দুর্ঘটনার কবলে কুবি শিক্ষক বাস, আহত ৬

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

ঢাকা চট্টগ্রাম-মহাসড়কে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষকদের পরিবহনকারী বাস। এসময় বাসে থাকা শিক্ষক, কর্মকর্তা ও বাসটির হেলপারসহ কমপক্ষে ছয়জন আহত হয়েছেন। তবে আহতরা আশঙ্কামুক্ত থাকায় প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. শাহিদা আক্তার শিমু।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মহাসড়কের পদুয়ার বাজার উড়াল সড়ক থেকে নামার সময় কিসমত রোডের সংযোগ অংশে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসটির সামনে ফাইবার এট হোম নামক ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার কোম্পানির একটি পিক আপ হঠাৎ থেমে যায়। এ সময় পেছনে থাকা শিক্ষকদের চলন্ত বাসটি তাৎক্ষণিক ব্রেক কষলেও সংঘর্ষ এড়াতে ব্যর্থ হয়। ফলে বাসে থাকা বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকসহ ছয়জন আহত এবং বাসটির সামনে থাকা বাম্পার বাঁকা হয়ে মূল বাসটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

শিক্ষক বাসটির ড্রাইভার মোহাম্মদ আব্দুল মালেক ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, সামনে থাকা পিকআপটা কিসমত রোডের কাছে এসে প্রথমে ডান দিকে সাইড নেয়। আমি যখন বাম দিক দিয়ে বের হতে যাব তখনই পিকআপটা বাঁ দিকে হঠাৎ বাঁ পাশের রাস্তায় ঢুকতে গিয়ে থেমে যায়। আমিও দ্রুত ব্রেক কষে বাস থামানোর চেষ্টা করি, কিন্তু ওই সময় সামনের পিকআপ রাস্তার প্রায় মাঝে থেমে যাওয়ায় ধাক্কা লেগে যায়।

অপরদিকে অভিযুক্ত পিকআপের ড্রাইভার তার দোষ স্বীকার করে জানান, গাড়িতে থাকা ফাইবার এট হোমের টেকনিশিয়ানরা রাস্তার দিকনির্দেশনা দিচ্ছিলেন। যেখানে দুর্ঘটনা ঘটে সেখানে আসামাত্র টেকনিশিয়ানদের একজন তাকে পিকআপটি বাঁ পাশের রাস্তায় ঢুকাতে বলেন। আগে থেকে না বলায় আমি গতি কমিয়ে সাইড নিতে পারিনি।

পিকআপ ড্রাইভার আরও জানান, তিনি কিছুটা বিভ্রান্ত হয়ে গাড়িটি বাঁ পাশের সংযোগ সড়কে নিতে গিয়েও শেষ পর্যন্ত গাড়িটি বিশ্বরোডের মূল অংশেই থামিয়ে ফেলেন। এমন পরিস্থিতিতে বাম পাশের রাস্তায় তৎক্ষণাৎ ঢুকাতে গেলে,  বিশ্বরোডে প্রতিটি গাড়ির পেছনে অন্য গাড়িও গতিশীল থাকায়  দুর্ঘটনাটি আরও বড় হতে পারতো।

এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলের প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাহিদুল আলম বলেন, পিকআপসহ ড্রাইভার ও ফাইবার এট হোমের লোকদের ক্যাম্পাসে পরিবহন পুলের অফিসে নিয়ে আসা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে জরিমানা আদায় ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।