেনদেনের হিসাব আলাদা করতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ অফশোর ও অনশোর (স্থানীয় ব্যাংকিং) ব্যাংকিংয়ের জন্য সম্পাদিত লেনদেন আলাদাভাবে হিসাব বহিতে রেকর্ড রাখতে হবে। অফশোর ব্যাংকিং পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিটে চলতি, মেয়াদি ও সঞ্চয়ী হিসাবসহ সব ধরনের হিসাব খোলা যাবে। ব্যাংক গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে এসব হিসাব পরিচালিত হবে।

অফশোর ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সংগ্রহ করা তহবিল মুক্ত শর্তহীনভাবে অনশোর ব্যাংকিংয়ে স্তানান্তর করা যাবে না। একই সঙ্গে এক ব্যাংকের অফশোর ব্যাংকিং হতে অন্য ব্যাংকের অফশোর ব্যাংকিং কার্যক্রমে তহবিল স্থানান্তর করা যাবে না।